ঢাকা , রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর Logo তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর Logo ঢাকার স্পন্দনকে মানবিকতায় ধারণ করতে চাই : প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম Logo বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন কেমন কাটল? Logo ৬ নবজাতকের মৃত্যু- কী ঘটেছিল আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে’ Logo ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী Logo জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে সকলকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo ঈদের দিন তিনটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় মালামাল জব্দ Logo হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন হাজিরা

অধ্যক্ষ সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে উধাও স্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৯
  • ১২০ বার পঠিত হয়েছে

ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা জেলে অবস্থান করলেও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে পালালেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার।

অধ্যক্ষের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা কেউ জানেন না যে তার স্ত্রী বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের করা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ জেলে যাওয়ার পরদিন ২৮ মার্চ জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার সিরাজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়।

তবে এসব টাকার কিছু অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করতে খুনিদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার মকছুদুর রহমান সড়কের ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’ নামে দোতলা বাড়িটি অধ্যক্ষ সিরাজের। রোববার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়িটি তালাবদ্ধ। ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন নুসরাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে চার শতক জমি কিনেন অধ্যক্ষ সিরাজ। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। তিন বছর আগে দোতলা পাকা দালান করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে। ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি। ওই ভবনের দোতলার রাস্তা লাগোয়া বড় ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। কয়েকদিন আগে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তারা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের।

ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, ২৮ মার্চ সিরাজের স্ত্রী তার অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে টাকার পরিমাণ এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।

জেলে থাকার পরও সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে কিভাবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলো জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে থাকতে পারে। এমনও হতে পারে সিরাজের স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা এসব টাকার কিছু প্রথমে অধ্যক্ষ মুক্তির আন্দোলন, পরে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার কাজে ব্যয় করা হয়। আর সিরাজের নির্দেশে এসব টাকা তুলেছেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। পরে এর একটি অংশ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, ছাত্রদল নেতা নুরুদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শামীমকে দেন তিনি। এ টাকা পাওয়ার পরই তিনজনের নেতৃত্বে ‘সিরাজ উদ-দৌলা মুক্তি পরিষদ’ গঠন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরদৌস আরা জনতা ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে অধ্যক্ষের সহযোগীদের হাতে তুলে দেন। তারপরই মূলত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের মদদে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, নুরুদ্দিন ও শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়।

অধ্যক্ষের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম মামুন বলেন, আমরা চেয়েছিলাম নিপীড়ক অধ্যক্ষের বিচার করতে। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন এবং পৌর কাউন্সিলর মাকুসদ আলম আমাদের আন্দোলন করতে বাধা দিয়েছেন।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমি কাউকে মদদ দেইনি। আমিও চাই যারা অপরাধী তাদের যেন বিচার হয়।

উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। ওই সময় তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এক ছাত্রীর এমন সংবাদে ভবনের চারতলায় যান তিনি। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচ ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

অধ্যক্ষ সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে উধাও স্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৯

ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা জেলে অবস্থান করলেও তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে পালালেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার।

অধ্যক্ষের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা কেউ জানেন না যে তার স্ত্রী বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের করা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ জেলে যাওয়ার পরদিন ২৮ মার্চ জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার সিরাজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এসব টাকা উত্তোলন করা হয়।

তবে এসব টাকার কিছু অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন ও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা করতে খুনিদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার মকছুদুর রহমান সড়কের ‘ফেরদৌস মঞ্জিল’ নামে দোতলা বাড়িটি অধ্যক্ষ সিরাজের। রোববার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বাড়িটি তালাবদ্ধ। ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন নুসরাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজের পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৭ থেকে ৮ বছর আগে ২০ লাখ টাকায় সাড়ে চার শতক জমি কিনেন অধ্যক্ষ সিরাজ। প্রথমে টিনশেড বাসা ছিল। তিন বছর আগে দোতলা পাকা দালান করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে। ছয়তলা ফাউন্ডেশনের ওপর দোতলা বাড়ি। ওই ভবনের দোতলার রাস্তা লাগোয়া বড় ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। কয়েকদিন আগে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তারা কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রতিবেশীদের।

ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম বলেন, ২৮ মার্চ সিরাজের স্ত্রী তার অ্যাকাউন্ট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে টাকার পরিমাণ এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।

জেলে থাকার পরও সিরাজের অ্যাকাউন্ট থেকে কিভাবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলো জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে থাকতে পারে। এমনও হতে পারে সিরাজের স্বাক্ষর করা চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা এসব টাকার কিছু প্রথমে অধ্যক্ষ মুক্তির আন্দোলন, পরে রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার কাজে ব্যয় করা হয়। আর সিরাজের নির্দেশে এসব টাকা তুলেছেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। পরে এর একটি অংশ স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, ছাত্রদল নেতা নুরুদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন শামীমকে দেন তিনি। এ টাকা পাওয়ার পরই তিনজনের নেতৃত্বে ‘সিরাজ উদ-দৌলা মুক্তি পরিষদ’ গঠন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরদৌস আরা জনতা ব্যাংক থেকে ১৮ লাখ টাকা তুলে অধ্যক্ষের সহযোগীদের হাতে তুলে দেন। তারপরই মূলত সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের মদদে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, নুরুদ্দিন ও শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে অধ্যক্ষ সিরাজের মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়।

অধ্যক্ষের বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম মামুন বলেন, আমরা চেয়েছিলাম নিপীড়ক অধ্যক্ষের বিচার করতে। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন এবং পৌর কাউন্সিলর মাকুসদ আলম আমাদের আন্দোলন করতে বাধা দিয়েছেন।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, আমি কাউকে মদদ দেইনি। আমিও চাই যারা অপরাধী তাদের যেন বিচার হয়।

উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। ওই সময় তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এক ছাত্রীর এমন সংবাদে ভবনের চারতলায় যান তিনি। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচ ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাত জাহান রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।