Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্ক রাজধানীর ধানমন্ডি মোহাম্মদপুর এলাকার এই ত্রাস নিজের এ মাদকসাম্রাজ্য পরিচালনায় নিয়োগ দিচ্ছেন প্রায় দুই ডজন উঠতি সন্ত্রাসীকে।
এ চক্রের সদস্যরা তরুণ প্রজন্মের হাতে মোবাইল ফোনে অর্ডার নিয়ে চোখের পলকেই পৌঁছে দিচ্ছে ইয়াবা বড়ি। এর মাধ্যমে কারাগারে বসেই মোটা অংকের টাকায় নিজের পকেট ভারী করছেন সরকারের পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতেই দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে ইমনের ইয়াবা নেটওয়ার্ক তছনছ করে দিচ্ছে। গত কয়েক দিনে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে চক্রটির ৫ সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে ধানমন্ডি মোহাম্মদপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করা গেছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন যাবত কারাগারে বন্দি রয়েছেন দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড এর ভয়ানক সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন। একাধিক খুনের এ ‘মাস্টার মাইন্ড’ গ্রেফতারের পর অবৈধ ডিশ ব্যবসা, ময়লার গাড়ি থেকে চাঁদা, কারাগার থেকে বার্তা পাঠিয়ে ব্যবসায়ীদের হুমকির মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিলেও সময়ের ব্যবধানেই তার দুর্গে ধ্বস নামে। তা ছাড়া মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডে
নে কিছু প্রত্যারক চক্র এর সাথে জরিত বলে জানা যায় । ধ্বস কাটাতে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন ক্যাপ্টেন ইমন। নিজের দুই ডজন সন্ত্রাসীকে ইয়াবা বড়ি বিক্রির দায়িত্ব দেন। কখন কোথায় কীভাবে ইয়াবার চালান আসবে, কারাগারে বসেই সব ঠিকঠাক রাখছিলেন ইমন। বিএনপির অনেক রাজনৈতিক কর্মীকেও কারাগার থেকে বের করে নিজের লোক মারফত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে ইয়াবা ব্যবসায় নিজের নেটওয়ার্ক বাড়াচ্ছেন ইমন।
কিন্তু গত ক’দিন আগে পুলিশ নব্য ইয়াবা ডন ইমন গ্রুপের ইব্রাহিমকে আটকের মাধ্যমে এ মাদক ব্যবসায়ী চক্রকে শক্ত ঝাঁকুনি দেয়। বিশেষ করে ইব্রাহিম পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে সেদিন গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে এএসআই উজ্জ্বল পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে পুলিশের আরেকটি টিম অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করে।
এদিকে, মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন গ্রুপের ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মোহাম্মদপুর সার্কেলের একটি টিম। আটক ব্যক্তিরা হলো-মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে পিচ্চি মনির, মোহাম্মদ আক্তার, মহিউদ্দীন আহমেদ, আজিম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, ‘এ চক্রটিকে বেশ কয়েকদিন যাবৎ মনিটরিং করা হচ্ছিল। তারা বিভিন্ন সময়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছিল। গতকাল তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই অবস্থানরত বাসায় অভিযান চালানো হয়।’
তিনি আরও জানান, অভিযান চলাকালে চার আসামির মধ্যে অন্যতম পিচ্চি মনির তার সাথে থাকা বিদেশি পিস্তল ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যদের গুলি করতে উদ্ধত হয়। এরপর কৌশলে তার কাছে থাকা পিস্তলটি জব্দ করা হয় এবং তাদের অবস্থানরত বাসা থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তুতি চলছে। এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট গডফাদারদের চিহ্নিত করার জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
পুলিশের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আব্দুল্লাহিল কাফি জানান, কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের ইয়াবা কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মহানগরীকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
প্রতিনিধির নাম : 














