ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক Logo মেসিকে অভিনন্দন জানালেন ক্লোসা Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ Logo হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন নামঞ্জ Logo মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা Logo শিরোনাম: স্টিল শিল্পে অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি বিএসএমএ’র, উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ Logo শিরোনাম: শিক্ষা বাজেট নিয়ে ‘কেমন হলো শিক্ষা বাজেট: বাস্তবতা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত Logo মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী Logo ইউএইতে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

রাখাইনে ফের সংঘর্ষ, উচ্চপদস্থ অনেক সেনা কর্মকর্তার প্রাণহানি

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৮
  • ১০২ বার পঠিত হয়েছে

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন প্রদেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটির সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ বেশ কিছু কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধানের কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাখাইনের বুথিডং ও রাথেডং এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে কতজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে সেব্যাপারে ওই বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করেনি মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। তবে সেনাসদস্যরা চারজন আরাকান আর্মির সদস্যকে হত্যা এবং তাদের কাছ থেকে এম-২২ রাইফেল জব্দ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, আরাকান আর্মির সদস্যরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ঘাটিতে অতর্কিতে হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে গত ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে তারা ক্লিয়ারেন্স অপারেশন পরিচালনা করে।

সংঘর্ষের সময় আরাকান আর্মির কমপক্ষে ৮০ জন যোদ্ধা সেনাবাহিনীর ইউনিট বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করে। সংঘর্ষের সময় বিদ্রোহীরা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

দেশটির উত্তরাঞ্চলের এই প্রদেশে সেনাবাহিনীর কোন ইউনিট কাজ করে সেটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। তবে বিবৃতিতে আরাকান আর্মির সদস্যদের ‘সশস্ত্র বিদ্রোহী’ বলে দাবি করা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযোগ, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত বরাবর যে সীমান্ত বাঁধ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছে আরাকান আর্মি।

বিবৃতিতে আরাকান আর্মির হামলার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, আরাকান আর্মির এমন মনোভাবের কারণে সীমান্ত অঞ্চলে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে।

গত ৪ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি এক ঘোষণায় জানায়, উত্তর বুথিডংয়ে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ইউনিট (লাইট ইনফ্যান্ট্রি-৫৬৪) ঢুকে পড়ে। আরাকান আর্মির দাবি, সংঘর্ষের সময় মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর সাত সদস্যকে হত্যা করেছে তারা।

আরাকান আর্মি বলছে, খুব শিগগিরই তারা তাদের বিরোধীপক্ষের সেনাদের মৃতদেহ, আগ্নেয়াস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষেত্রের রেকর্ড প্রকাশ করবে।

সহিংসতাপূর্ণ রাখাইনে আরাকান আর্মির ঘাঁটিগুলো নিশ্চিহ্ন ও সেনা সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এই অঞ্চলে আরো সঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আরাকান আর্মি।

গত নভেম্বরের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আরাকান আর্মি জানায়, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের ছিন প্রদেশের পেলেতোয়া এবং রাখাইনের পাহাড়ি এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে সশস্ত্র বাহিনীর এক কমান্ডার-সহ ২০ জনেরও বেশি সেনাসদস্য নিহত হয়।

আরাকান আর্মির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা মিলিটারি লাইট ইনফ্যান্ট্রি ৩৭৩, ৫৩৯, ৫৩৫, ৩৮০, ৫৪২ ও ২৮৯ রেজিমেন্টের বিরুদ্ধে গত অক্টোবর থেকে পেলেতোয়া ও বুথিডং শহরে বেশ কয়েকেটি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক

রাখাইনে ফের সংঘর্ষ, উচ্চপদস্থ অনেক সেনা কর্মকর্তার প্রাণহানি

আপডেট এর সময় : ০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৮

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইন প্রদেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটির সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ বেশ কিছু কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধানের কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাখাইনের বুথিডং ও রাথেডং এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে কতজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে সেব্যাপারে ওই বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করেনি মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। তবে সেনাসদস্যরা চারজন আরাকান আর্মির সদস্যকে হত্যা এবং তাদের কাছ থেকে এম-২২ রাইফেল জব্দ করেছে বলে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, আরাকান আর্মির সদস্যরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ঘাটিতে অতর্কিতে হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিরোধ হিসেবে গত ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে তারা ক্লিয়ারেন্স অপারেশন পরিচালনা করে।

সংঘর্ষের সময় আরাকান আর্মির কমপক্ষে ৮০ জন যোদ্ধা সেনাবাহিনীর ইউনিট বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করে। সংঘর্ষের সময় বিদ্রোহীরা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

দেশটির উত্তরাঞ্চলের এই প্রদেশে সেনাবাহিনীর কোন ইউনিট কাজ করে সেটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। তবে বিবৃতিতে আরাকান আর্মির সদস্যদের ‘সশস্ত্র বিদ্রোহী’ বলে দাবি করা হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযোগ, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত বরাবর যে সীমান্ত বাঁধ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা নির্মাণে বাঁধা দিচ্ছে আরাকান আর্মি।

বিবৃতিতে আরাকান আর্মির হামলার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, আরাকান আর্মির এমন মনোভাবের কারণে সীমান্ত অঞ্চলে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে।

গত ৪ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি এক ঘোষণায় জানায়, উত্তর বুথিডংয়ে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ইউনিট (লাইট ইনফ্যান্ট্রি-৫৬৪) ঢুকে পড়ে। আরাকান আর্মির দাবি, সংঘর্ষের সময় মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর সাত সদস্যকে হত্যা করেছে তারা।

আরাকান আর্মি বলছে, খুব শিগগিরই তারা তাদের বিরোধীপক্ষের সেনাদের মৃতদেহ, আগ্নেয়াস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষেত্রের রেকর্ড প্রকাশ করবে।

সহিংসতাপূর্ণ রাখাইনে আরাকান আর্মির ঘাঁটিগুলো নিশ্চিহ্ন ও সেনা সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এই অঞ্চলে আরো সঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আরাকান আর্মি।

গত নভেম্বরের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আরাকান আর্মি জানায়, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের ছিন প্রদেশের পেলেতোয়া এবং রাখাইনের পাহাড়ি এলাকায় আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে সশস্ত্র বাহিনীর এক কমান্ডার-সহ ২০ জনেরও বেশি সেনাসদস্য নিহত হয়।

আরাকান আর্মির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা মিলিটারি লাইট ইনফ্যান্ট্রি ৩৭৩, ৫৩৯, ৫৩৫, ৩৮০, ৫৪২ ও ২৮৯ রেজিমেন্টের বিরুদ্ধে গত অক্টোবর থেকে পেলেতোয়া ও বুথিডং শহরে বেশ কয়েকেটি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল।