ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে চলবে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানী থেকে দেশের প্রধান পর্যটননগরী কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক করতে রেল যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এতদিন ট্রেনটি কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর যাত্রাপথ বাড়িয়ে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ করা হয়েছে। এর ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী অঞ্চলের যাত্রীরা কোনো ধরনের ট্রেন বদলানোর ঝামেলা ছাড়াই এখন সরাসরি সমুদ্র সৈকতে পৌঁছাতে পারবেন। দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে এবং সাধারণ মানুষের ভ্রমণ খরচ ও সময় কমাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ও রুট নির্ধারণ করেছে। ট্রেনটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে পরদিন সকালে পর্যটননগরীর আইকনিক স্টেশনে গিয়ে পৌঁছাবে। অন্যদিকে, ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে ট্রেনটি সকালের দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা দিয়ে মধ্যসন্ধ্যায় ঢাকায় এসে পৌঁছাবে। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে ট্রেনটি সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে বন্ধ রাখা হবে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও আধুনিক সুবিধা সম্বলিত এই ট্রেনটিতে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

যাত্রাপথে এই ট্রেনটি ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আখাউড়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মোট চৌদ্দটি স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। তবে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রুট পরিবর্তন করা হলেও পুরনো কিছু স্টেশনের যাত্রাবিরতিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। মাঝপথে একাধিক স্টেশনে থামার কারণে মধ্যবর্তী জেলাগুলোর সাধারণ যাত্রীরাও খুব সহজেই এই রেল পরিষেবার সুফল ভোগ করতে পারবেন।

যাত্রীদের আর্থিক সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখে রেল কর্তৃপক্ষ এই রুটের জন্য সুলভ মূল্যে টিকিট নির্ধারণ করেছে। শোভন চেয়ার থেকে শুরু করে এসি ক্যাটাগরির বিভিন্ন ধরনের আসনে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া প্রযোজ্য হবে এবং স্বল্প দূরত্বের জন্য আলাদা ভাড়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যাত্রীরা বরাবরের মতো নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এই নতুন ট্রেন চালুর ফলে ঢাকা ও মধ্যবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin 12

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে চলবে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’

আপডেট এর সময় : ২৩ ঘন্টা আগে

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানী থেকে দেশের প্রধান পর্যটননগরী কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক করতে রেল যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এতদিন ট্রেনটি কেবল ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর যাত্রাপথ বাড়িয়ে সরাসরি কক্সবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ করা হয়েছে। এর ফলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনী অঞ্চলের যাত্রীরা কোনো ধরনের ট্রেন বদলানোর ঝামেলা ছাড়াই এখন সরাসরি সমুদ্র সৈকতে পৌঁছাতে পারবেন। দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে এবং সাধারণ মানুষের ভ্রমণ খরচ ও সময় কমাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন এই মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ও রুট নির্ধারণ করেছে। ট্রেনটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে চট্টগ্রাম হয়ে পরদিন সকালে পর্যটননগরীর আইকনিক স্টেশনে গিয়ে পৌঁছাবে। অন্যদিকে, ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে ট্রেনটি সকালের দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা দিয়ে মধ্যসন্ধ্যায় ঢাকায় এসে পৌঁছাবে। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে ট্রেনটি সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে বন্ধ রাখা হবে। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও আধুনিক সুবিধা সম্বলিত এই ট্রেনটিতে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

যাত্রাপথে এই ট্রেনটি ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আখাউড়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মোট চৌদ্দটি স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। তবে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রুট পরিবর্তন করা হলেও পুরনো কিছু স্টেশনের যাত্রাবিরতিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। মাঝপথে একাধিক স্টেশনে থামার কারণে মধ্যবর্তী জেলাগুলোর সাধারণ যাত্রীরাও খুব সহজেই এই রেল পরিষেবার সুফল ভোগ করতে পারবেন।

যাত্রীদের আর্থিক সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখে রেল কর্তৃপক্ষ এই রুটের জন্য সুলভ মূল্যে টিকিট নির্ধারণ করেছে। শোভন চেয়ার থেকে শুরু করে এসি ক্যাটাগরির বিভিন্ন ধরনের আসনে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া প্রযোজ্য হবে এবং স্বল্প দূরত্বের জন্য আলাদা ভাড়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যাত্রীরা বরাবরের মতো নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এই নতুন ট্রেন চালুর ফলে ঢাকা ও মধ্যবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।