ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম Logo রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার Logo সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেফতার, মামলা ৪১ Logo ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, এস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ ৭ মাদক-অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার Logo ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী Logo টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

মোবাইলে কথা বলার অভিজ্ঞতা পাল্টে দিতে দেশে আসছে ভোল্টিই

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৯
  • ১১৪ বার পঠিত হয়েছে

মোবাইলে কথা বলার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ভয়েস ওভার এলটিই বা ভোল্টি বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে । মূলত ফোরজি বা এলটিই নেটওয়ার্কে কথা বলার প্রযুক্তি হলো  এই ভোল্টি (VoLTE)।  তিন হতে চার মাসের মধ্যে দেশে এই প্রযুক্তি চালু হতে পারে।

আর এই প্রযুক্তি মোবাইলে কথা বলার ক্ষেত্রে দেশের চলমান পদ্ধতিকে বিলুপ্ত করে দেবে। দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কেউ কেউ ইতোমধ্যে এই ভোল্টি চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে।

মোবাইল ফোন অপারেটর রবি জানিয়েছে, ভোল্টি সেবা দিতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঠিক সময়ে তারা গ্রাহকদের এই সেবা দিতে পারবে।

শীর্ষ পর্যায়ের আরেকটি অপারেটরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন , এই প্রযুক্তির জন্য বেশ বড় অংকের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। তারা যদি সিদ্ধান্ত নেন এটি তিন মাসের মধ্যে চালু করবেন তাহলে তারা তা পারবেন।

বিশ্বে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চালু হয় ২০১৪ সালের মে মাসে সিঙ্গাপুরে। সিংটেল গ্যালাক্সি নোট ৩ হ্যান্ডসেটের সঙ্গে মিলে পুরোপুরিভাবে এই ভোল্টি সেবা উদ্বোধন করে।

২০১৭ সালের শেষের দিকে ভারতী এয়ারটেল ভারতে এটি চালু করে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, মাসখানেক আগেই এই প্রযুক্তি নিয়ে তারা ভাবতে শুরু করেন। এরপর এটির উপর মোটামুটি কাজ করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে গতি আনার কথা বলা হবে। আশাকরছি মাস তিনেকের মধ্যে এটি প্রয়োগ করা যাবে।

‘এটি মোবাইলের বর্তমান ভয়েস কল পদ্ধতিকে বিলুপ্ত করে দেবে। তার মানে মোবাইল নেটওয়ার্ক কেবলমাত্র ইন্টারনেট দেবে এবং সেই ইন্টারনেট দিয়েই টুজি পর্যন্ত ভয়েস কল দেবে কোনো ভয়েস টেকনোলজি ছাড়া’ বলছিলেন তিনি।

ভোল্টিতে কথা বলা যাবে এইচডি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার মানে। যা উপভোগ করা যাবে অডিও-ভিডিও দুটিতেই। বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে কল করলে তা কানেক্ট হতে ৯ হতে ১১ সেকেন্ড সময় নেয়। ভোল্টিতে এটি দু-তিন সেকেন্ডে হতে পারে।

এখন মোবাইলে ভয়েসে আসা-যাওয়ার মাঝখানে যে ডিলে থাকে সেটি ভোল্টিতে থাকবে না। মানে ইন্সট্যান্ট একদম মুখোমুখির কথা বলার মতো এটি আদান-প্রদান হবে।

কথা বলতে গিয়ে কেটে কেটে যাওয়ার বিষয়টি একদম হওয়া হয়ে যাবে। কলড্রপ কমে যাবে অনেক।

ভোল্টিতে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার হয় তার মধ্যে রয়েছে, ভয়েস ওভার এলটিই ইউজার ইক্যুপমেন্ট বা VoLTE UE, রেডিও অ্যাকসেট নেটওয়ার্ক বা RAN, কোর নেটওয়ার্ক মানে ইপিসি (EPC)  বা ইভল্ট প্যাকেট কোর  এবং আইএমএস কোর নেটওয়ার্ক। এই আইএমএস (IMS) হলো আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল সাবসিস্টেম।

ভোল্টিতে যিনি কথা বলবেন তার ফোনকে ফোরজি সাপোর্ট তো করতেই হবে সঙ্গে ভোল্টিও সাপোর্ট করতে হবে। তার টেলিকম অপারেটরের ভোল্টি সাপোর্ট সক্ষমতা থাকতে হবে এবং যাকে কল করা হবে মানে রিসিভার প্রান্তেও এই একই রকম বিষয়গুলো থাকতে হবে।

ভোল্টির আগে আমরা দেখি টুজি নেটওয়ার্ক হতে থ্রিজি তারপর ফোরজি পর্যন্ত উন্নয়ন সবক্ষেত্রেই আসলে ডেটার গতির দিকেই মনোযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু মোবাইল ফোনে কথা বলার মান উন্নয়নে তেমন উন্নতি দেখা যায়নি।

টুজিতে কখনও কল দেরিতে সংযোগ হচ্ছে, কখনও কথা দেরিতে যাচ্ছে, কখনও ঠিকমতো শোনা যাচ্ছে যায় না আর কলড্রপতো আছেই। দেশে এই যে থ্রিজি বা ফোরজি নেটওয়ার্ক এটা কিন্তু ভয়েস কলের মাধ্যম নয় । আমরা যখন মোবাইলে কাওকে কল করি তখন সেটি টুজি নেটওয়ার্কে যায়। কলের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক যদি থ্রিজি বা ফোরজিতে থাকে তাহলে সেটি টুজি নেটওয়ার্ক ধরে নেয়।

ফোরজি বা থ্রিজি নেটওয়ার্কে ডেটাকে ছোট ছোট প্যাকেজ বা প্যাকেট আকারে ডেটাকে পাঠানো হয়। এখানে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকলে এই প্যাকেজ বা প্যাকেট যায়। রিসিভারে মানে যাকে পাঠানো হচ্ছে সেই ঠিকানায় গিয়ে প্যাকেটগুলো একসঙ্গে হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

এখন এই নেটওয়ার্কে যদি ভয়েস পাঠানো হয়। তখন কী হবে? যেমন এতে কেউ ফোন করে বললো- শুনছো। তখন এটি প্যাকেজ বা প্যাকেট হয়ে শু-ন-ছো বা আরও ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাবে । কিন্তু এর ফলে দেখা গেলো অপরপ্রান্তে প্যাকেটটির ক্রম ভেঙ্গে আগে-পরে চলে গেছে মানে ন-শ-ছো বা আরও আগেপরের ক্রমে। এতে তো কথাই বদলে গেলো।

ভোল্টিতে এই প্রযুক্তির উন্নয়ন করা হয়েছে। আরও সহজ করে বলা যায় এটি ভিওআইপি প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম

মোবাইলে কথা বলার অভিজ্ঞতা পাল্টে দিতে দেশে আসছে ভোল্টিই

আপডেট এর সময় : ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৯

মোবাইলে কথা বলার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ভয়েস ওভার এলটিই বা ভোল্টি বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে । মূলত ফোরজি বা এলটিই নেটওয়ার্কে কথা বলার প্রযুক্তি হলো  এই ভোল্টি (VoLTE)।  তিন হতে চার মাসের মধ্যে দেশে এই প্রযুক্তি চালু হতে পারে।

আর এই প্রযুক্তি মোবাইলে কথা বলার ক্ষেত্রে দেশের চলমান পদ্ধতিকে বিলুপ্ত করে দেবে। দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কেউ কেউ ইতোমধ্যে এই ভোল্টি চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে।

মোবাইল ফোন অপারেটর রবি জানিয়েছে, ভোল্টি সেবা দিতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঠিক সময়ে তারা গ্রাহকদের এই সেবা দিতে পারবে।

শীর্ষ পর্যায়ের আরেকটি অপারেটরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন , এই প্রযুক্তির জন্য বেশ বড় অংকের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। তারা যদি সিদ্ধান্ত নেন এটি তিন মাসের মধ্যে চালু করবেন তাহলে তারা তা পারবেন।

বিশ্বে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে প্রথম চালু হয় ২০১৪ সালের মে মাসে সিঙ্গাপুরে। সিংটেল গ্যালাক্সি নোট ৩ হ্যান্ডসেটের সঙ্গে মিলে পুরোপুরিভাবে এই ভোল্টি সেবা উদ্বোধন করে।

২০১৭ সালের শেষের দিকে ভারতী এয়ারটেল ভারতে এটি চালু করে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, মাসখানেক আগেই এই প্রযুক্তি নিয়ে তারা ভাবতে শুরু করেন। এরপর এটির উপর মোটামুটি কাজ করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে গতি আনার কথা বলা হবে। আশাকরছি মাস তিনেকের মধ্যে এটি প্রয়োগ করা যাবে।

‘এটি মোবাইলের বর্তমান ভয়েস কল পদ্ধতিকে বিলুপ্ত করে দেবে। তার মানে মোবাইল নেটওয়ার্ক কেবলমাত্র ইন্টারনেট দেবে এবং সেই ইন্টারনেট দিয়েই টুজি পর্যন্ত ভয়েস কল দেবে কোনো ভয়েস টেকনোলজি ছাড়া’ বলছিলেন তিনি।

ভোল্টিতে কথা বলা যাবে এইচডি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার মানে। যা উপভোগ করা যাবে অডিও-ভিডিও দুটিতেই। বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্কে কল করলে তা কানেক্ট হতে ৯ হতে ১১ সেকেন্ড সময় নেয়। ভোল্টিতে এটি দু-তিন সেকেন্ডে হতে পারে।

এখন মোবাইলে ভয়েসে আসা-যাওয়ার মাঝখানে যে ডিলে থাকে সেটি ভোল্টিতে থাকবে না। মানে ইন্সট্যান্ট একদম মুখোমুখির কথা বলার মতো এটি আদান-প্রদান হবে।

কথা বলতে গিয়ে কেটে কেটে যাওয়ার বিষয়টি একদম হওয়া হয়ে যাবে। কলড্রপ কমে যাবে অনেক।

ভোল্টিতে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার হয় তার মধ্যে রয়েছে, ভয়েস ওভার এলটিই ইউজার ইক্যুপমেন্ট বা VoLTE UE, রেডিও অ্যাকসেট নেটওয়ার্ক বা RAN, কোর নেটওয়ার্ক মানে ইপিসি (EPC)  বা ইভল্ট প্যাকেট কোর  এবং আইএমএস কোর নেটওয়ার্ক। এই আইএমএস (IMS) হলো আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকল সাবসিস্টেম।

ভোল্টিতে যিনি কথা বলবেন তার ফোনকে ফোরজি সাপোর্ট তো করতেই হবে সঙ্গে ভোল্টিও সাপোর্ট করতে হবে। তার টেলিকম অপারেটরের ভোল্টি সাপোর্ট সক্ষমতা থাকতে হবে এবং যাকে কল করা হবে মানে রিসিভার প্রান্তেও এই একই রকম বিষয়গুলো থাকতে হবে।

ভোল্টির আগে আমরা দেখি টুজি নেটওয়ার্ক হতে থ্রিজি তারপর ফোরজি পর্যন্ত উন্নয়ন সবক্ষেত্রেই আসলে ডেটার গতির দিকেই মনোযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু মোবাইল ফোনে কথা বলার মান উন্নয়নে তেমন উন্নতি দেখা যায়নি।

টুজিতে কখনও কল দেরিতে সংযোগ হচ্ছে, কখনও কথা দেরিতে যাচ্ছে, কখনও ঠিকমতো শোনা যাচ্ছে যায় না আর কলড্রপতো আছেই। দেশে এই যে থ্রিজি বা ফোরজি নেটওয়ার্ক এটা কিন্তু ভয়েস কলের মাধ্যম নয় । আমরা যখন মোবাইলে কাওকে কল করি তখন সেটি টুজি নেটওয়ার্কে যায়। কলের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক যদি থ্রিজি বা ফোরজিতে থাকে তাহলে সেটি টুজি নেটওয়ার্ক ধরে নেয়।

ফোরজি বা থ্রিজি নেটওয়ার্কে ডেটাকে ছোট ছোট প্যাকেজ বা প্যাকেট আকারে ডেটাকে পাঠানো হয়। এখানে আইপি বা ইন্টারনেট প্রটোকলে এই প্যাকেজ বা প্যাকেট যায়। রিসিভারে মানে যাকে পাঠানো হচ্ছে সেই ঠিকানায় গিয়ে প্যাকেটগুলো একসঙ্গে হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

এখন এই নেটওয়ার্কে যদি ভয়েস পাঠানো হয়। তখন কী হবে? যেমন এতে কেউ ফোন করে বললো- শুনছো। তখন এটি প্যাকেজ বা প্যাকেট হয়ে শু-ন-ছো বা আরও ভেঙ্গে ভেঙ্গে যাবে । কিন্তু এর ফলে দেখা গেলো অপরপ্রান্তে প্যাকেটটির ক্রম ভেঙ্গে আগে-পরে চলে গেছে মানে ন-শ-ছো বা আরও আগেপরের ক্রমে। এতে তো কথাই বদলে গেলো।

ভোল্টিতে এই প্রযুক্তির উন্নয়ন করা হয়েছে। আরও সহজ করে বলা যায় এটি ভিওআইপি প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ।