Newsvob.com.: অদ্য ৩/১১/২০২১ ইং সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিং এ জানা যায় চাঁদপুর সদর উপজেলার জিন্নাত আলী মোল্লার মেয়ে পারভীন আক্তারের (২৫) সাথে আড়াই বছর আগে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেরমহল গ্রামের মৃত আবু হানিফের ছেলে তানজিল হাওলাদারের (২৪) বিয়ে হয়। তাদের ১ বছর ৮ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত এক বছর ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে তার স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। জানা যায় যে, ভিক্টিমের স্বামী তানজিল হাওলাদার (২৪) ও শাশুড়ি সুলতানা বেগম(৫৫) প্রায়ই ভিক্টিমকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতো এবং বাড়ি থেকে বের করে দিত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ইং ০৯/১০/২০২১ তারিখে পারভীন আক্তার শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় তার মায়ের কাছে চলে যায়। কিছুদিন আগে পারভীন জানতে পারে যে তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে। উক্ত ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য সে স্বামীর বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে ওঠে।
গত ১৩-১০-২০২১ খ্রিঃ রাতে পারভীনের ফোনে তানজিল কল দিয়ে তাকে বাহিরে আসতে বলে। বাড়ির পাশের খালি জায়গায় কথা কাঁটাকাটির এক পর্যায়ে আসামী তানজিল ভিক্টিমের গলা টিপে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি প্রচারিত হলে তা সিআইডির নজরে আসে। বিশেষ পুলিশ সুপার, মুক্তা ধর পিপিএম এর দিক নির্দেশনায় উক্ত লোমহর্ষক ঘটনার সাথে জড়িত আসামী সর্ম্পকে তথ্য বিশ্লেষণ পূর্বক তাকে গ্রেফতারের জন্য দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশেষে সিআইডির একটি চৌকস দল ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থেকে মামলার ০১ নং আসামী মোঃ তানজিল হাওলাদারকে (২৪) গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী হত্যাকান্ডের বিষয়টি স্বীকার করে। এরূপ অনাকাক্ষিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান আসামীকে দ্রততম সময়ে চিহ্নিতপূর্বক গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।