ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই উদ্বেগের: কৃষিমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: খাদ্য উৎপাদনে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সাধারণ মানুষ এবং কৃষিজীবী উভয়ের জন্যই বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদানের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, যা শেষ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। বর্তমান সময়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের কৃষি খাতের বিভিন্ন নীতিমালার সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান যে, অনেক কীটনাশক ও রাসায়নিক বর্তমানে বাংলাদেশে আমদানি ও বাজারজাত করা হচ্ছে যা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নিষিদ্ধ। এই অনিয়ম রোধ করতে বর্তমান আমদানি নীতি এবং পরীক্ষাব্যবস্থা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে কঠোর ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কেবল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়, বরং উৎপাদিত সেই খাদ্য কতটা মানসম্মত ও নিরাপদ তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন।

যথাযথ কারিগরি জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের অভাবেই মূলত মাঠপর্যায়ের কৃষকরা কীটনাশক এবং রাসায়নিক সারের সঠিক মাত্রা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না বলে মন্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেন। এই সমস্যা সমাধানে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নিরাপদ কৃষি পদ্ধতির বিস্তার ঘটাতে বর্তমান সরকার বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে কৃষিকাজকে আরও আধুনিক ও লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে কেবল মানবস্বাস্থ্যই নয়, বরং মাটির উর্বরতা শক্তি এবং সামগ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি পোলট্রি খাতের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী মুরগির খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের জনস্বাস্থ্য সংবেদনশীল খাতে সরকারের একলার পক্ষে সব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তাই সংশ্লিষ্ট সকল মহককে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin 12

জনপ্রিয় সংবাদ

কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই উদ্বেগের: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: খাদ্য উৎপাদনে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সাধারণ মানুষ এবং কৃষিজীবী উভয়ের জন্যই বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদানের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, যা শেষ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। বর্তমান সময়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের কৃষি খাতের বিভিন্ন নীতিমালার সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান যে, অনেক কীটনাশক ও রাসায়নিক বর্তমানে বাংলাদেশে আমদানি ও বাজারজাত করা হচ্ছে যা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নিষিদ্ধ। এই অনিয়ম রোধ করতে বর্তমান আমদানি নীতি এবং পরীক্ষাব্যবস্থা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে কঠোর ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কেবল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করাই যথেষ্ট নয়, বরং উৎপাদিত সেই খাদ্য কতটা মানসম্মত ও নিরাপদ তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণনের প্রতিটি ধাপে গুণগত মান বজায় রাখার ওপর তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন।

যথাযথ কারিগরি জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের অভাবেই মূলত মাঠপর্যায়ের কৃষকরা কীটনাশক এবং রাসায়নিক সারের সঠিক মাত্রা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না বলে মন্ত্রী অভিমত প্রকাশ করেন। এই সমস্যা সমাধানে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নিরাপদ কৃষি পদ্ধতির বিস্তার ঘটাতে বর্তমান সরকার বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে কৃষিকাজকে আরও আধুনিক ও লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নতুন নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে কেবল মানবস্বাস্থ্যই নয়, বরং মাটির উর্বরতা শক্তি এবং সামগ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি পোলট্রি খাতের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী মুরগির খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের জনস্বাস্থ্য সংবেদনশীল খাতে সরকারের একলার পক্ষে সব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তাই সংশ্লিষ্ট সকল মহককে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।