Blog

  • পাথরঘাটায় নৌকা সমর্থকদের হামলায় জাতীয় পার্টির ১০ নেতা-কর্মী আহত

    পাথরঘাটায় নৌকা সমর্থকদের হামলায় জাতীয় পার্টির ১০ নেতা-কর্মী আহত

    পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকী ফেরীঘাট এলাকায় নৌকা সমর্থকদের হামলায় জাতীয় পার্টির ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫জনকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে বাইনচটকী ফেরীঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে জানান, বরগুনা-২ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্জ মিজানুর রহমানের সমর্থনে নেতা-কর্মীরা প্রচারণার জন্য পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দুপুরে বরইতলা থেকে ফেরীতে বাইনচটকী এলাকায় পৌঁছুলে নৌকার সমর্থিতরা অতর্কিতে তাঁদের গাড়ি বহরে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ বাঁধা দিতে চেষ্টা করলেও পুলিশি বাঁধা উপক্ষো করে নৌকা সমর্থিতরা লাঠিসোটা নিয়ে জাতীয় পার্টির সমর্থকের উপর হামলা চালায়। নৌকা সমর্থিতদের তোপের মুখে এক পর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা ফেরীযোগে দ্রুত নদীর পাড় হয়ে বরইতলা ফিরে আসে।

    এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে হদয়, শুভ, লালচাঁদ, সবুজ রাসেল খান, ও নাসরুল ইসলামকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক চিকৎসা নিয়েছেন।

    বরগুনা জেনারেল হাসাপতালের চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, হৃদয়ের মাথায় ভারি কোনো বস্তুর আঘাত লেগেছে। এছাড়াও শুভর নাকে ও লালচাঁদের কানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। আমরা যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

    বরগুনা-২ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্জ মিজানুর রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে নৌকার মনোনীত প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান রিমনের সর্মথকরা আমার লোকের উপর হামলা করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে এর ন্যায্য বিচার দাবি করছি। নির্বাচনি পরিবেশ অসহিষ্মু করে তুললে কারও জন্য মঙ্গলজনক হবেনা।

    বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌকার মনোনীত প্রাথী শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, আমার কোনো সমর্থক কারও উপর হামলা করেছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। জাতীয় পার্টির সমর্থকরা মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে প্রচারণায় চালায়, যা নির্বাচনী আচরণববিধির সুষ্পষ্ট লংঘন। মহড়া দিতে গিয়ে হয়ত দূর্ঘটনার শিকার হতে পারে, যা তিনি আমার কর্মীদের উপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন। আমি অত্যন্ত শান্তিপূর্নভাবে আমার নেতা-কর্মীদের প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছি।

    পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হানিফ সিকদার বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ উপস্থিত ছিল। উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তবে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের নিয়ন্ত্রনে উভয়পক্ষ পরবর্তিতে যে যার মত স্থান ত্যাগ করেছে।

  • আমাকে বিজয়ী করা আপনাদেরই দায়িত্ব: রওশন এরশাদ

    আমাকে বিজয়ী করা আপনাদেরই দায়িত্ব: রওশন এরশাদ

    জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে মহাজোটের প্রার্থী রওশন এরশাদ বলেছেন, ‘আপনারা (আ’লীগ) আমাকে মহাজোটের প্রার্থী করেছেন। আমাকে কীভাবে বিজয়ী করবেন, এটা আপনাদেরই দায়িত্ব।’

    শনিবার ময়মনসিংহের সিটি কলেজিয়েট স্কুল প্রাঙ্গণে মহাজোটের যৌথ নির্বাচনী সভায় একথা বলেন তিনি।

    রওশন এরশাদ আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় দল। এক সময় জাতীয়পার্টিও বড় দল ছিল। নানা কারণে এখন আমরা ছোট দল হয়ে গেছি। কিন্তু এই ছোট দলের (জাপা) সহযোগিতা নিয়েই আপনারা বড় দল (আ’লীগ) ক্ষমতায় আছেন, ভালো আছেন।’

    তিনি বলেন, এখন দেশ ভালোভাবে চলছে। উন্নয়ন হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নের লক্ষে ‘নৌকা ও লাঙল’ এর ঐক্য হয়েছে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মহাজোটকে বিজয়ী করতে হবে। সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিজয়ের মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিজয়ের মাসে আমরা জয়লাভ করব ইনশাল্লাহ। আগামীতে উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। এতে উন্নয়নের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত আরও শক্তিশালী হবে।

    মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলমের সভাপতিত্বে যৌথ নির্বাচনী সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত। এসময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমিনুল হক শামীম, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আহমেদসহ জেলা, মহানগর ও উপজেলা আ’লীগ ও জাতীয়পার্টির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • মহান বিজয় দিবস আজ

    মহান বিজয় দিবস আজ

    আজ ১৬ ডিসেম্বর। ৪৮তম মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্য-বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার চিরস্মরণীয় দিন।

    ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে যৌথ বাহিনীর কাছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যালোকে উদ্ভাসিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস। যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যে দিবসটি সাড়ম্বরে উদযাপন করা হয়।

    এবারের বিজয় দিবস উদযাপিত হবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারক-বাহকদের প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে বিজয়ী করার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি উদযাপন করবে।

    বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের আত্মত্যাগের কথা, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সম্ভব হয়।

    আজকের দিনে বিজয়োল্লাসে ভাসবে দেশ, আনন্দে উদ্বেলিত হবে গোটা জাতি। রাজধানী ঢাকা থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বিজয়ের আনন্দ। উৎসবের সমারোহে জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদকে।

    যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপনে এবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রত্যুষে ঢাকার তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের অনুষ্ঠানমালার সূচনা ঘটবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা জানাবেন। বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে।

    দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদক দল বাদ্য বাজাবে।

    দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে।

    এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানানো হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সব শিশু পার্ক ও জাদুঘরগুলো বিনা টিকিটে প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

    বিজয় দিবস উপলক্ষে নৌবাহিনীর নির্ধারিত জাহাজ আজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণ এসব জাহাজ পরিদর্শন করতে পারবেন। ঢাকার সদরঘাট. নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও বরিশালে জাহাজ রাখা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এ বছর ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না। তবে দেশের সব জেলা ও উপজেলা সদরে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যান্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচির আয়োজন করবে। আওয়ামী লীগের দু’দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশের সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন; সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন; সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন; সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আগামীকাল সোমবার বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভায় জাতীয় নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা বক্তব্য দেবেন।

    ১৪ দল আজ থেকে দেশের সব জেলা-উপজেলায় পক্ষকালব্যাপী ‘বিজয় মঞ্চ’ স্থাপন করে নানা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ‘বিজয় মঞ্চে’ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা সভা, বিজয় র‌্যালি, আলোকচিত্র, ডকুমেন্টারি ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার প্রকাশ করা হবে।

    বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সকাল ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। বিএনপির কর্মসূচিতে আরও রয়েছে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকালে শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিজয় শোভাযাত্রা এবং সন্ধ্যায় কার্যালয়গুলোতে আলোকসজ্জা।

    এছাড়া জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, বাসদ, বিকল্পধারা, এলডিপি, গণফোরাম, বাংলাদেশ জাসদ, জেএসডি, গণতান্ত্রিক বাম জোট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ (মার্ক্সবাদী), জাকের পার্টিসহ এসব দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, নজরুল একাডেমি, ছায়ানট, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ এবং গুলশান রানারস সোসাইটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

  • ৩০ তারিখ পর্যন্ত ঘর খালি, রাস্তা ভরাট: রব

    ৩০ তারিখ পর্যন্ত ঘর খালি, রাস্তা ভরাট: রব

    ময়মনসিংহ রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বর থেকে:

    ভোটারদের একটি ভোট খালেদা জিয়ার মুক্তিকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমার ডিকশনারিতে ভয় বলে কিছু নেই। সবেমাত্র ৪ দিন গেছে। এখনো দুই সপ্তাহ বাকি আছে। এরইমধ্যে বেসামাল হয়ে গেছেন। এত ভয়ের কারণ কী? ৩০ তারিখ পর্যন্ত ঘর খালি থাকবে, রাস্তা ভরাট হয়ে যাবে। ৪৬ বছর পর জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করেছেন। এখন শান্তির জন্য ভোট, জালিমের বিরুদ্ধে ভোট।

    ‘আপনার হাতে বুলেট, আমাদের হাতে ব্যালট’ মন্তব্য করে আ স ম আব্দুর রব জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্র ঘেরাও করবেন। স্লোগান দেবেন—আমার ভোট আমি দেবো, আমার ভোটের হিসাব নেবো। ওইদিন ভোটবিপ্লব হবে। রাত ৪টা থেকে লাইন লাগাবেন।

    শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় ময়মনসিংহ নগরীতে পৌঁছে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের সমর্থনে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন রব।

    পথসভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

    বক্তব্যের আগে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব অন্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেন। এর আগে ত্রিশালে পথসভায় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী (ময়মনসিংহ-৭) ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের পক্ষে ভোট চান নেতারা।

    পথসভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে যতগুলো মেগা প্রজেক্ট আছে সবগুলো বহাল থাকবে। কিন্তু খরচ হবে এক-চতুর্থাংশ। তারা যত টাকা চুরি করেছে সব টাকা আদায় করা হবে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, দেশে কোনো শিক্ষিত বেকার থাকবে না। আগামী ২ বছরে কমপক্ষে ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটের চাকরি হবে। নন গ্র্যাজুয়েট ২০ লাখের চাকরির ব্যবস্থা হবে। তিন মাসের মধ্যে কৃষক-শ্রমিকের ওষুধের দাম অর্ধেক হবে। চিকিৎসা খরচ অর্ধেক হবে।

    বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, আর মাত্র ১৫ দিন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর আমরা এই সরকারের দুঃশাসনের পতন ঘটাবো। সারা দেশের জনগণ শত প্রতিকূলতা ঠেলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। কারণ, তারা জানে ধানের শীষ হলো মুক্তির পথ।

    বিএনপির পেশাজীবী সংগঠন ড্যাবের মহাসচিব ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জনগণের পাশে থাকবেন। এই প্রার্থীকে ভোট দিলে ব্যাংক লুট হবে না। ব্যাংকের ভল্টের সোনা তামা হবে না।

    কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, খালেদা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, শেখ হাসিনা সবচেয়ে অপ্রিয় নেত্রী। আপনাদের চিন্তা আছে ভোট নিয়ে নেবে। মানুষ এত ভোট দেবে, চোরেরা চুরি করেও নিতে পারবে না।

    ‘কত নেতা, পাতি নেতা, কত মন্ত্রী কিন্তু ৭১’র ১৬ ডিসেম্বর তাদের কোনো খবর ছিলো না’ উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, এইখানে (মযমনসিংহ) উত্তর দিকে তেলধারায় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার দেখা ও পরিচয় হয়েছিল। আমি খালেদা জিয়ার আগে থেকে জিয়াউর রহমানকে চিনি। আমরা বন্ধু ছিলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমি ও জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছি।

    কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, আমি বীর উত্তম, জিয়াউর রহমানও বীর উত্তম। একটা বীর উত্তম নিহত হয়েছে, আরেকটা বীর উত্তম এখনো জীবিত আছে। একাত্তুরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছিলাম, ২০১৮ সালে ড. কামালের নেতৃত্বে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।

    ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলীর পরিচালনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন দলীয় প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহিলা কেন্দ্রের নেত্রী বেগম নূরজাহান ইয়াসমিন বুলবুল, দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রব রতন আকন্দ, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুব আলম, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা এনামুল হক আকন্দ লিটন, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রোকনোজ্জামান সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • কুতুবদিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন মেজর (অব.) শাহেদ সরওয়ার

    কুতুবদিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন মেজর (অব.) শাহেদ সরওয়ার

    কুতুবদিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনের বিকল্পধারা মনোনিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মেজর (অব.) শাহেদ সরওয়ার। ১৫ ডিসেম্বর ( রবিবার) বিকাল ৪টায় উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, কুতুবদিয়া-মহেশখালীকে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করতে চান। শুধু গুটি কয়েক জায়গায় উন্নয়ন করে মিথ্যে প্রচার করতে নয়, কুতুবদিয়া-মহেশখালী দুটি উপজেলার প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নয়নের মাধ্যমে সর্বস্থরের মানুষের মুখেও হাঁসি ফুটাতে চান তিনি। এ জন্য তিনি সকল স্তরের ভোটারদের কুলা মার্র্কায় ভোট দিয়ে কুতুবদিয়া-মহেশখালীর সমান উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার অহবান জানান। এসময় কুতুবদিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিকল্পধারার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • হিরো আলম পেলেন সিংহ প্রতীক

    হিরো আলম পেলেন সিংহ প্রতীক

    বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম হাইকোর্টের নির্দেশে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার চারদিন পর শনিবার প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ হিরো আলমের হাতে সিংহ প্রতীক তুলে দেন।

    ২ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। আপিল করলে নির্বাচন কমিশন শুনানির পর তা বাতিল করে। মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে সেখানেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। হিরো আলম আদালতে গেলে হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে মনোনয়নপত্র ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর গতকাল শনিবার তার প্রতীক সিংহ তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হিরো আলম শৈশবে চানাচুর বিক্রি করতেন। পরে তিনি সিডি বিক্রি এবং ডিশ সংযোগের ব্যবসা করেন। নিজেই মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ডিশ লাইনে সম্প্রচার শুরু করেন। এভাবে হিরো আলমের তৈরি মিউজিক ভিডিও এবং ইউটিউব সিনেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনায় আসেন। পরে ‘মার ছক্কা’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের ‘বিজু দ্য হিরো’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান।

    ২০১৬ সালে হিরো আলমের সঙ্গে ছবি তুলে ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এ নিয়ে বিবিসি হিন্দি, জি নিউজ, এনডিটিভি, ডেইলি ভাস্কর, মিড-ডের মতো ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে নিয়ে প্রতিবেদন করে। সেখানে হিরো আলমকে বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকা বলে উল্লেখ করা হয়।

    গুগলে কাকে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়, তার একটি তালিকা করে ইয়াহু ইন্ডিয়া। জরিপে দেখা গেছে, ‘সুলতান’ ও ‘দাবাং’ তারকাখ্যাত সালমান খানের চেয়েও বেশিবার খোঁজা হয়েছে হিরো আলমকে। এবারের বাংলাদেশে নির্বাচনেও গুগল সার্চে শীর্ষে রয়েছেন হিরো আলম।

    প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর আশরাফুল আলম বলেন,‌‌ ‘হাইকোর্টের আদেশের পাঁচ দিনের মাথায় অবশেষে সিংহ প্রতীক পেয়েছি। নির্বাচনী মাঠে এখন সিংহের মতোই গর্জন দিতে চাই। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এমপি হতে চাই না, জনগণের জন্য এমপি হতে চাই।’

    হিরো আলম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল খারিজ হওয়ার পর হাইকোর্টে রিট করে গত ১০ ডিসেম্বর প্রার্থিতা ফিরে পাই। হাইকোর্টের দেওয়া আদেশে প্রতীক বরাদ্দ প্রদানে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরদিন আদালতের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপিসহ ‌“সিংহ” প্রতীক বরাদ্দ চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট আবেদন করি। শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে সিংহ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছি।’

  • ভোটকক্ষে ছবি তোলা যাবে, লাইভ নয়: সিইসি

    ভোটকক্ষে ছবি তোলা যাবে, লাইভ নয়: সিইসি

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকক্ষের ভেতরে ফটো তোলা যাবে। কিন্তু সেখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

    শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

    সিইসি বলেন, আচরণ বিধি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিকরা কি কার্যক্রম চালাবেন বা সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা নিয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আচরণ বিধি প্রতিপালন নিয়ে আগামী সপ্তাহ থেকে টেলিভিশনগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রচার হবে।

    কেএম নূরুল হুদা বলেন, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভোটকক্ষের ভেতরে কোনো লাইভ প্রচার করা যাবে না। কেন্দ্রে সীমিত আকারে সাংবাদিকেদের যেতে হবে, যাতে ভোটগ্রহণে কর্মকর্তাদের অসুবিধা না হয়। বাংলাদেশি পর‌্যবেক্ষকদের পাশাপাশি বিদেশিদের জন্যও নীতিমালা আছে। সেগুলো মানতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে বেশিক্ষণ থাকতে পারবেন না। লাইভ সংবাদ প্রচার করতে পারবেন না। তবে, ভোটকক্ষের বাইরে করতে পারবেন।

    সিইসি বলেন, ভোটকক্ষের ভেতরে। ঘরের মধ্যে। কেন্দ্র মানে ঘর। শুধু ঘরের মধ্যে। মাঠ নয়। ঘরে মধ্যে থেকে লাইভ করা যাবে না। গোপন কক্ষের ফটো তোলা যাবে না। বিষয়টি পরিস্কার। তবে, মোবাইল ফোনে ফটো তোলা যাবে।

    যেখানে ভোট পরিচালনা করা হয়, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টরা বসেন, সেখানে লাইভ করা যাবে না। বারান্দায় এসে লাইভ করা যাবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কাজে যেন ব্যাঘাত না হয়, এজন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ভোটকক্ষে যদি ৩০-৪০ জন যান, একসঙ্গে গেলেতো তারা (প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট) কাজ করতে পারবেন না। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার ব্যবস্থাপনার ওপর রেসপ্যাক্ট থাকতে হবে। তার কথা মানতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ভোটকক্ষের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। তবে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

    আচরণ বিধি ভঙ্গের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছি ১২২টি। তাদের কাছে অভিযোগ করলে ভালো হয়। নির্বাচনের দায় দায়িত্ব বেশিরভাগ রিটার্নিং কর্মরকর্তাদের হাতে। এছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আছে। তাদের কাছেও অভিযোগ দেওয়া যাবে।

    বিরোধী দলগুলোর ওপর পুলিশি হামলা ও হয়রানির বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মহাপুলিশ পরিদর্শককে কাল-পরশুর মধ্যেই চিঠি দেবো। যেন নিষ্পপ্রয়োজনে কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর কর্মীদের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকলে যেন হয়রানি, গ্রেফতার না করা হয়।

    নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে বলেও মনে করার কথা জানান সিইসি। তিনি বলেন, প্রার্থীরা প্রচার কাজ চালাতে পারছে। আমি মনে করি লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে।

    সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে কেএম নূরুল হুদা বলেন, সেনাবাহিনী সিআরপিসি (ফৌজদারি কার্যবিধি) অনুযায়ী পরিস্থিতি বিবেচনায় আটক করতে পারবে। তবে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।

    এ সময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুবু তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

  • মহাজোটের বাইরে জাপার দেড় শতাধিক আসনে মনোনয়ন দেওয়া আমাদের রাজনৈতিক কৌশল: কাদের

    মহাজোটের বাইরে জাপার দেড় শতাধিক আসনে মনোনয়ন দেওয়া আমাদের রাজনৈতিক কৌশল: কাদের

    আগের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে যেভাবে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের প্রার্থীরা ভোট না করেই জাতীয় সংসদে এসেছিলেন, এবার যাতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার ‘কৌশলের অংশ হিসেবেই’ মহাজোটের বাইরে গিয়ে শরিক দল জাতীয় পার্টি উল্লেখযোগ্য আসনে নির্বাচন করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহাজোটের বাইরে জাপার দেড় শতাধিক আসনে মনোনয়ন দেওয়াটা আমাদের রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে গেলে, যাতে গত নির্বাচনের মতো এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে না হয়, এ কারণেই এ ব্যবস্থা। এটা কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়।’

    এবার একাদশ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নির্বাচন করছে। মহাজোটগতভাবে জাতীয় পার্টিকে ২৭টির মতো আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগের বা নৌকা মার্কার কোনো প্রার্থী নেই। তবে এর বাইরে আরো প্রায় দেড়শ আসনে নিজের প্রার্থী রেখে দিয়েছেন এইচ এম এরশাদ। মহাজোটভুক্ত বা দলীয় সব প্রার্থীই লাঙ্গল মার্কায় নির্বাচন করবে।

    মহাজোটে জাতীয় পার্টির আসন বণ্টন নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশাপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সেটি চলতে থাকে। প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন রাতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর চলে যান। পার্টির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে তাঁর দল সন্তুষ্ট নয়, তবে মহাজোটের স্বার্থে তাঁরা এটা মেনে নিয়েছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এর পরেই সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চলমান ভোটের পরিবেশ নিয়েই কথা বলেন। সে প্রসঙ্গে আসে বিএনপির প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়া বা তাদের ওপর হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গেও।

    বিএনপির প্রচারে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির অবস্থা শক্তিশালী হলে কোনো বাধাই তাদের আটকাতে পারবে না। অবস্থা দুর্বল বলেই তারা মাঠে নামতে ভয় পায়।’

    নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও বিএনপির অভিযোগ রয়েছে। ভোটের মাঠে সেটি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশন ভালো বলতে পারবে।’

    বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন, তফসিল ঘোষণার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাদের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকেও হয়রানি করা হচ্ছে।

    এ অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের উত্তর দেন, ‘এটার জন্য আমরা দায়ী নই। এটার জন্য তারাই ( বিএনপি) দায়ী।’

  • ৮৩ হিন্দু পাকিস্তানিকে নাগরিকত্ব দিল ভারত

    ৮৩ হিন্দু পাকিস্তানিকে নাগরিকত্ব দিল ভারত

    পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসা ৮৩ জন হিন্দুকে নাগরিকত্ব দিয়েছে ভারত সরকার।

    ওইসব হিন্দুরা গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময় পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন।

    গতকাল (শুক্রবার) ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব সনদ তুলে দেন স্থানীয় প্রাদেশিক পরিষদের সাংসদ বলরাম থাওয়ানি ও জেলা কালেক্টর ভিক্রান্ত পাণ্ডে।

    ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী তাদের হাতে এ নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেয়া হয়।

    তারা গত এক বছরের বেশি সময় যাবত দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা নিয়ে দেশটিতে বসবাস করছিলেন। কর্মকর্তাদের বরাতে এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দ্য ইকোনমিক টাইমস।

    যাদের নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে তাদের বেশিরভাগই ভারতের মহেশ্বরী ও সিন্ধি সম্প্রদায়ের মানুষ।

    এ বিষয়ে কালেক্টর ভিক্রান্ত পাণ্ডে সাংবাদিকদের বলেন, নাগরিকত্ব আইনের ধারা অনুযায়ী সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

    গত দুই বছরে আহমেদাবাদে এরকম মোট ৪১৯ জন সংখ্যালঘু হিন্দু ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

    এ সময় তিনি জানান, ২০১৬ সালে কুচ, আহমেদাবাদ ও গান্ধিনগর এই তিন জেলার কালেক্টরদেরকে বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে ভারত সরকার।

    সে ক্ষমতা বলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘু হিন্দুদেরকে তারা নাগরিকত্ব প্রদান করতে পারবেন।

  • ড. কামালের গাড়িবহরে হামলার তদন্ত করে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ড. কামালের গাড়িবহরে হামলার তদন্ত করে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের গাড়িতে হামলাকারীদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘বিজয়ের পতাকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ থেকে ফেরার পথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের গাড়িতে হামলার একটি জিডি হয়েছে।

    হামলায় ড. কামালকে বহনকারী গাড়ীটির একটি কাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

    মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদে দুটি আসন পাওয়ার জন্য খুনি রাজাকারদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনসহ অন্যরা হাত মিলিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে এই হাত মেলানোকে ‘খুব জঘন্য’ ব্যাপার বলেও মনে করেন তিনি।

    সারাদেশে ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, নতুন করে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। সুনিদিষ্ট অভিযোগ ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করছে পুলিশ।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পতাকার ডিজাইনার শিব নারায়ণ দাস, বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।