Blog

  • বাবলার লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চাইলেন মেয়র খোকন

    জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার পক্ষে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চাইলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। এ সময় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদও লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চান।

    বৃহস্পতিবার বিকালে শ্যামপুর বালুর মাঠে ঢাকা-৪ নির্বাচনি এলাকার আওয়ামী লীগ ও জাপার যৌথ কর্মী সমাবেশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বাবলাকে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশকে অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে নৌকা ও লাঙ্গল এক হয়েছে। দেশরক্ষায় আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছি। আমরা যদি জয়ী হতে না পারি তাহলে বিএনপি-জামায়াত জোট রাষ্ট্রে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে। এরা জয়ী হতে পারবে না জেনেই নানা অজুহাত সৃষ্টি করছে নির্বাচন বানচাল করার জন্য।

    মেয়র খোকন বলেন, বাবলা ভাই অত্র এলাকায় অনেক কাজ করেছেন। আগামীতে তাকে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিলে এলাকায় আরও ব্যাপক উন্নয়ন হবে এবং মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। সমাবেশে বাবলা ছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন, মোবারক হোসেন, তাইজুল ইসলাম তাজু, স্থানীয় চার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেন, কাজী হাবিবুর রহমান, হাজী মাসুদ, নাসির ভূইয়া প্রমুখ।

    এর আগে সকালে বাবলার স্ত্রী আসমা হোসেন মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মীর হাজীরবাগ, পশ্চিম ধোলাইপাড় আলম মার্কেটে বাবলার পক্ষে প্রচারণা চালান। দুপুরে বাবলা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে ফরিদাবাদ, মুরাদপুর, ঢাকা ম্যাচ কারখানা ও মোহাম্মদবাগে মিছিল করেন।

  • দলকে নয় গণতন্ত্রকে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত

    দলকে নয় গণতন্ত্রকে সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত

    কোনো প্রার্থী বা দল নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পর্যবেক্ষক পাঠানোর পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সকল প্রকার সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার।

    মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রদূত পর্যবেক্ষক পাঠানো প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠাবে। সব দল যেন অবাধে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সবাই যেন নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ পায়, সভা সমবেশের সুযোগ পায় সে দিকেও নজর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

    মিলার বলেন, ইসির সঙ্গে নির্বাচনী সামগ্রিক পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কি ভাবনা সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    গত মাসে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঢাকায় আসেন আর্ল রবার্ট মিলার। সদ্য সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বিদায় নেয়ার আগেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মিলারের নাম ঘোষণা করেন।

    এরপর গত ১৩ অক্টোবর মার্কিন সিনেটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন পান আর্ল রবার্ট মিলার। বাংলাদেশে আসার আগে আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মিলার।

  • ২৪ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনী: ইসি

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    বুধবার সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের এই তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানি ও মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বিব্রত। তিনি বলেন আর কোনো অঘটন কাম্য নয়।

    বুধবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রিটদের তৃতীয় দিনের এবং শেষ দিনের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি কেএম নূরুল হুদা।

    সিইসি বলেন, মঙ্গলবার নির্বাচনী সহিংসতায় দুটো তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। এ খবর আমাদেরকে খুবই মর্মাহত করেছে। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে যা একেবারেই অনাকাংখিত। এই দুই ঘটনা আমাদেরকে বিব্রত করেছে।

    তিনি বলেন, আমি মনে করি আর কোথাও এমন ঘটনা ঘটবে না। আর কোন অঘটন কাম্য নয়।

    এর আগে সোমবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও জনসভায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    সংঘর্ষের ঘটনায় ২জন নিহত এবং আরও বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

    মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের গাড়িতেও হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

    ঠাকুরগাঁও ও নরসিংদী ছাড়াও মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এসব ঘটনায় সিইসি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আর কোন অঘটন কাম্য নয়। তিনি মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলাসহ সকল হামলার ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

  • বড় জয় পাবে আওয়ামী লীগ: ইআইইউ প্রতিবেদন

    বড় জয় পাবে আওয়ামী লীগ: ইআইইউ প্রতিবেদন

    আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টের অধিকাংশ আসনে জয় লাভ করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে লন্ডন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত তাদের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রতিবেদন অনুসারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশের মানুষ আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবে। সেখানে দেওয়া পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি বেড়ে গড়ে ৭.৭ করে থাকবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সার্বিক বিনিয়োগে স্থিতাবস্থা থাকবে বলেও তারা জানায়।

    এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় বেশ কিছু মতামত জরিপে শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেতা।

    সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অসাধারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধী দলের পিছিয়ে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। আর সে কারণেই বিএনপি বা আরও বড় পরিসরে দেখলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

    এ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যক্তিগত খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের আরও একবার নির্বাচনে জয়ী হওয়া আবশ্যক। এ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ তার নিকটতম প্রতিবেশী ভারত, চীন ও জাপানের সহায়তায় অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তেমন নেই। রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের এই টানপোড়েন আরও চলবে বলে উল্লেখ করা হয়। ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রসঙ্গে:

    লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) বিশ্বব্যাপী জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিগত ৬০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশের ব্যবসার উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং রাজনীতির ট্রেন্ড, সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং কর্পোরেট প্রাকটিসের বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। চারভাবে ইআইইউ তাদের তথ্য প্রকাশ করে থাকে: এর ডিজিটাল পোর্টফলিও যেখানে নিয়মিত নতুন পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়; গ্রাহকদের জন্য প্রিন্ট করা নিউজ লেটারের মাধ্যমে যেখানে বার্ষিক কাজের বিবরণী থাকে; গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে এবং সেমিনার ও প্রেজেন্টেশন আয়োজনের মাধ্যমে। এ‌ই প্রতিষ্ঠানটি ইকোনমিস্ট গ্রুপের সদস্য।

    ইকনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনের মতই ওয়াশিংটনভিত্তিক রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদনে এগিয়ে রাখা হয় বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। এ বছরের ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মে’র মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে বলা হয়, দেশের ৬৬ ভাগ মানুষ সমর্থন জানিয়েছে শেখ হাসিনার প্রতি এবং ৬৪ ভাগ জনগণ এখনও সমর্থন করছে আওয়ামী লীগকে। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ ভাগ নাগরিক। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইট অ্যান্ড সার্ভের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ৩০ আগস্ট এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    গবেষণা প্রতিবেদনের নোটে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ ভাগ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ ভাগ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে। সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জন সন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারি সেবায় সন্তুষ্ট ৬৭ ভাগ মানুষ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৪ ভাগ নাগরিক। এ ছাড়া সড়ক ও ব্রিজের উন্নয়নের প্রভাব নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬১ ভাগ নাগরিক।

    এর আগে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে করা ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং রিসার্চ ডেভলোপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি)-র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় বর্তমান সরকারের অধীনে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন দেশের অধিকাংশ নাগরিক। এই জরিপে অংশ নেওয়া ৬৪ ভাগ উত্তরদাতা তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে বলে মত দিয়েছেন। পূর্ববর্তী জরিপ গবেষণায় ব্যবহৃত ২৫ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের ‘টেলিফোন ব্যাংক’ থেকে এই ১০০৫ জনের সঙ্গে টেলিফোন-ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে জরিপ পরিচলানা করা হয়।

    এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের রিপোর্ট অনুসারে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ৭ দশমিক ১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বিগত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিগত ৬ বছর ধরে বাংলাদেশ শতকরা ৬ ভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে।

    এই গবেষণায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে কিনা? এর উত্তরে ৬৮ দশমিক ৬ ভাগ উত্তরদাতা জানিয়েছে, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ১৩ দশমিক ৭ ভাগ মত দিয়েছেন, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে না।

    এর আগে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের (আইআরআই) চালানো জনমত জরিপে প্রায় কাছাকাছি ফল পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আইআরআই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৬৪ ভাগ উত্তরদাতা জানিয়েছিল, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ ও ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) সম্মেলিতভাবে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। সেখান থেকে জানা যায়, যুব সমাজের ৭৫ ভাগ মনে করে, আগামী ১৫ বছরের মধ্যে দেশ আরও সমৃদ্ধশালী হবে। তাদের ৬০ ভাগ মনে করে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    ইন্ডিপেন্ডেন্ট-আরডিসি পরিচালিত গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশের সবচাইতে বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭২ দশমিক ৩ ভাগ উত্তরদাতা শেখ হাসিনা সম্পর্কে ভাল মত প্রদান করেছেন, পক্ষান্তরে বিএনপি’র দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ভাল মত প্রদান করেছেন মাত্র ২৬ দশমিক ৬ ভাগ উত্তরদাতা। এদিকে, ২০১৫ সালে প্রকাশিত আইআরআই এর পৃথক এক জরিপ অনুসারে ৬৭ ভাগ মানুষ আস্থা রাখেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

    এদিকে যুব সমাজের মধ্যে বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এখনও অনেক বেশি। বিশেষত ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৫৫ দশমিক ৪ ভাগ উত্তরদাতা আওয়ামী লীগের পক্ষে ‘ভাল’ মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে ‘ভাল’ মত প্রদান করেছেন মাত্র ২০ দশমিক ৮ ভাগ। এই বয়সীদের মাত্র ২ দশমিক ৫ ভাগ আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ‘খারাপ’ মত প্রকাশ করেছেন, পক্ষান্তরে বিএনপির ক্ষেত্রে ‘খারাপ’ মত প্রকাশ করেছেন ১৩.৮ ভাগ উত্তরদাতা। এই জরিপ অনুসারে, কাকে ভোট দেবেন জানতে চাইলে ৩৫ দশমিক ৮ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দেবে বলে জানায়, অন্যদিকে বিএনপির পক্ষে সমর্থন জানায় মাত্র ৩ দশমিক ৪ ভাগ যুবক।

    শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ করে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে সূচকে ভারতসহ অন্যান্য দেশের অবদান যেখানে ৩০-এর কোটায়, সেখানে বাংলাদেশের অবদান ৫০-এর ওপরে। ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে স্বপ্রণোদিত অঙ্গীকার ও প্রতিপালন’ শীর্ষক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

    জলবায়ুর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে দুর্নীতি মুকাবিলায় দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। জার্মানির বার্লিন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনালের জরিপে ২০১৭ সালে দুর্নীতি হ্রাসে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩ তম। বাংলাদেশ ১০০ এর মধ্যে এ বছর স্কোর করেছে ২৮। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৫ তম, স্কোর ছিল ২৬। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সালে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

    অন্যদিকে, লিঙ্গ সমতা সূচকে এশিয়ায় বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব লিঙ্গ সমতা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এশিয়ার শীর্ষ ১০ দেশে বাংলাদেশ ছাড়া ঠাঁই পেয়েছে মিয়ানমার। ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক আর্টিকেলে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব লিঙ্গ বৈষম্য সূচকে ২৫ ধাপ উন্নতি করে ৭২তম অবস্থান থেকে ৪৭তম অবস্থানে চলে এসে বিশ্বকে অবাক করে দেয় বাংলাদেশ। লিঙ্গ সমতা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর শূন্য দশমিক ৭১৯ (০.৭১৯)। যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। ১০৬ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালদ্বীপ।

    ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বে দ্রুততম সময়ে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গ সমতায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ তার লিঙ্গ বৈষম্যে ৭২ ভাগ নিরসন করতে সক্ষম হয়েছে। অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং আয়ের সম সুযোগ লাভ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে দারুণভাবে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

    সুতরাং, বোঝাই যাচ্ছে সামগ্রীকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর সে কারণেই জরিপগুলোতে এগিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

  • এক নজরে এইচএসসির ফরম পূরণের ফি

    এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি বাবদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৪৫০ টাকা দিতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ১ হাজার ৮৯০ টাকা। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ফি নির্ধারণ করেছে  ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাকে  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নির্ধারিত ফি’র বাইরে ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা আদায় না করার নির্দেশ দিয়ে বোর্ড থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

    বোর্ডের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া ২ হাজার ৪৫০ টাকার মধ্যে বোর্ডকে ১ হাজার ৬৯৫ টাকা দিতে হবে। আর ব্যবহারিক পরীক্ষাসহ কেন্দ্র ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫৫ টাকা।

    অপর দিকে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৮৯০ টাকার মধ্যে বোর্ড ফি ১৪৯৫ টাকা এবং কেন্দ্র ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯৫ টাকা। তবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোন পরীক্ষার্থীর ৪র্থ বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে তাকে অতিরিক্তি ১৪০ টাকা ফি বাবদ পরিশোধ করতে হবে।

    এছাড়া মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোন পরীক্ষার্থীর অনৈর্বাচনিক বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে তাকে বিষয় প্রতি আরও ১৪০ টাকা করে ফি জামা দিতে হবে বলে দৈনিক শিক্ষাকে জানিয়েছেন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

    জানা গেছে, ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পত্রপ্রতি ১০০ টাকা, ব্যবহারিকের ফি বাবদ পত্রপ্রতি ২৫ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের ফি বাবদ পরীক্ষার্থী প্রতি ৫০ টাকা, মূল সনদ বাবদ শিক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা, বয়েজ স্কাউট ও গার্লস গাইড ফি বাবদ ১৫ টাকা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা করে অনিয়মিত ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • ঘুম থেকে উঠেই কাচা ছোলা খাওয়ার ১৫ স্বাস্থ্য উপকারিতা

    ঘুম থেকে উঠেই কাচা ছোলা খাওয়ার ১৫ স্বাস্থ্য উপকারিতা

    কাঁচা ছোলার গুণ সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আমিষ প্রায় ১৮ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট প্রায় ৬৫ গ্রাম, ফ্যাট মাত্র ৫ গ্রাম, ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ প্রায় ১৯২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ ও বি-২ আছে।

    ছোলায় বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে।

    উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছোলা। কাঁচা, সেদ্ধ বা তরকারি রান্না করেও খাওয়া যায়। কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে একই সঙ্গে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিক যাবে। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায়। আর অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। জেনে নিন ছোলার কিছু স্বাস্থ্যগুণের কথা

    ১. ডাল হিসেবে: ছোলা পুষ্টিকর একটি ডাল। এটি মলিবেডনাম এবং ম্যাঙ্গানিজ এর চমৎকার উৎস। ছোলাতে প্রচুর পরিমাণে ফলেট এবং খাদ্য আঁশ আছে সেই সাথে আছে আমিষ, ট্রিপট্যোফান, কপার, ফসফরাস এবং আয়রণ।

    ২. হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে: অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা দেখিয়েছেন যে খাবারে ছোলা যুক্ত করলে টোটাল কোলেস্টেরল এবং খারাপ কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমে যায়। ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ আছে যা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। আঁশ, পটাসিয়াম, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন বি-৬ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এর ডাল আঁশসমৃদ্ধ যা রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৪০৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায় হৃদরোগ থেকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৯% কমে যায়।

    ৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে: আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখানো হয় যে যে সকল অল্পবয়সী নারীরা বেশি পরিমাণে ফলিক এসিডযুক্ত খাবার খান তাদের হাইপারটেনশন এর প্রবণতা কমে যায়। যেহেতু ছোলায় বেশ ভাল পরিমাণ ফলিক এসিড থাকে সেহেতু ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এছাড়া ছোলা বয়সসন্ধি পরবর্তীকালে মেয়েদের হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে।

    ৪. রক্ত চলাচল: অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা প্রতিদিন ১/২ কাপ ছোলা, শিম এবং মটর খায় তাদের পায়ের আর্টারিতে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। তাছাড়া ছোলায় অবস্থিত আইসোফ্লাভন ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্টারির কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ।

    ৫. ক্যান্সার রোধে: কোরিয়ান গবেষকরা তাদের গবেষণায় প্রমাণ করেছেন যে বেশি পরিমাণ ফলিক এসিড খাবারের সাথে গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা কোলন ক্যান্সার এবং রেক্টাল ক্যান্সার এর ঝুঁকি থেকে নিজিদেরকে মুক্ত রাখতে পারেন। এছাড়া ফলিক এসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে এ্যজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়।আর তা্ই নিয়মিত ছোলা খান এবং সুস্হ থাকুন।

    ৬. রমজানে: রমজান মাসে ইফতারের সময় জনপ্রিয় খাবার হলো ছোলা। আমাদের দেশে ছোলার ডাল নানাভাবে খাওয়া হয়। দেহকে করে দৃঢ়, শক্তিশালী, হাড়কে করে মজবুত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এর ভূমিকা অপরিহার্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

    ৭. কোলেস্টেরল: ছোলা শরীরের অপ্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরও আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

    ৮. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: ছোলায় খাদ্য-আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালী অতিক্রম করতে থাকে। তাই পায়খানার পরিমাণ বাড়ে এবং পায়খানা নরম থাকে।

    ৯. ডায়াবেটিসে উপকারী: ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে: প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভাল। প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম, ও ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া আছে ভিটামিন বি-১, বি-২, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম। এর সবই শরীরের উপকারে আসে।

    ১০. যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে: যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শ্বাসনালিতে জমে থাকা পুরোনো কাশি বা কফ ভালো হওয়ার জন্য কাজ করে শুকনা ছোলা ভাজা। ছোলা বা বুটের শাকও শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। প্রচুর পরিমাণে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ রয়েছে এই ছোলায় ও ছোলার শাকে। ডায়াটারি ফাইবার খাবারে অবস্থিত পাতলা আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তাই শুধু রমজান মাস নয়, ১২ মাসেই ছোলা হোক আপনার সঙ্গী।

    ১১. রক্তের চর্বি কমায়ঃ ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড। এই ফ্যাট শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়, বরং রক্তের চর্বি কমায়।

    ১২. অস্থির ভাব দূর করেঃ ছোলায় শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম থাকায় শরীরে প্রবেশ করার পর অস্থির ভাব দূর হয়।

    ১৩. রোগ প্রতিরোধ করেঃ কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যে কোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

    ১৪. জ্বালাপোড়া দূর করেঃ সালফার নামক খাদ্য উপাদান থাকে এই ছোলাতে। সালফার মাথা গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া কমায়।

    ১৫. মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করেঃ এছাড়াও এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ কমায় মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা।

    ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। এতে আমিষ মাংস বা মাছের পরিমাণের প্রায় সমান। তাই খাদ্যতালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংসের প্রয়োজন পরে না। ত্বকে আনে মসৃণতা। কাঁচা ছোলা ভীষণ উপকারী। তবে ছোলার ডালের তৈরি ভাজা-পোড়া খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। তাই হজমশক্তি বুঝে ছোলা হোক পরিবারের শক্তি।

  • মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ

    মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ

    সোনারগাঁ (যুগের চিন্তা ২৪) : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার মনোনীত মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

    মঙ্গলবার সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে উপজেলা আওয়ামীলীগের এক বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু মঙ্গলবার সকালে জামপুর ইউনিয়নের কোবাগা এলাকায় কর্মী সভার মাধ্যমে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ও নারায়ণগঞ্জের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী।

    উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক দেওয়ান উদ্দিন চুন্নু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু সিদ্দিক মোল্লা, বারদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কাঁচপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ ওমর, নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পিরোজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, জামপুর ইউপি চেয়ারম্যান হামীম শিকদার শীপলু, বৈদ্যেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রউফ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সনমান্দী ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহ, উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সোহেল রানা, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনী, সনমান্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী ইসহাক মিয়া, সনমান্দী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হাজী শাহাবুদ্দিন সাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বাবুল, আব্দুল বাসেত মেম্বার, আব্দুল বাতেন ও সামসুদ্দিন খাঁন আবুসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    বর্ধিত সভা শেষে মহাজোটের প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান এবং তাদেরকে সাথে নিয়েই আজীবন সোনারগাঁয়ের উন্নয়নে কাজ করার আশা ব্যক্ত করেন। এছাড়া গত ৫ বছর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোন ভুল-ত্রুটি করে থাকলে সেজন্য ক্ষমা প্রার্থণা করেন।

    এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের নেত্রী হলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সোনারগাঁয়ে মহাজোটের প্রার্থী দিয়েছেন। আমরা তার সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবো।

    আমি মহাজোটের প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবো এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবে উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম।

  • জেনে নিন রাতের খাবার দেরীতে খেয়ে যে বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন আপনি

    জেনে নিন রাতের খাবার দেরীতে খেয়ে যে বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন আপনি

    রাতে দেরী করে ঘুমোতে যাওয়ার অভ্যাস রয়েছে? নানা কারণেই রাতের খাবারের সময়সীমা পিছোতে থাকে? জানেন কি অজান্তেই কত বড় বিপদ ডাকছেন? গবেষণা বলছে, যাঁরা ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত দু’ঘণ্টা আগে নৈশভোজ সারেন তাঁরা ব্রেস্ট ও প্রস্টেট ক্যানসারের ছোবল থেকে নিরাপদেই থাকেন।

    বলা বাহুল্য, আগেভাগেই রাত নামে গ্রামাঞ্চলে। তাই বাসিন্দাদের রাতের খাবার পর্ব সম্পন্ন হয় প্রায় ন’টার মধ্যেই। তাই গ্রামবাসীর মধ্যে এখনও থাবা বসাতে পারেনি প্রস্টেট ক্যানসার ও ব্রেস্ট ক্যানসারের মতো মারণ রোগ।

    এমনিতেই কর্কট রোগ গোটা বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের আবহ তৈরি করে রেখেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত চিকিৎসা সহায়তা দিয়েও কর্কট রোগের ছোবল থেকে রোগীকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

    রোগের শুরুতে ধরা পড়লেও চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অনেকে। ভাগ্যবানরা লড়াই করে নতুন জীবন ফিরে পান। তবে সেই সব ভাগ্যবানদের সংখ্যাটাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    তাই ক্যানসার রুখতে রোগের প্রবনতাকেই রুখে দিতে চাইছেন চিকিৎসকরা। গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিদিন প্রস্টেট ক্যানসার ও ব্রেস্ট ক্যানসারের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে।

    এই ভয়াবহতা রুখতেই নারী ও পুরুষের উপরে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। সেই সমীক্ষা রিপোর্টেই দেখা গিয়েছে ৮৭২জন পুরুষের মধ্যে ৬২১ জন প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত। একইভাবে ১,৩২১ জন মহিলার মধ্যে ১.২০৫ জন মহিলা ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত।

    আক্রান্ত পুরুষ-মহিলার দৈনন্দিন খাদ্যাভাসের মূল্যায়ন করে দেখা গিয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগের খাবার সময়ের কোনও সামঞ্জস্য নেই। নৈশভোজের সময় আসতে আসতে প্রায় মধ্যরাত হয়ে যায়।

    অনেকে কর্পোরেট সেক্টর ও বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার জন্য রাতের শিফটে অফিসে থাকেন। তাঁরা সাধারণত রাত করেই খাওয়াদাওয়া সারেন।

    কিন্তু রাত ন’টার আগে যারা খেয়ে নেন তাঁরাই এক্ষেত্রে নিারপদ জোনে রয়েছেন। বাকিদের উপর থেকে কিন্তু কর্কট রোগের ভ্রুকুটি এখনই যাচ্ছে না। তাই রাতে যতক্ষণই কাজ করুন না কেন ন’টার আগে নৈশাভোজ সারার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • ১ ডলার ঘুষ খাওয়ায় ৫ বছরের জেল ও ১ লাখ ডলার জরিমানা

    ১ ডলার ঘুষ খাওয়ায় ৫ বছরের জেল ও ১ লাখ ডলার জরিমানা

    এক ডলার ঘুষ খাওয়ার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে দুজন চীনা অভিবাসী শ্রমিকের বিচার চলছে। এই অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ১ লাখ সিঙ্গাপুরীয় ডলার বা উভয় দণ্ড হতে পারে। অর্থাৎ, বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ৬১ টাকা ঘুষ নেওয়ায় তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে আরও ৬১ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

    চেন জিলিয়াং (৪৭) এবং ঝাও ইউচুন (৪৩) নামের এই দুই চীনা শ্রমিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা ফর্কলিফট ট্রাক ড্রাইভারদের দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য এক ডলার করে ঘুষ নিয়েছিলেন।দুর্নীতির বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরের শক্ত অবস্থান শুধু এশিয়াতেই নয় সারাবিশ্বেই সমাদৃত। সেই খ্যাতির নজির আবারো গড়ল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই নগররাষ্ট্রটি।

    ধারণা করার কোনো কারণ নেই যে মধ্যপ্রাচ্যের মতো, সিঙ্গাপুরেও প্রবাসী শ্রমিকদের জন্যেই শুধু কঠোর আইন। সিঙ্গাপুরের আইন সবার জন্যে, আসলেই সবার জন্যে সমান। একদা তৃতীয় বিশ্বের একটি জেলে পল্লীকে যে মানুষটি প্রথম বিশ্বের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তিনি লি কুয়ান ইউ। আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক। ‘আইন সবার জন্যে’- এর একটি ঘটনা উল্লেখ করার মতো।

    তিনি ছিলেন লি কুয়ান ইউ’র ঘনিষ্ঠজন- বন্ধু, মন্ত্রিসভার সদস্য। তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তদন্ত করতে শুরু করে ‘করাপ্ট প্র্যাকটিসেস ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’।বন্ধু হিসেবে তিনি লি কুয়ান ইউ’র কাছে গিয়ে আর্জি জানালেন ‘তদন্ত যেন না হয়’।

    কিন্তু তদন্ত চলেছে তার নিজস্ব গতিতে। তদন্ত চলাকালীন আত্মহত্যা করেন মন্ত্রিসভার সেই সদস্য। তদন্তে প্রমাণিত হয় ৮০ হাজার ডলার তিনি ঘুষ নিয়েছিলেন।এই ঘটনার পর সিঙ্গাপুরের ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে দেখা যায়নি। সিঙ্গাপুরকে কঠোর শাসন এবং প্রায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন কুয়ান ইউ। সেই ধারা চলছেই।

    চেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি ট্রাকচালকের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ১ ডলার করে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন যাতে তার ট্রাকে কন্টেইনার তুলতে দেরি না হয়। দুই বছর আগেও চেন এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।অপরদিকে, একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত অপর শ্রমিক ঝাও।

    চলমান এই বিচারের ঘটনা উল্লেখ করে সিঙ্গাপুরের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা বলেছে, ‘কর্মচারীদের নিজেদের কাজ সুন্দরভাবে করা উচিত। সেই কাজের জন্যে ঘুষ নেওয়া উচিত নয়।’এমনকি, সেই ঘুষের পরিমাণ যদি ১ সিঙ্গাপুরীয় ডলারও হয়।… কোনো রকমের ঘুষ নেওয়া সহ্য করা হবে না।’বার্লিন-ভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের হিসাবে সিঙ্গাপুর হচ্ছে পৃথিবীর সপ্তম কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ।

  • ঐক্যফ্রন্টের ৪৭ প্রার্থী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি!

    ঐক্যফ্রন্টের ৪৭ প্রার্থী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি!

    বিএনপি, জামাত ও ঐক্যফ্রন্টের ৪৭ জন প্রার্থীর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে আজ সোমবার এই ৪৭ প্রার্থীর তালিকা পাঠিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের নীতি মেনে চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এটাই মনে করে, যেসব ব্যক্তি কিংবা দল সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সে বা তারা কখনোই গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক হতে পারেনা। বরং গণতন্ত্রের জন্য বিপদজনক তারা। এ পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ বিএনপি তাদের যে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে তাদের মধ্যে বাছাই করা ৪৭ জনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

    এছাড়াও দূতাবাস ড. কামাল হোসেনের কাছে এই তালিকা পাঠিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তিনি যেন এই ৪৭ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করেন। পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও যেন তাদের পক্ষে নির্বাচনের মাঠে কাজ না করেন।

    মার্কিন দূতাবাস যে ৪৭ প্রার্থীর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে তাদের মধ্যে ২২ জনই জামাতের প্রার্থী। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তারা। পাশাপাশি আছেন অনেক বিএনপি নেতারাও। এদের মধ্যে আছেন, দিনাজপুর-১ আসনের জামাত নেতা মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনের জামাত নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের জামাত নেতা আবদুল হাকিম, নীলফামারী-৩ আসনে জামাত নেতা মো. আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে জামাত নেতা মাজেদুর রহমান, জয়পুরহাট-১ আসনে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি নেতা শাহজাহান মিয়া, নওগাঁ-১ আসনে বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপি নেতা আলমগীর কবির, রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি নেতা আমিনুল হক, রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপি নেতা নাদিম মোস্তফা, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে জামাত নেতা রকিবুল ইসলাম খান, পাবনা-৩ আসনে জামাত নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, পাবনা-৫ আসনে জামাত নেতা ইকবাল হোসেন, জামালপুর-১ আসনে বিএনপি নেতা রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শেরপুর-২ আসনে বিএনপি নেতা ফাহিম চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি নেতা আলী আজগর, ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন, ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিএনপি নেতা খুররম খান চৌধুরী, ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-১৫ আসনে জামাত নেতা শফিকুর রহমান, রাজবাড়ী-১ আসনে আ. নে. মাহমুদ খৈয়াম, রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপি নেতা নাসিরুল হক, মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণ, ঝিনাদহ-৩ আসনে জামাত নেতা মতিয়ার রহমান, যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মুফতি ওয়াক্কাস, বাগেরহাট-৪ আসনে জামাত নেতা আব্দুল আলীম, খুলনা-৫ আসনে জামাত নেতা গোলাম পরওয়ার, সাতক্ষীরা-২ আসনে জামাত নেতা আব্দুল খালেক, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি নেতা শাহিনুর পাশা চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

    এদের বিরুদ্ধে মোটা দাগের ৫ টি অভিযোগ এনেছে মার্কিন দূতাবাস। সেগুলো হলো:

    ১. এরা গণতন্ত্র চর্চায় বিশ্বাসী না।

    ২. দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে এরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত।

    ৩. আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এরা জঙ্গি অর্থায়নসহ নানাভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাহায্য নেবে বলে ধারণা করছে মার্কিন দূতাবাস।

    ৪. এরা যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো মদদ পাবে এবং জঙ্গি কার্যক্রমে উৎসাহিত হবে বলে মনে করছে মার্কিন দূতাবাস।

    ৫. আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে এদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা আছে।

    উল্লিখিত ৫ টি কারণের জন্য বিএনপি, জামাত ও ঐক্যফ্রন্টের ৪৭ জন প্রার্থীর ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের কাছে আপত্তি জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। অবশ্য ড. কামাল হোসেন এ ব্যাপারে কি প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন তা জানা যায়নি।