ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬১ জন গ্রেফতার Logo জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করলো বাংলাদেশ-আইওএম Logo রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার Logo আগামী মাসের মধ্যে ‘প্রবাসী কার্ডের’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ চালু করবে সরকার Logo তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জন গ্রেফতার Logo সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৃথক অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার Logo ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেফতার, মামলা ৪১ Logo ডিবির পৃথক অভিযানে অস্ত্র, এস্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ ৭ মাদক-অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার Logo ফটিকছড়িতে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী Logo আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

IELTS স্কোর বাড়িয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট প্রস্তুতকারী চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২
  • ৩৭১ বার পঠিত হয়েছে

Newsvob.com.:  নিজস্ব প্রতিবেদক  : অদ্য  ২৬/১২/২২ইং সিআডির এক প্রস বিঞ্জপ্তিতে জানায়  যে,  সাইবার পুলিশ সেন্টার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে সংঘটিত যেকোনো অপরাধ নির্মূল ও প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে সাইবার পেট্রোলিং ও মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ এ অভিযোগ আসে যে, একটি চক্র অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে IELTS এর স্কোর বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাইবার পুলিশ সেন্টার অভিযোগটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, একটি চক্র Facebook বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে সহজে IELTS এর স্কোর ৮ এর উপরে লাভ এরূপ লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা তাদের WhatsApp ও Messenger এর সিক্রেট গ্রুপ এর ইনবক্সে যোগাযোগ করলে তখন চক্রটি আগ্রহী প্রার্থীদের টার্গেট করে বিনা পরীক্ষায় IELTS এ ৮ এর অধিক স্কোর পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এভাবে প্রতারিত করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেহেতু বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং চাকুরি/ব্যবসা ইত্যাদির উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে শর্তে IELTS এর স্কোর ৭ এর অধিক প্রয়োজন পড়ে, তাই আগ্রহীরা সহজেই এই সংঘবদ্ধ চক্রের পাতা ফাঁদে পা দেয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গত ২৪/১২/২০২২ খ্রিঃ ১৩:৩৫ ঘটিকায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি টিম ডিএমপি, ঢাকার দারুসসালাম থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান করে এই সংঘবদবদ্ধ চক্রের মূল হোতা নাকিব ওসমান (৩৬) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং জানায় যে, সে এবং তার সাথে আরও ৭ থেকে ৮ জন এর একটি চক্র অনলাইন প্লাটফর্মে IELTS এর স্কোর বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের প্রতারিত করে আসছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য যে সকল শিক্ষার্থী বিদেশে যেতে চায় চক্রটি তাদেরকে টার্গেট করে। প্রথমে চক্রটি Facebook এর বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে IELTS এর স্কোর ৮ এর উপরে লাভ এরূপ লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখায় যে IELTS স্কোর যদি কম হয়, তাহলে স্কোর ৮ এর উপরে করে দিতে পারবে।

এজন্য শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের মোটা অংকের আর্থিক চুক্তি হয় এবং যেখানে অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়। যেসকল শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ভালো তারা সহজেই এ ফাঁদে পা দেয়। অর্থ হাতে পাওয়ার পরে প্রতারক চক্রটি শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে। এভাবে অনেক শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারক চক্রটির প্রতারণার প্রমান পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, শুধুমাত্র IELTS এর স্কোর বাড়ানোই নয়, পাশপাশি বেশ কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করত। এক্ষেত্রে তার সাথে কয়েকজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী জড়িত। শিক্ষার্থীরা বাইরের দেশে যে সকল বিষয়ে পড়তে আগ্রহী, ঐ সকল বিষয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকজন অসাধু শিক্ষকের সহায়তায় তৈরি করে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। এসকল সার্টিফিকেটর দ্বারা বিদেশে পড়াশুনার আবেদন করলে, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সার্টিফিকেট যাচাইয়ের জন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর ই-মেইল করে। দেশের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যারা চক্রটির সহযোগী তারা সার্টিফিকেটটি বৈধ হিসাবে ই-মেইলের জবাব প্রেরণ করে থাকে। এছাড়াও বিশ্বের অনেক নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলেও চক্রটি প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়। এভাবে বহুদিন যাবত এরা প্রতারণা করে টাকা কামিয়ে আসছে।

 

গ্রেফতারকালে আসামীর কাছ থেকে ০১ টি Nokia মোবাইল ফোন, ০১ টি Oppo স্মার্ট ফোন, ০৩ টি সিমকার্ড, নগদ ৪৯,১৬৪/- (ঊনপঞ্চাশ হাজার একশত চৌষট্টি টাকা মাত্র) টাকা, ৫৬৭০ রুপি (ভারতীয়), ০২ টি পাসপোর্ট, ০২ টি চেকবই ও অন্যান্য আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ করা হয়। আসামী নাকিব ওসমান (৩৬) এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর ২০১৮ এর ২২(২)/২৩(২)/২৪(২)/২৫(২)/৩৫(২) ধারায় গুলশান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মামলা নং- ২২, তারিখ- ২৪/১২/২০২২ খ্রিঃ। চক্রটির বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬১ জন গ্রেফতার

IELTS স্কোর বাড়িয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট প্রস্তুতকারী চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার

আপডেট এর সময় : ১০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২

Newsvob.com.:  নিজস্ব প্রতিবেদক  : অদ্য  ২৬/১২/২২ইং সিআডির এক প্রস বিঞ্জপ্তিতে জানায়  যে,  সাইবার পুলিশ সেন্টার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে সংঘটিত যেকোনো অপরাধ নির্মূল ও প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে সাইবার পেট্রোলিং ও মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ এ অভিযোগ আসে যে, একটি চক্র অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে IELTS এর স্কোর বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাইবার পুলিশ সেন্টার অভিযোগটি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, একটি চক্র Facebook বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে সহজে IELTS এর স্কোর ৮ এর উপরে লাভ এরূপ লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা তাদের WhatsApp ও Messenger এর সিক্রেট গ্রুপ এর ইনবক্সে যোগাযোগ করলে তখন চক্রটি আগ্রহী প্রার্থীদের টার্গেট করে বিনা পরীক্ষায় IELTS এ ৮ এর অধিক স্কোর পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এভাবে প্রতারিত করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। যেহেতু বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং চাকুরি/ব্যবসা ইত্যাদির উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে শর্তে IELTS এর স্কোর ৭ এর অধিক প্রয়োজন পড়ে, তাই আগ্রহীরা সহজেই এই সংঘবদ্ধ চক্রের পাতা ফাঁদে পা দেয়।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গত ২৪/১২/২০২২ খ্রিঃ ১৩:৩৫ ঘটিকায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি টিম ডিএমপি, ঢাকার দারুসসালাম থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান করে এই সংঘবদবদ্ধ চক্রের মূল হোতা নাকিব ওসমান (৩৬) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং জানায় যে, সে এবং তার সাথে আরও ৭ থেকে ৮ জন এর একটি চক্র অনলাইন প্লাটফর্মে IELTS এর স্কোর বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের প্রতারিত করে আসছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য যে সকল শিক্ষার্থী বিদেশে যেতে চায় চক্রটি তাদেরকে টার্গেট করে। প্রথমে চক্রটি Facebook এর বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে IELTS এর স্কোর ৮ এর উপরে লাভ এরূপ লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখায় যে IELTS স্কোর যদি কম হয়, তাহলে স্কোর ৮ এর উপরে করে দিতে পারবে।

এজন্য শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের মোটা অংকের আর্থিক চুক্তি হয় এবং যেখানে অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়। যেসকল শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ভালো তারা সহজেই এ ফাঁদে পা দেয়। অর্থ হাতে পাওয়ার পরে প্রতারক চক্রটি শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে। এভাবে অনেক শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারক চক্রটির প্রতারণার প্রমান পাওয়া গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, শুধুমাত্র IELTS এর স্কোর বাড়ানোই নয়, পাশপাশি বেশ কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করত। এক্ষেত্রে তার সাথে কয়েকজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী জড়িত। শিক্ষার্থীরা বাইরের দেশে যে সকল বিষয়ে পড়তে আগ্রহী, ঐ সকল বিষয়ের ভুয়া সার্টিফিকেট দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ের কয়েকজন অসাধু শিক্ষকের সহায়তায় তৈরি করে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। এসকল সার্টিফিকেটর দ্বারা বিদেশে পড়াশুনার আবেদন করলে, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সার্টিফিকেট যাচাইয়ের জন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর ই-মেইল করে। দেশের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যারা চক্রটির সহযোগী তারা সার্টিফিকেটটি বৈধ হিসাবে ই-মেইলের জবাব প্রেরণ করে থাকে। এছাড়াও বিশ্বের অনেক নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলেও চক্রটি প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়। এভাবে বহুদিন যাবত এরা প্রতারণা করে টাকা কামিয়ে আসছে।

 

গ্রেফতারকালে আসামীর কাছ থেকে ০১ টি Nokia মোবাইল ফোন, ০১ টি Oppo স্মার্ট ফোন, ০৩ টি সিমকার্ড, নগদ ৪৯,১৬৪/- (ঊনপঞ্চাশ হাজার একশত চৌষট্টি টাকা মাত্র) টাকা, ৫৬৭০ রুপি (ভারতীয়), ০২ টি পাসপোর্ট, ০২ টি চেকবই ও অন্যান্য আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ করা হয়। আসামী নাকিব ওসমান (৩৬) এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর ২০১৮ এর ২২(২)/২৩(২)/২৪(২)/২৫(২)/৩৫(২) ধারায় গুলশান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মামলা নং- ২২, তারিখ- ২৪/১২/২০২২ খ্রিঃ। চক্রটির বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।