Newsvob.com.: বিনোদন ডেস্ক : তেতলা লাল দালানটিকে আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠা।
সেই দালানের ভেতর সাধনারত কিছু
ঋষিতুল্য অসাধারণ শিক্ষকের হাত ধরে
কলম চালাতে – শক্ত হয়ে দাঁড়াতে শেখা ;
সেখানে প্রাণের বন্ধু মিলে, নাওয়া খাওয়া সব ভুলে
হাতের সাথে হাত, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের উষ্ণ বন্ধনে ভেসে বেড়ানো ,
আমি গেন্ডারিয়া হাই স্কুলের কথা বলছি।
কখনও কখনও রেললাইনে কান পেতে থাকা, অপু দুর্গার মত,
অথবা রেলের দু’ লাইনে দুজনে হাত ধরে হাঁটার সময় অকস্মাৎ রেলের আওয়াজে ছিটকে দুদিকে পড়া!
রেললাইনে চার বন্ধু মিলে বসে বাদাম ধ্বংশের প্রতিযোগিতা-
বড় থেকে ছোট, আরও ছোট -ছোট -ছোট!
একসময় নিজের অজান্তেই পঁচা বাদাম মুখে পুরে
থু থু করে ফেলা। হরিষে বিষাদ, — হঠাৎ!
হ্যাঁ, আমি আমার গেন্ডারিয়া রেল স্টেশনের কথা বলছি।
সীমান্ত খেলাঘর অথবা পূর্বাসা গ্রন্হাগার থেকে বই নিয়ে
পড়তে পড়তে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফেরা।
সাইকেল রিকশার টুংটাং রোমান্টিক ধ্বনি,
মাঝে মাঝে একটি কি দুটি মোটরগাড়ীর হর্ণ!
সুধীর স্যারের বাড়ির আমগাছ থেকে লুকিয়ে আম পেড়ে , ফুল চুরি করে অতি সন্তর্পণে হাওয়ায় মিশে যাওয়া!
কিম্বা চুন্নু ভাইদের বেল গাছের পাকা পাকা বেলে ঢিল!
হ্যাঁ এই তো, এই তো আমার ফুলে ফলে ঢাকা গেন্ডারিয়া! আমি তার কথা বলছি।
শীতের শাক্রাইনের বিকেলে ঘুড্ডি ধরা,
অথবা নাটাই হাতে ‘বাকাট্টা লোট’ বলে চেঁচিয়ে ওঠা,
চৈত্র সংক্রান্তি আর নববর্ষে ধূপখোলা মাঠের মেলায়
কখন যাবো, কখন যাবো, অনুক্ষণ সেই আকুতি!
কিনবো কাঁচা আমকাটার ছুড়ি, বাঁশি, বেলুন, মুরলি, মুরকি, টমটম গাড়ি, আরও কত কি!
হ্যঁ উৎসবে, পার্বনের আমার গেন্ডারিয়ার কথা বলছি।
আমি পুরনো ঢাকায় , আমার বেড়ে ওঠার গেন্ডারিয়ার
কথা বলছি।
আমি জেগে ওঠার গেন্ডারিয়ার কথা বলছি;
আমি বিকশিত হওয়ার গেন্ডারিয়ার কথা বলছি ;
আমি আমার প্রাণের গেন্ডারিয়ার কথা বলছি।
যে গেন্ডারিয়া এখন অনেকটাই মৃত
ইট,কাঠ, আর মানুষ, গাড়ির বিষাক্ত নিঃশ্বাসে,
ময়লা, ধূলা, ধূঁয়া আর পুঁতিগন্ধময় বাতাসে।