নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ নিজস্ব প্রতিবেদক জে রশিদ খান : সিআইডি প্রধান মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন আজ এক প্রেস ব্রফিং জানান, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ মোট ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।
গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা- বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতো। পরবর্তীতে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে তারা গত প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো এবং এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করে আসছিলমোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতেন। পরে এ অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যঃ
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি চক্রের একাধিক সদস্য স্বীকার করেছে যে, বিগত ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভিত করে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করতো। পরবর্তীতে ওই অর্থের একটি বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতো।
অনলাইন জুয়া সংক্রান্তে সিআইডির সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রমঃ
অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি-এর সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
চলতি (মে/২০২৬) মাসের ১ তারিখ হতে আজ পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিংয়ে সিআইডি কর্তৃক—
• জুয়ার সাথে জড়িত ওয়েবসাইট শনাক্ত করে ডাউন করার জন্য বিটিআরসিতে প্রেরিত ওয়েবসাইটের সংখ্যা: ১১৬টি
• অবৈধ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএফআইইউতে প্রেরিত এমএফএস হিসাবের সংখ্যা: ৮৭৯টি
• অবৈধ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিএফআইইউতে প্রেরিত ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা: ৪৩টি
অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে সিআইডির এ ধরনের সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিত পরিচারিত হচ্ছে। অপরাধের র্পূণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপঃ
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’ (MTFE) পনজি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।