ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী Logo টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী Logo সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo আলী খামেনির জানাজায় কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না Logo আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় তিন ছেলে, আসতে পারলেন না মোজতবা খামেনি Logo ৩৪ সচিবের পদোন্নতিতে জনপ্রশাসন সচিবকে কৃতজ্ঞতা জানালো সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস এসোসিয়েশন Logo ইকরার আত্মহত্যা: রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ জানিয়েছেন আলভী Logo উত্তাপ ছড়াচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া Logo প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন কাল

পানি আমাদের জন্য যেন আর্শীবাদ হয়ে আসে : প্রধানমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯
  • ১০৬ বার পঠিত হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা জানি, পানির অপর নাম জীবন। পৃথিবীর সব সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীর তীরে। কিন্তু এই পানি অনেক সময় মানুষের জীবন সর্বনাশের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের জন্য যেন পানি আর্শীবাদ হয়ে আসে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবস ২০১৯ উদযাপনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন দেশের মানুষকে আর কখনো দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হতে না হয়।’

তিনি বলেন, ‘চৈত্র-বৈশাখ মাস এলেই নদীর পানি শুকিয়ে যায়। আমাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যেন শুকনো মৌসুমেও নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকে। আমাদের হাওড়-বাওড়-বিলগুলো জলাধার হিসেবে কাজ করে। এগুলোতে সারাবছর পানি থাকে। সেখান থেকে পানি নদীতে নেমে যায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, অধিক ফসলের ফলনসহ বিভিন্ন ধরনের চিন্তা থেকে বাধ দিয়ে এমন অবস্থা তৈরি করা হয় যে জলাধারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বর্ষায় যখন পানি আসে, পানি নামার জায়গা পায় না। ভাঙন বেশি হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রয়োজনে অনেক নদীতে ব্রিজ তৈরি করি। আমাদের প্রবণতা থাকে নদী শাসন করার। ব্রিজটা যেন ছোট হয়, সেজন্য নদীকে ছোট করা হয়। আমি এই মতের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে ভিন্নতা পোষণ করছি। নদীর স্বাভাবিক গতি যেন অব্যাহত থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্ষাকালে যখন বেশি পানি আসে, সেই পানিকে ধারণ করার জন্য বাফার জোন রাখতে হবে। সেভাবে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। আমরা নদীকে বেঁধে ফেলি, কিন্তু নদী বাধ মানে না। সুনামি, সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা দেখেছি, পানির তোড়ে সবকিছু ভেসে যায়। তাই পানিকে বেঁধে না রেখে এর চলাচলের সুব্যবস্থা করে দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শতবর্ষের বদ্বীপ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও ডেল্টা প্ল্যানের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী ২২ মার্চ পানি দিবস পালিত হলেও এবার ওই দিন শুক্রবার হওয়ায় দিবসটি পালন করা যায়নি। তাই ১১ এপ্রিল দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এ বছর জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড’।

পানি দিবসের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

পানি আমাদের জন্য যেন আর্শীবাদ হয়ে আসে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা জানি, পানির অপর নাম জীবন। পৃথিবীর সব সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদীর তীরে। কিন্তু এই পানি অনেক সময় মানুষের জীবন সর্বনাশের দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের জন্য যেন পানি আর্শীবাদ হয়ে আসে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পানি দিবস ২০১৯ উদযাপনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যেন দেশের মানুষকে আর কখনো দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হতে না হয়।’

তিনি বলেন, ‘চৈত্র-বৈশাখ মাস এলেই নদীর পানি শুকিয়ে যায়। আমাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যেন শুকনো মৌসুমেও নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকে। আমাদের হাওড়-বাওড়-বিলগুলো জলাধার হিসেবে কাজ করে। এগুলোতে সারাবছর পানি থাকে। সেখান থেকে পানি নদীতে নেমে যায়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, অধিক ফসলের ফলনসহ বিভিন্ন ধরনের চিন্তা থেকে বাধ দিয়ে এমন অবস্থা তৈরি করা হয় যে জলাধারগুলো নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বর্ষায় যখন পানি আসে, পানি নামার জায়গা পায় না। ভাঙন বেশি হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রয়োজনে অনেক নদীতে ব্রিজ তৈরি করি। আমাদের প্রবণতা থাকে নদী শাসন করার। ব্রিজটা যেন ছোট হয়, সেজন্য নদীকে ছোট করা হয়। আমি এই মতের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে ভিন্নতা পোষণ করছি। নদীর স্বাভাবিক গতি যেন অব্যাহত থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্ষাকালে যখন বেশি পানি আসে, সেই পানিকে ধারণ করার জন্য বাফার জোন রাখতে হবে। সেভাবে পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। আমরা নদীকে বেঁধে ফেলি, কিন্তু নদী বাধ মানে না। সুনামি, সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরা দেখেছি, পানির তোড়ে সবকিছু ভেসে যায়। তাই পানিকে বেঁধে না রেখে এর চলাচলের সুব্যবস্থা করে দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শতবর্ষের বদ্বীপ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও ডেল্টা প্ল্যানের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী ২২ মার্চ পানি দিবস পালিত হলেও এবার ওই দিন শুক্রবার হওয়ায় দিবসটি পালন করা যায়নি। তাই ১১ এপ্রিল দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। এ বছর জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব পানি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড’।

পানি দিবসের এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার।