ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম Logo রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার Logo সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেফতার, মামলা ৪১ Logo ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, এস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ ৭ মাদক-অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার Logo ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী Logo টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

এইচ এম এরশাদ আর নেই

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০১৯
  • ১২৬ বার পঠিত হয়েছে

NEWSVOb :বিশেষ প্রতিবেদক:   জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই। আজ (রোববার) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল ৭টা ৪৫ থেকে ৮টার মধ্যে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঢাকা সিএমএইচে ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। আগামী মঙ্গলবার এরশাদকে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছে দলটি।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তিনদিন শোক পালন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করবে। দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকার সঙ্গে কালো পতাকা থাকবে। এছাড়া শোকবই খোলা হবে। কূটনীতিকসহ সর্বসাধারণের স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

১৯৮২ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় পার্টি। সামরিক শাসক হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এরশাদ বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ক্ষমতার ৯ বছরে তার কর্মকাণ্ড তাকে ‘পল্লীবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করে।

এরশাদের শাসনামলের অন্যতম সাফল্য ছিলো উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন করা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশি কেন্দ্র হিসেবে থানাগুলোকে সৃষ্টি করে। ১৯৫৯ সালে প্রথমবারের মতো থানা পর্যায়ে একটি স্থানীয় সরকার ইউনিট গঠন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি এরশাদ উপজেলাগুলোকে উন্নয়ন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উন্নীত করার মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পুনর্গঠন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এরপর ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০টি ধাপে ৪৬০টি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করেন তিনি।

উপজেলা পরিষদসমূহের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যানবৃন্দ ১৯৮৫ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরশাদ তার শাসনকালে জেলা পরিষদসমূহকেও সক্রিয় ও কার্যকর করেন।

এরশাদের আরেকটি বড় সাফল্য ছিল দক্ষিণ এশীয় সহযোগীতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। ১৯৮৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমন্ত্রণে এ অঞ্চলের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা ঢাকায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। এই প্রথম শীর্ষ সম্মেলনেই দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা সার্ক গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যাতে অন্তর্ভুক্ত হয় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

জনপ্রিয় সংবাদ

জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম

এইচ এম এরশাদ আর নেই

আপডেট এর সময় : ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০১৯

NEWSVOb :বিশেষ প্রতিবেদক:   জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আর নেই। আজ (রোববার) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পরিচালক আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল ৭টা ৪৫ থেকে ৮টার মধ্যে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঢাকা সিএমএইচে ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। আগামী মঙ্গলবার এরশাদকে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছে দলটি।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তিনদিন শোক পালন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করবে। দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকার সঙ্গে কালো পতাকা থাকবে। এছাড়া শোকবই খোলা হবে। কূটনীতিকসহ সর্বসাধারণের স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

১৯৮২ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন তিনি। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয় পার্টি। সামরিক শাসক হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এরশাদ বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ক্ষমতার ৯ বছরে তার কর্মকাণ্ড তাকে ‘পল্লীবন্ধু’ খেতাবে ভূষিত করে।

এরশাদের শাসনামলের অন্যতম সাফল্য ছিলো উপজেলা পদ্ধতির প্রবর্তন করা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা আইনশৃ্ঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশি কেন্দ্র হিসেবে থানাগুলোকে সৃষ্টি করে। ১৯৫৯ সালে প্রথমবারের মতো থানা পর্যায়ে একটি স্থানীয় সরকার ইউনিট গঠন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি এরশাদ উপজেলাগুলোকে উন্নয়ন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উন্নীত করার মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পুনর্গঠন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এরপর ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০টি ধাপে ৪৬০টি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করেন তিনি।

উপজেলা পরিষদসমূহের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যানবৃন্দ ১৯৮৫ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরশাদ তার শাসনকালে জেলা পরিষদসমূহকেও সক্রিয় ও কার্যকর করেন।

এরশাদের আরেকটি বড় সাফল্য ছিল দক্ষিণ এশীয় সহযোগীতা সংস্থা (সার্ক) গঠনে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। ১৯৮৫ সালের ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমন্ত্রণে এ অঞ্চলের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা ঢাকায় একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। এই প্রথম শীর্ষ সম্মেলনেই দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা সার্ক গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যাতে অন্তর্ভুক্ত হয় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ।