ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সিআইডি পরিচয়ে অপহরণ–চাঁদাবাজি: চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩৪ বার পঠিত হয়েছে

নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ   জে রশিদ :   সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে চাঁদা আদায় এবং হুমকির অভিযোগে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য মো. হাসানুজ্জামান (৩৫), পিতা—মো. জাকির হোসেন, স্থায়ী ঠিকানা—বাদপুকুরিয়া, থানা/জেলা—ঝিনাইদহ এবং মো. আলমগীর শিকারী (৪৬), পিতা—মৃত আবুল কাশেম শিকারী, স্থায়ী ঠিকানা—ভাগবা, থানা—কয়রা, জেলা—খুলনা—কে গত ২২ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম শাখার একটি অভিযানিক দল। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সিআইডি বা পুলিশের নাম ব্যবহার করে লোকজনকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়, মারধর এবং ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল করছিল।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা প্রথমে তাবলীগ জামাত বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রোগ্রামের সূত্র ধরে লোকজনের সাথে পরিচয় গড়ে তোলে এবং অভাবের কথা বলে টাকা নেওয়ার ফাঁদ পাতে। জামাল (ছদ্মনাম) নামক এক ভুক্তভোগী কাকরাইলস্থ তাবলীগ জামাতের মারকাজ মসজিদে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুবাদে অভিযুক্ত সামসুল হক খান (৫৬),—এর সাথে পরিচয় হয়। সামসুল প্রায়ই অভাবের কথা বলে জামালের কাছ থেকে টাকা নিত।

গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জামাল খুলনায় ব্যবসার কাজে থাকাকালীন সামসুল তার মোবাইল থেকে ফোন করে অসুস্থতার কথা বলে টাকা চায়। জামাল তাকে যাত্রাবাড়ি এলাকায় অপেক্ষা করতে বলে এবং খুলনা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় টাকা দিবে মর্মে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর রাত ১০:৩০ ঘটিকায় যাত্রাবাড়ি কাঁচা বাজার গোল চত্তরে সামসুলের সাথে দেখা করে রেস্টুরেন্টে নাস্তা করে তাকে ২,০০০ টাকা প্রদান করে।

পরবর্তীতে রাত ১১:০০ ঘটিকায় রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলে সামসুলসহ অজ্ঞাতনামা ০৭ জন জামলকে ঘিরে ফেলে। তারা সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জাল গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখিয়ে জামালকে জোর করে গাড়িতে তোলে এবং পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। এসময় জামালের সাথে তার ব্যবসায়ীক পার্টনার রেজাউল করিমও ছিলো। এর পর অপহরণকারীরা তাদেরকে ঢাকার হাসনাবাদস্থ বসুন্ধরা সিটির বি-রক, রোড নং-০৮ এর একটি ৬ তলা বাড়ির ৬ষ্ঠ তলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের নিকট হতে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা প্রদানে অস্বীকার করলে তারা জামালকে মারধর শুরু করে এতে সে ভয় পেয়ে তার সাথে থাকা নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করে মোট ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করে। অপহরণকারীরা তার ব্যবসায়ীক বন্ধু রেজাউল করিমের কাছ থেকেও ২৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অপহরণকারীরা জামালকে বিবস্ত্র করে একটি ২৫-৩০ বছরের মহিলার সাথে বসিয়ে ভিডিও ও স্থির ছবি ধারণ করে এবং ১৮টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিযে নেয় । ঘটনা ১৪ অক্টোবর ২০২৫ রাত ১১:০০ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ বিকাল ৪:০০ ঘটিকা পর্যন্ত চলে। এরপর এ ঘটনার কথা পুলিশকে জানালে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্ত এর মাত্র এক সপ্তাহ পরই অপরহরণকারীরা ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করার বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে এবং না দিলে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা নং-১৬, তারিখ ৬/১১/২০২৫, ধারা—১৪৩/৩৬৪/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড রুজু করে। মামলার তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করার পর মো. হাসানুজ্জামান (৩৫) এবং মো. আলমগীর শিকারী (৪৬)–কেগ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার জন্য সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

সিআইডি পরিচয়ে অপহরণ–চাঁদাবাজি: চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

আপডেট এর সময় : ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ   জে রশিদ :   সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে চাঁদা আদায় এবং হুমকির অভিযোগে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য মো. হাসানুজ্জামান (৩৫), পিতা—মো. জাকির হোসেন, স্থায়ী ঠিকানা—বাদপুকুরিয়া, থানা/জেলা—ঝিনাইদহ এবং মো. আলমগীর শিকারী (৪৬), পিতা—মৃত আবুল কাশেম শিকারী, স্থায়ী ঠিকানা—ভাগবা, থানা—কয়রা, জেলা—খুলনা—কে গত ২২ নভেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম শাখার একটি অভিযানিক দল। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সিআইডি বা পুলিশের নাম ব্যবহার করে লোকজনকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়, মারধর এবং ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল করছিল।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা প্রথমে তাবলীগ জামাত বা অন্যান্য ধর্মীয় প্রোগ্রামের সূত্র ধরে লোকজনের সাথে পরিচয় গড়ে তোলে এবং অভাবের কথা বলে টাকা নেওয়ার ফাঁদ পাতে। জামাল (ছদ্মনাম) নামক এক ভুক্তভোগী কাকরাইলস্থ তাবলীগ জামাতের মারকাজ মসজিদে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুবাদে অভিযুক্ত সামসুল হক খান (৫৬),—এর সাথে পরিচয় হয়। সামসুল প্রায়ই অভাবের কথা বলে জামালের কাছ থেকে টাকা নিত।

গত ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জামাল খুলনায় ব্যবসার কাজে থাকাকালীন সামসুল তার মোবাইল থেকে ফোন করে অসুস্থতার কথা বলে টাকা চায়। জামাল তাকে যাত্রাবাড়ি এলাকায় অপেক্ষা করতে বলে এবং খুলনা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় টাকা দিবে মর্মে প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর রাত ১০:৩০ ঘটিকায় যাত্রাবাড়ি কাঁচা বাজার গোল চত্তরে সামসুলের সাথে দেখা করে রেস্টুরেন্টে নাস্তা করে তাকে ২,০০০ টাকা প্রদান করে।

পরবর্তীতে রাত ১১:০০ ঘটিকায় রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলে সামসুলসহ অজ্ঞাতনামা ০৭ জন জামলকে ঘিরে ফেলে। তারা সিআইডি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জাল গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখিয়ে জামালকে জোর করে গাড়িতে তোলে এবং পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেয়। এসময় জামালের সাথে তার ব্যবসায়ীক পার্টনার রেজাউল করিমও ছিলো। এর পর অপহরণকারীরা তাদেরকে ঢাকার হাসনাবাদস্থ বসুন্ধরা সিটির বি-রক, রোড নং-০৮ এর একটি ৬ তলা বাড়ির ৬ষ্ঠ তলায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের নিকট হতে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা প্রদানে অস্বীকার করলে তারা জামালকে মারধর শুরু করে এতে সে ভয় পেয়ে তার সাথে থাকা নগদ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রান্সফার করে মোট ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করে। অপহরণকারীরা তার ব্যবসায়ীক বন্ধু রেজাউল করিমের কাছ থেকেও ২৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অপহরণকারীরা জামালকে বিবস্ত্র করে একটি ২৫-৩০ বছরের মহিলার সাথে বসিয়ে ভিডিও ও স্থির ছবি ধারণ করে এবং ১৮টি নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিযে নেয় । ঘটনা ১৪ অক্টোবর ২০২৫ রাত ১১:০০ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ বিকাল ৪:০০ ঘটিকা পর্যন্ত চলে। এরপর এ ঘটনার কথা পুলিশকে জানালে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্ত এর মাত্র এক সপ্তাহ পরই অপরহরণকারীরা ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ না করার বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে এবং না দিলে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা নং-১৬, তারিখ ৬/১১/২০২৫, ধারা—১৪৩/৩৬৪/৩৮৫/৩৮৬/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড রুজু করে। মামলার তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করার পর মো. হাসানুজ্জামান (৩৫) এবং মো. আলমগীর শিকারী (৪৬)–কেগ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার জন্য সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।