ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটে আবার ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ আঁতাত’

রাজনীতি ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তনের পর থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দলটির অনেক শীর্ষ নেতা বর্তমানে পলাতক জীবনযাপন করছেন। তা সত্ত্বেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাব-নিকাশে বারবার ঘুরেফিরে আসছে আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী একুশে জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটের বৈতরণী পার হতে কোন দল কার শরণাপন্ন হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।

নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তৃণমূল পর্যায় থেকে একক প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে যাতে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রধান দলগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে সমঝোতার গুঞ্জনও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে কে কার সঙ্গে গোপন সমঝোতা করছে, তা নিয়ে চলছে তীব্র রাজনৈতিক দড়িটানাটানি।

নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামী গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বলে সম্প্রতি জোরালো অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সুবিধা নিতে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় অংশ একজোট হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সম্প্রতি গণমাধ্যমে এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল পর্যায়ে এই ধরনের অনৈতিক জোট গঠনের আলামত ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে বিএনপির এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী এবং উল্টো প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধেই একই ধরনের আঁতাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছে। জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন যে, ভোটের মাঠে সুবিধা পাওয়ার জন্য বিএনপি নিজেই ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকেও বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যদিও এনসিপি জানিয়েছে যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িত নয় এমন আওয়ামী-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin 12

জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটে আবার ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ আঁতাত’

আপডেট এর সময় : এক ঘন্টা আগে

রাজনীতি ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিবর্তনের পর থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দলটির অনেক শীর্ষ নেতা বর্তমানে পলাতক জীবনযাপন করছেন। তা সত্ত্বেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর হিসাব-নিকাশে বারবার ঘুরেফিরে আসছে আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী একুশে জানুয়ারি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এই ভোটের বৈতরণী পার হতে কোন দল কার শরণাপন্ন হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।

নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তৃণমূল পর্যায় থেকে একক প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে যাতে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রধান দলগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে সমঝোতার গুঞ্জনও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নিজেদের পক্ষে টানতে কে কার সঙ্গে গোপন সমঝোতা করছে, তা নিয়ে চলছে তীব্র রাজনৈতিক দড়িটানাটানি।

নির্বাচনী সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামী গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বলে সম্প্রতি জোরালো অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সুবিধা নিতে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় অংশ একজোট হয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সম্প্রতি গণমাধ্যমে এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল পর্যায়ে এই ধরনের অনৈতিক জোট গঠনের আলামত ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তবে বিএনপির এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াতে ইসলামী এবং উল্টো প্রতিপক্ষ দলের বিরুদ্ধেই একই ধরনের আঁতাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছে। জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন যে, ভোটের মাঠে সুবিধা পাওয়ার জন্য বিএনপি নিজেই ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকেও বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যদিও এনসিপি জানিয়েছে যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িত নয় এমন আওয়ামী-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।