ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজ কতদূর?

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপারের মতো বিষাক্ত সাপের কামড়ের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম দেশীয় পর্যায়ে উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এই প্রতিষেধক তৈরির প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—এন্টিবডি উৎপাদনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ভেনম রিসার্চ সেন্টার। এই গবেষণার সামগ্রিক অগ্রগতি ও ফলাফল তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট গবেষক দল ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণা কার্যক্রমটি বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে সরকারি তরফ থেকে কোনো ধরনের অর্থ বরাদ্দ বা আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত তহবিলের এই চরম সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সব ধরনের গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এখন সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে।

সাপের বিষের মতো প্রাণঘাতী উপাদানের প্রতিষেধক তৈরি ও তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশেই গবেষণাগার গড়ে তোলার ওপর দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের গবেষণা কেবল চিকিৎসা বিজ্ঞানকেই এগিয়ে নেয় না, বরং সাপের কামড়ে প্রতিবছর হাজারো মানুষের প্রাণহানি রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অথচ প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজেটের অভাবে এমন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ মাঝপথে আটকে আছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব ও এর কামড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি মোকাবেলায় দেশীয় অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের বিকল্প নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে এই খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় জীবন রক্ষাকারী এই গবেষণাটির অগ্রগতি চিরতরে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin 12

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজ কতদূর?

আপডেট এর সময় : ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপারের মতো বিষাক্ত সাপের কামড়ের প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম দেশীয় পর্যায়ে উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এই প্রতিষেধক তৈরির প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—এন্টিবডি উৎপাদনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ভেনম রিসার্চ সেন্টার। এই গবেষণার সামগ্রিক অগ্রগতি ও ফলাফল তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট গবেষক দল ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণা কার্যক্রমটি বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে সরকারি তরফ থেকে কোনো ধরনের অর্থ বরাদ্দ বা আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত তহবিলের এই চরম সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সব ধরনের গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এখন সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে।

সাপের বিষের মতো প্রাণঘাতী উপাদানের প্রতিষেধক তৈরি ও তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশেই গবেষণাগার গড়ে তোলার ওপর দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের গবেষণা কেবল চিকিৎসা বিজ্ঞানকেই এগিয়ে নেয় না, বরং সাপের কামড়ে প্রতিবছর হাজারো মানুষের প্রাণহানি রোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অথচ প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজেটের অভাবে এমন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ মাঝপথে আটকে আছে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব ও এর কামড়ে মৃত্যুর ঝুঁকি মোকাবেলায় দেশীয় অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের বিকল্প নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে এই খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় জীবন রক্ষাকারী এই গবেষণাটির অগ্রগতি চিরতরে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।