প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, দেশের মানুষের কল্যাণ করা, সার্বিক উন্নতি করা এটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
“কাজেই আমাদের বিমানবাহিনীর প্রতিটি সদস্য এবং বিশেষ করে নবীন ক্যাডেট যারা, সবাইকে আমি বলব, আমরা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জনকারী একটি দেশ, একটি জাতি, সেই কথা সবসময় মাথায় রেখে মনে সাহস রেখে মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলতে হবে এবং নিজেদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আজকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশগ্রহণ করি। সেখানে বিভিন্ন দেশেরও সদস্যরা আসে। বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী সকলেই। তাদের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে, যেন কোনোদিক থেকে বাংলাদেশ কোনো কিছুতে পিছিয়ে না থাকে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই যা যা দরকার, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা, আমরা সেটা করে যাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “বিমানবাহিনীরঅনন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি ক্যাডেটদের বলব, তোমরা নিজেদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যেন আমাদের এই বাংলাদেশ তোমাদের মত তরুণদের কাছে যে প্রত্যাশা করে, সেটা তোমরা পূরণ করতে উপযুক্ত হয়ে গড়ে তুলবে।”
অনুষ্ঠানে শোনানো জাতির পিতার ভাষণের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি (বঙ্গবন্ধু) নবীন ক্যাডেটদের বলেছেন, যারা নবীন কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন অর্থাৎ প্রশিক্ষণের পর্যায় শেষ করে এখন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম এটা থাকতে হবে। আর সেই সাথে আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।
“জাতির পিতার যে নির্দেশনা, যে কথাগুলো, যে বক্তব্যগুলো, সেটা সব সময় মনে রাখতে পারলে আমি মনে করি নিজেদেরকে জীবনে সততার সাথে, নিষ্ঠার সাথে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে এবং দেশকেও অনেক কিছু দেবার সুযোগ পাবে।”
২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তোমরাই আমার ২০৪১ এর সৈনিক। সেইভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলবে, দেশকে ভালোবাসবে, মানুষকে ভালোবাসবে। দেশ ও মানুষের প্রতি তোমাদের কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ থাকবে সেটাই আমরা চাই এবং জাতির পিতার সেই আদর্শ মেনে নিয়ে তোমরা এগিয়ে যাবে।