Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্ক : দাবির মুখে সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতুদণ্ড করতে যাচ্ছে৷ এজন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ কিন্তু শুধু মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে কি ধর্ষণ বন্ধ করা যাবে?
সম্প্রতি ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার দৃশ্যত বেড়ে যাওয়ায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার দাবি ওঠে৷ কেউ কেউ ধর্ষকদের নপুংশক করার দাবিও তোলেন৷ আর সেই প্রেক্ষাপটে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, এজন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনটি সংশোনের প্রস্তাব আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে৷ আইনটি সংশোধন করে শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব করা হচ্ছে৷ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে৷ দেশে এখন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷
সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে৷ কিন্তু শুধু মৃত্যুদণ্ডের বিধান করলেই ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে?
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন৷
ধারা ৯(২)-এ বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডনীয় হবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন৷
ধারা ৯(১)-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে:
যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যাতীত ১ [ষোল বছরের] অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যাতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করে, অথবা ২ [ষোল বছরের] কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হবেন৷
বাংলাদেশে ধর্ষণ দৃশ্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার পেছনে কঠোর আইনের চেয়ে আইন প্রয়োগ না হওয়াকে দায়ী করছেন কোনো কোনো আইনজীবী৷ তারা মনে করেন, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ক্ষমতায় ক্ষমতাশালী যারা ধর্ষণে জড়িত তাদের অনেক ক্ষেত্রেই বিচারের আওতায় আনা যায় না৷ তারা বলেন, সিলেটের এমসি কলেজ হোস্টেলে ধর্ষণ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী৷ এই দুইটি ঘটনা নিয়ে মানুষ কথা বলায় আসামিদের আটক করা হয়েছে৷ কিন্তু এরকম আরো বহু ঘটনা আছে যেগুলো পুলিশ পর্যন্ত যায় না৷ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘‘আরো অনেক অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে৷ তাই বলে কি সেই সব অপরাধ কমেছে? অপরাধ করে যদি পার পাওয়া যায়, তাহলে কোনো কঠোর শাস্তিই কাজে আসে না৷ সরকারকে আসলে সব অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে৷ মন্ত্রী-এমপি বা দল-লীগের প্রভাবে যদি অপরাধী রেহাই পায়, তাহলে কঠোর আইন শুধু আইন হয়েই থাকবে৷’’
মৃত্যুদণ্ডের বিধানের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা ও ন্যায়ের ওপর জোর দিয়েছেন নারীনেত্রী এবং মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান৷ তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান সাধারণ মানুষের দাবি৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা ঠিক আছে বলে মনে হয়৷ কিন্তু তার মতে, ‘‘আইনের সঠিক প্রয়োগের সাথে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে শাস্তি না পায় তা-ও নিশ্চিত করতে হবে৷’’
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলায় শাস্তিরও বিধান আছে৷ এই বিধানটিও যথাযথভাবে প্রয়োগ দরকার বলে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন৷
এদিকে কেউ কেউ মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও ধর্ষকদের আরো বিকল্প শাস্তির প্রস্তাব করেছেন৷ অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ধর্ষকদের নপুংশক করে দেয়ার প্রস্তাব করেছেন তার এক ফেসবুক পোস্টে৷ এ নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার ফেসবুক পোস্টে যা বলেছি তাই৷ এর বাইরে আমার কোনো কথা নাই৷’’