Newsvob.com. বিশেষ প্রতিবেদক: সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর সদর থানার তরতপাড়া এলাকায় মুদি দোকান থেকে মশার কয়েল ক্রয় এর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকান মালিকের ছুরির আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হয় ক্রেতা মোঃ হৃদয় হোসেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদি হয়ে গাজীপুর সদর থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের হওয়ায় খুনের আসামিরা বিভিন্নস্থানে পালিয়ে যায়। অবশেষে খুনের আসামী ডেমরা থেকে সিআইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছে। সিআইডি সুত্রে জানা যায়
গাজীপুর মহানগরীর সদর থানাধীন তরৎপাড়াস্থ মোঃ আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ হৃদয় হোসেন গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ০৭.০০ টায় বাড়ির পাশের মোঃ রিয়াজুল ইসলামের মুদি দোকান থেকে মশার কয়েল ক্রয় করে। বাসায় আসার পর হৃদয় দেখে যে কয়েলটি নিম্মমানের। পরদিন ১১ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে কয়েলটি নিয়ে রিয়াজুলের দোকানে গিয়ে অভিযোগ করলে রিয়াজুল ক্ষিপ্ত হয়ে হৃদয়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রিয়াজুলের ভাগিনা রাকিব, উজ্জল, আলমগীর ও তুহীন হৃদয়কে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। পরবর্তীতে রিয়াজুল তার হাতে থাকা সুইস গিয়ার ছুরি দ্বারা হৃদয়ের পিঠে আঘাত করে। হৃদয়ের চিৎকারে তার বাবা আনোয়ার হোসেন এগিয়ে আসলে রিয়াজুল উক্ত ছুরি দ্বারা আনোয়ার হোসেনের হাতেও আঘাত করে। ভিক্টিমদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত বাবা এবং ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা ঐ দিন সন্ধ্যায় ভিক্টিম হৃদয়(২০)কে মৃত ঘোষনা করে। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনায় মৃতের বাবা মোঃ আনোয়ার হোসের (৫২) কর্তৃক ০৫(পাঁচ) জনকে আসামী করে গাজীপুর সদর থানার মামলা নং- ১৩, তারিখঃ ১২/১২/২০২১ খ্রিঃ, ধারাঃ ৩০২/৩২৬/৩৪ পেনাল কোড- ১৮৬০ দায়ের করে।
উক্ত ঘটনাটি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হলে সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় উক্ত হত্যার ঘটনায় জড়িত মূল আসামী- ১। মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (২৫) পিতা- মোঃ রমিজ উদ্দিন রমু, সাং- তরৎপাড়া, থানা- সদর, জেলা- গাজীপুরকে গ্রেফতারের জন্য সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে এলআইসি’র এর একটি চৌকস টীম ঢাকার ডেমরা হতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।
এরূপ মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। আর এ কৃতিত্বের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সিআইডিকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন।