ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo দৌলতপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা অর্ধশতাধিক স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ Logo ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের পর কেন ‘ব্যাখ্যা’ দিতে হলো পুলিশকে? Logo ব্যালন ডি’অরের আগমুহূর্তে কী সিদ্ধান্ত নিলেন এমবাপ্পে Logo অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে অঘটন… Logo মক্কা জোটে ইরানের যোগদান নির্ধারণ করবে নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ Logo শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে পদক লড়াই থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ Logo গুলশানে কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান: বিলবোর্ডের আড়ালে গোপন গুদাম, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ Logo ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায় তারা Logo চা–বাগানের শিশুদের স্কুলব্যাগ-খাতা-পেনসিল উপহার Logo হাল ফ্যাশনের সঙ্গে অ্যানেক্সের সমঝোতা, লক্ষ্য ব্যবসায়িক সাফল্য

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে জাপানের সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি টোকিওর একটি হোটেলে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার বা জাইকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীনসহ বাংলাদেশ সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয় এই আয়োজনে।

সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী অতীতে জাইকা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন এবং দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে এই সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাপানের অব্যাহত সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সুদৃঢ় অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে এবং জনগণের কল্যাণ সাধনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে চলমান বড় প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং নতুন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতৈক্যে পৌঁছায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাপানের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা এবং কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গত বছরের মতো প্রয়োজনীয় বাজেট সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সচিব ও বিশেষ সহকারীগণ এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। এই পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে এটি সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin 12

জনপ্রিয় সংবাদ

দৌলতপুরে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা অর্ধশতাধিক স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট এর সময় : ১১ ঘন্টা আগে

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে জাপানের সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি টোকিওর একটি হোটেলে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার বা জাইকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীনসহ বাংলাদেশ সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয় এই আয়োজনে।

সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী অতীতে জাইকা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন এবং দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে এই সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী অবদানের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাপানের অব্যাহত সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সুদৃঢ় অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে এবং জনগণের কল্যাণ সাধনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে চলমান বড় প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং নতুন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে উভয় পক্ষ মতৈক্যে পৌঁছায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাপানের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা এবং কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং একটি আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গত বছরের মতো প্রয়োজনীয় বাজেট সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টাসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সচিব ও বিশেষ সহকারীগণ এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। এই পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে এটি সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।