ঢাকা , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা মারা গেছেন

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০
  • ৪১৯ বার পঠিত হয়েছে

Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্ক :  বড় দুঃসংবাদ শুনিয়েছে আর্জেন্টিনার পত্রপত্রিকা। জানিয়েছে, ফুটবল সুপারস্টার দিয়োগো ম্যারাডোনা মারা গেছেন। ব্রাজিলের সংবাদ মাধ্যমও এই তথ্য জানিয়েছে।

আর্জেন্টিনার ক্লারিন পত্রিকা জানিয়েছে, রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে মারা গেছেন ম্যারাডোনা। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ম্যারাডোনা কিছুদিন আগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেন ম্যারাডোনা।   ৬০ বছর বয়সী এই ফুটবল সুপারস্টার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বুধবার (২৬ নভেম্বর)। বিশ্বের সেরা ফুটবলার মানা হতো তাকে। আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সের হয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা ম্যারাডোনা সেই ক্লাবে খেলেন ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। তারপর তিনি ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন ম্যারাডোনা। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান ম্যারাডোনা।

১৯৯৪ সালের আমেরিকা বিশ্বকাপ থেকে মাদক গ্রহনের দায়ে বহিষ্কৃত হন। ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার পর ম্যারাডোনা কোচিংয়ে জড়িয়ে পড়েন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতলেও কোচ হিসেবে তেমন বড় কোন সাফল্য ছিল না তার।

গত মাসে মস্তিস্কে রক্তরক্ষণের কারণে তার অস্ত্রোপচার হয়। সফল সেই অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আসেন তিনি। করোনাকালের এই সময়টায় বেশ সাবধানে ছিলেন। কিন্তু বুধবার হেরে গেলেন ‘জীবন ম্যাচ’! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুয়েন্স আয়ার্সে নিজের রিসোর্টে মারা যান এই সুপারস্টার। ম্যারাডোনার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে আহাজারি পড়ে যায়। ভিড় জমে যায় তার রিসোর্টের সামনে। ভক্ত-সমর্থকদের ভিড় সামাল দিতে সেখানে পুলিশকে নিয়োগ করা হয়। তার মৃত্যুতে আর্জেন্টিনায় তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ফুটবল মাঠে দুর্দান্ত সাফল্য পাওয়া ম্যারাডোনা মাঠ এবং মাঠের বাইরে বিতর্কেও কম জড়াননি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আজো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বিতর্কের বিষয়। কিন্তু সেই গোলের খানিকবাদেই ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের পাঁচজন ফুটবলারকে কাটিয়ে যে গোল করেছিলেন সেটা বিশ্বফুটবলের সেরা গোলের মর্যাদা পেয়েছিল। ম্যারাডোনার পায়ে ফুটবল যেন কথা বলতো!

কোন সন্দেহ নেই ফুটবলের জন্যই তার জন্ম হয়েছিল। জীবনকে নিজের মতো উপভোগ করার আনন্দ নিয়েই কাটিয়ে দিতে হয়-এটাই ছিল ম্যারাডোনার জীবন দর্শন।

পুরো বিশ্বকে ফুটবলের অপার আনন্দ দিয়ে গেছেন ম্যারাডোনা। আর তাই আজ পক্ষ-প্রতিপক্ষ সবার চোখেই জল। বিদায় সুপার স্টার!

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা মারা গেছেন

আপডেট এর সময় : ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০

Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্ক :  বড় দুঃসংবাদ শুনিয়েছে আর্জেন্টিনার পত্রপত্রিকা। জানিয়েছে, ফুটবল সুপারস্টার দিয়োগো ম্যারাডোনা মারা গেছেন। ব্রাজিলের সংবাদ মাধ্যমও এই তথ্য জানিয়েছে।

আর্জেন্টিনার ক্লারিন পত্রিকা জানিয়েছে, রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে মারা গেছেন ম্যারাডোনা। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ম্যারাডোনা কিছুদিন আগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতেন ম্যারাডোনা।   ৬০ বছর বয়সী এই ফুটবল সুপারস্টার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বুধবার (২৬ নভেম্বর)। বিশ্বের সেরা ফুটবলার মানা হতো তাকে। আর্জেন্টিনা জুনিয়র্সের হয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা ম্যারাডোনা সেই ক্লাবে খেলেন ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। তারপর তিনি ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন ম্যারাডোনা। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান ম্যারাডোনা।

১৯৯৪ সালের আমেরিকা বিশ্বকাপ থেকে মাদক গ্রহনের দায়ে বহিষ্কৃত হন। ফুটবল থেকে অবসর নেয়ার পর ম্যারাডোনা কোচিংয়ে জড়িয়ে পড়েন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতলেও কোচ হিসেবে তেমন বড় কোন সাফল্য ছিল না তার।

গত মাসে মস্তিস্কে রক্তরক্ষণের কারণে তার অস্ত্রোপচার হয়। সফল সেই অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে আসেন তিনি। করোনাকালের এই সময়টায় বেশ সাবধানে ছিলেন। কিন্তু বুধবার হেরে গেলেন ‘জীবন ম্যাচ’! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুয়েন্স আয়ার্সে নিজের রিসোর্টে মারা যান এই সুপারস্টার। ম্যারাডোনার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে আহাজারি পড়ে যায়। ভিড় জমে যায় তার রিসোর্টের সামনে। ভক্ত-সমর্থকদের ভিড় সামাল দিতে সেখানে পুলিশকে নিয়োগ করা হয়। তার মৃত্যুতে আর্জেন্টিনায় তিনদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ফুটবল মাঠে দুর্দান্ত সাফল্য পাওয়া ম্যারাডোনা মাঠ এবং মাঠের বাইরে বিতর্কেও কম জড়াননি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আজো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বিতর্কের বিষয়। কিন্তু সেই গোলের খানিকবাদেই ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের পাঁচজন ফুটবলারকে কাটিয়ে যে গোল করেছিলেন সেটা বিশ্বফুটবলের সেরা গোলের মর্যাদা পেয়েছিল। ম্যারাডোনার পায়ে ফুটবল যেন কথা বলতো!

কোন সন্দেহ নেই ফুটবলের জন্যই তার জন্ম হয়েছিল। জীবনকে নিজের মতো উপভোগ করার আনন্দ নিয়েই কাটিয়ে দিতে হয়-এটাই ছিল ম্যারাডোনার জীবন দর্শন।

পুরো বিশ্বকে ফুটবলের অপার আনন্দ দিয়ে গেছেন ম্যারাডোনা। আর তাই আজ পক্ষ-প্রতিপক্ষ সবার চোখেই জল। বিদায় সুপার স্টার!