Blog

  • ঢাকা-১ আসনে জমে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই

    ঢাকা-১ আসনে জমে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই

    প্রতিবার নির্বাচনের একেবারে শেষ মুহূর্তে কিছু জমজমাট নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও এর ব্যতিক্রম নয়। নির্বাচনী আসনগুলোতে চূড়ান্তভাবে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সেটা নিশ্চিত হয়েছে নানা সংশয় ও নাটকীয়তার পর। ঢাকা-১ আসনও এর ব্যতিক্রম নয়। ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক। গত শুক্রবার ২০৬ জনের চূড়ান্ত মনোনয়নের যে তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি সেখানে তাঁর নাম ছিল না।

    মামলার কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করায় ওই তালিকায় তিনি ছিলেন না বলে জানা যায়। ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফেরত পান আশফাক। এরপর গতকাল রোববার তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত করে বিএনপি। অন্যদিকে এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন সালমান এফ রহমান। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন সালমা ইসলাম।

    ঢাকা-১ আসনে সালমা ইসলাম এবং সালমান এফ. রহমানের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের শক্ত অবস্থান জমজমাট ভোটযুদ্ধকে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে পরিণত করছে। সালমা ইসলাম মহাজোটের অন্যতম অংশীদার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যও তিনি। তবে সালমা ইসলামের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের অন্যতম কর্ণধার। শিল্পপতি ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল তাঁর স্বামী।

    জাতীয় পার্টি ও মহাজোটের নানা হিসাব নিকাশের কারণে সালমা ইসলাম নিজ দল থেকে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। বলাই বাহুল্য, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনের মাঠে সালমা ইসলাম দুর্বল হয়ে পড়বেন এমনটা নয়। প্রবল পরাক্রমেই তিনি নির্বাচনী যুদ্ধে নেমে পড়েছেন।

    ঢাকা-১ আসনটি জাতীয় সংসদের ১৭৪ তম আসন। আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪০৭জন। স্বাধীনতার পর থেকে ৯০ এর আগে পর্যন্ত এই আসনে কোনো দলেরই একক আধিপত্য ছিল না। তবে ১৯৯১ সাল থেকে টানা তিনটি নির্বাচনে জিতে এই আসনটিকে নিজের রাজত্ব বানিয়ে ফেলেন বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে সেই রাজত্বের অবসান ঘটে। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে জয় পান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মান্নান খান। তিনি বিএনপির আবদুল মান্নানকে প্রায় ৩৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। দুই দশক পর আসনটির দখল পায় আওয়ামী লীগ। তবে ২০১৪ সালে তা আবারো হাতছাড়া হয় তাদের।

    জনপ্রিয়তার দিক থেকে সালমান, সালমা এবং আশফাক তিনজনই প্রায় সমানে সমান। এর আগে সালমান এবং সালমা দুজনই ঢাকা-১ আসন থেকে একবার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে সালমা আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান খানকে পরাজিত করেন। অন্যদিকে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নাজমুল হুদার কাছে হেরে গিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান। সেই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দোহারে এক রকম অবাঞ্ছিতই হয়ে পড়েছিলেন সালমান এফ রহমান। এরপর পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বদলে গেছে। বিএনপি থেকে বেরিয়ে নাজমুল হুদা আলাদা দল গঠন করেছেন। এই নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১ আসনে সালমান এফ রহমানকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    ত্রিমুখী লড়াইয়ের কারণে ঢাকা-১ আসনের ভোটযুদ্ধ এবারের নির্বাচনে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে। জয় পেতে তিনজন প্রার্থীই তাদের সব শক্তি প্রয়োগ করবেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

  • বেঁচে থাকা আমাদের জীবনের পরম পাওয়া….

    বেঁচে থাকা আমাদের জীবনের পরম পাওয়া….

    যান্ত্রিক এ জীবনে আমাদের রয়েছে নানাবিধ সমস্যা! ব্যক্তিজীবনে আমাদের আছে অশেষ অসম্পূর্ণতাও এবং তা থাকবে! পার্থিব এই জীবনে চাওয়া পাওয়ার হিসেব প্রায়শই মেলে না.. তাই বলে জীবন নামের রেলগাড়ি থেমে থাকে না। চলতে হয়, চালাতে হয়।

    বাঁচার জন্য চলতে গিয়ে প্রায়শই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন আমরা হয়ে পড়ি তখন ভুল, শুদ্ধ নির্ধারণের জায়গাতে আমরা থাকতে পারি না! না থাকতে পারলেও খুব সচেতনভাবে আমরা দুই পক্ষ থেকে যে কোনো এক পক্ষকে বেছে নেই দোষ চাপানোর জন্য। এটি এক রকম আমাদের কাছে দায় থেকে পরিত্রাণের উপায়। তাতে আদৌ ব্যক্তি, সমাজ, পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলো কিনা সেটি বিবেচনা করার সময় আমাদের নেই।
    তাজা প্রাণ অকালে ঝড়ে পড়লে প্রতিটা মানুষ ব্যথিত হয়! আর নিজ পরিবারের কাছে তা এক বিশাল বেদনার বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

    বর্তমান সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরূপন করতে বলা হলে অনেকেই স্বীকার করে নেবেন, আমরা অত্যন্ত জাজমেন্টাল! এটি এমন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে যে জাজমেন্টাল হওয়াটাই এখন এক ধরণের ফ্যাশন হয়ে গেছে! স্রোতের সাথে মিশতে যেয়ে প্রচলিত সিস্টেমকে কুঠারাঘাত করা হলে, সাময়িক লাভ পরিলক্ষিত হলেও দিনশেষে তা অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে যায়।

    আমাদের সমাজব্যবস্থায় লেখাপড়াকে যে অসুস্থ একটি প্রতিযোগিতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে; তার দায় কি আমরা এড়াতে পারি? প্রচলিত নিয়মও পরিবর্তিত হয়, তবে তা কখনোই তার মূলকে সরিয়ে নয়! যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আমরা ৩টি ভাগে সময়কে দেখি-ঘটনার পূর্ববর্তী, ঘটনাকালীন এবং ঘটনা পরবর্তী! আমাদের জাজমেন্টাল আচরণ আমাদের শুধু ঘটনাকালীন সময়কে নিয়ে ভাবতে শেখায়! আমরা সেভাবেই ভেবে চলেছি এবং নিকট ভবিষ্যতে সমূহ বিপদের সম্মুখীন হওয়ার দ্বার উন্মোচন করছি।

    গত ৬ বছরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দেখেছি ছোট ছোট ভুল-ভ্রান্তি ও মনোমালিন্যের কারণে সন্তানেরা আত্মহত্যা করছে! গত ২ বছরে কমপক্ষে ২৫টি এরকম ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েছি আমি! কখনো বাবার উপর আবার কখনো বা মায়ের উপর রাগ করে এরকম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদেরই অতি আদরের ছেলেমেয়েরা! পরবর্তীকালে বাবা, মাকে অবশ্য আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে জেল খাটতে দেখিনি আমি। স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় দণ্ডবিধি’র ৩০৬ ধারার ব্যবহার বহুল প্রচলিত! অন্যান্য বিষয়গুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবেও খুব বেশি দেখা যায়নি।

    কারো কারো মৃত্যু আমাদের শিখিয়ে দেয় এই সমাজে আমাদের প্রত্যেকের দায়বদ্ধতা রয়েছে! মানসিকভাবে অপরিণত সন্তান ভুল পথে পা বাড়ালে সেটির দায় পরিবারের উপরও কম বর্তায় না! আমাদের আবেগী মন দৃশ্যমান ঘটনার প্রতিক্রিয়া নিয়েই কথা বলতে চায়, আর কিছুই দেখতে চায় না! পার্থিব এই জীবনে লেখাপড়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতার বাইরে আমাদের যে চমৎকার একটি উপভোগ করার জীবন রয়েছে সেটি আমরা ভুলতে বসেছি, আমাদের ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে! এই দায় আমাদের সকলের! কিন্তু এখানেও আমরা মূলে প্রবেশ করবো না, কারণ সেই প্রবেশে দায় যে আমার কাঁধেও আসে। দায় স্বীকার করে দায়বদ্ধতা নিয়ে বলবার সময় কোথায় আমাদের!

    আত্মহত্যাকেও আমরা মাঝে মাঝে এতটা তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলি যে এতে সমাজে ভুল বার্তা যায়! সকলে আবার এই ভুল বার্তাকে একপাশে সরিয়ে ফেলতে পারে না! তাই সমাজ, পরিবারে থেকেও জীবনকে উপভোগ না করে তাৎপর্যহীন মৃত্যুকে বেছে নেয়!

    আহা কে বোঝাবে তাদের কত মধুর এই বেঁচে থাকা? কে বোঝাবে একেকটি দিন বেঁচে থাকা আমাদের পরম পাওয়া! কে বোঝাবে আত্মহনন পরাজিত সৈনিকের অস্ত্র! কে বোঝাবে এ জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে মানুষ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর হাসপাতালে কাটিয়ে দিতে চায়; তবুও বেঁচে থাকতে চায়! আর সেই আকাঙ্ক্ষিত জীবনকে উপেক্ষা করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে যে চলে যায় তার জন্য একরাশ মনোবেদনা!

    আহা, মানুষ! এ কেমন জীবন, যেখানে বেঁচে থাকার মত পরম সুখের সন্ধানটুকুই মিললো না……

    আত্মহননকে তাৎপর্যপূর্ণ করে দেবেন না দয়া করে, কিছু বানাতেই যদি হয় সেটি যেন অগৌরব, অসম্মান ও পরাজয়ের বিষয়ই হয়!

    (স্কুলছাত্রী অরিত্রীর আত্মহননের বিষয়টি নিয়ে একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে- বিদ্যমান সেই স্বাভাবিক বিষয়টিকে আইনগতভাবেই এগোতে দিন দয়া করে; এক্ষেত্রে একটু জাজমেন্টাল নাইবা হলাম আমরা…..!)

  • বিকল্প কেউ ক্ষমতায় আসলে একদিনেই রক্তের বন্যা বয়ে যাবে: কাদের

    বিকল্প কেউ ক্ষমতায় আসলে একদিনেই রক্তের বন্যা বয়ে যাবে: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিকল্প কেউ এবার ক্ষমতায় আসলে দেশে একদিনেই রক্তের বন্যা বয়ে যাবে, দেশ অন্ধকারের দিকে যাবে।’  

    ওবায়দুল কাদের নিজের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-৫ আসনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কুচকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

    এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি দুটি ধারায় বিভক্ত। একটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অন্যটি বিপক্ষে। বিকল্প কেউ এবার ক্ষমতায় আসলে তালেবানি যুগ শুরু হবে।

  • চরিত্রের খাতিরে গ্রেফতার হলেন পপি

    চরিত্রের খাতিরে গ্রেফতার হলেন পপি

    জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পপি পরিবারের অমতে গোপনেই বিয়ে করেছেন। আর তাই পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। একদল পুলিশ সদস্য পপির হাতে হাতকড়া বেঁধে থানায় নিয়ে গেছেন।

    সুচিত্রা সেনের ‘মুর‌্যাল’ উদ্বোধন ভারতের ওয়েব সিরিজের পরিচালক তৌকীর কথাগুলো শুনে ঘাবড়ে গেলেন তো? আসলে এটা বাস্তবে নয়, একটি ওয়েব সিরিজের গল্পে হয়েছে।

    ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন পপি। যার নাম ‘ইন্দুবালা’।

    এই ওয়েব সিরিজটি পরিচালনা করছেন অনন্য মামুন। তিনিই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্থিরচিত্র প্রকাশ করেছেন।

    যেখানে দেখা যায়, পপিকে হাতকড়া লাগিয়ে থানায় নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এই ছবির ক্যাপশনে অনন্য মামুন লেখেন, ‘গোপনে বিয়ে করায় পরিবারের করা মামলায় গ্রেফতার হলেন পপি…’।

    নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, ‘ইন্দুবালা’ ওয়েব সিরিজের গল্পে আবর্তিত হয়েছে জঞ্জালে ভরা একটি সমাজকে ঘিরে। যেখানে চারদিকে শুধু অন্যায়, দুর্নীতি।

    এসব থেকে মানুষকে মুক্ত করতে এগিয়ে আসেন ইন্দুবালা। নিজের সাহস আর মনোবল দিয়ে সমাজের জঞ্জাল দূর করার চেষ্টা করেন এই নারী। সহিংসতার বদলে ভালোবাসা দিয়ে সমাজটাকে সুন্দরভাবে গড়তে চান তিনি।

    ‘ইন্দুবালা’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করা প্রসঙ্গে পপি বলেছেন, এখন আধুনিক যুগ। অনেক ধরণের কাজ হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের অনেক তারকাই এখন ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেন।

    দর্শকেরা এই নতুন কনটেন্ট গ্রহণ করছেন। সেটা ভেবেই কাজটি করা। এমন গল্পে আগে কখনো কাজ করিনি। আশা করি দর্শকরা পছন্দ করবেন কাজটি।

    ওয়েব সিরিজ ‘ইন্দুবালা’-য় আরো অভিনয় করছেন তারিক আনাম খান, এ বি এম সুমন, শহীদুজ্জামান সেলিম, আঁচল প্রমুখ। ইনোভেট সলিউশন লিমিটেড প্রযোজিত এই সিরিজ আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে প্রচার হবে।-বাংলাদেশ জার্নাল

  • কায়সারকে শামীম ওসমানের হুশিয়ারী

    কায়সারকে শামীম ওসমানের হুশিয়ারী

    আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতকে হুশিয়ারী দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, কায়সার আমার হাতে তৈরি করা কর্মী এবং এই পরিবারের সন্তান। আমি বিশ্বাস করিনা যে কায়সার এমন কোন কর্ম করবে যে কর্মের কারনে এদেশে রাজাকার আলবদর আলসামস উপকৃত হবে। আমি বিশ্বাস করিনা যে কায়সার এমন কোন কর্মকান্ড করবে যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীরা উৎসাহিত হবে। যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সে তো কোন রাজাকার আলবদরের সন্তান নয়। আমি বিশ্বাস রাখছি ইনশাহআল্লাহ আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেখবেন আজকে যেমন খোকন সাহা, আনিসুর রহমান দিপু, কামাল, সামসু ভাই সহ সকলে যেমন সবাই আজকে মহাজোটের প্রার্থী, শেখ হাসিনার প্রতীক লাঙ্গলের পক্ষে যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তখন আমি আশা করছি আমার ভাতিজা কায়সার হাসনাতও এখানে এসে লাঙ্গলে প্রতীকে ভোট চাইবে। রোববার বিকাল উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় র‌্যালী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    কায়সারকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, আমি চাইনা আওয়ামীলীগ পরিবারের নেতাকর্মী আজীবনের জন্য বহিস্কার হয়ে যাক। আমি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত জানি। আর জানি বলেই এখানে সবাই কিন্তু পরিষ্কারভাবে একটি কথা বলে গেছেন। এ মুহুর্তে আমাদের কায়সারকে নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই। কারন কায়সার আমাদের অপজিশন প্রার্থী না।

    শামীম ওসমান যুবলীগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বলেন, কেউ যদি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেন তাহলে কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হবে। আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। আর যদি কেউ মনে করেন বিএনপিকে সাহায্য করবেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিলাম এই নির্বাচন খোকার নির্বাচন না। এই নির্বাচন শেখ হাসিনার নির্বাচন। শেখ হাসিনার সন্তান আমরা বেচেঁ আছি। প্রয়োজনে আমার নির্বাচন ছেড়ে দিয়ে সোনারগাঁয়ে এসে নির্বাচন করব। দেখতে চাই কার কত মাথা আছে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। এই লড়াই দেশ বাচাঁনোর লড়াই। এই লড়াইয়ে কোন পরিবারকে বেঈমানী করার সুযোগ দেয়া হবে না। ভাল করে বললাম ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, নেত্রীর পক্ষে অবস্থান নেন। খোকা কোন সাবজেক্ট না। সাবজেক্ট একটাই শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু। এই সাবজেক্টের সাথে যদি কেউ পিছন থেকে ছুড়ি মারার চেষ্টা করে মনে রাখবেন নারায়ণগঞ্জের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির কাছে ঘৃণার পাত্র হয়ে যাবেন। পরে কিন্তু দরজা বন্ধ হয়ে গেলে ওই দরজা আর খোলা হবে না। এই মুহুর্তে ফাইনাল সিদ্ধান্তের কথা বললাম না। আশা করি সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। ভুল হতে পারে সবারই। রাগ অভিমান থাকতে পারেনা। কিন্তু এমন কিছু করবেন না দেশের জন্য ক্ষতি হয়ে যায়। যারা সারাজীবন একটা পতাকার নিজে রাজনীতি করেছেন, শেখ মুজিবের আদর্শের পক্ষে রাজনীতি করেছেন, সেই সকল কিছু অম্লান করে দিবেন না। যেখানে মানুষের মুখের বুর্লি হতেন সেখানে কিন্তু মানুষের মুখের গালি হইয়েন না। জামাত শিবির রাজাকাররা উস্কানি দিবে। ওই উস্কানীতে কান দিয়েন না। সামনে থাকা কিছু লোক হয়তো বলবে আপনিই সব। ধান্ধা করবে টাকা খাবে। এদের সাফাইয়ে কান দিয়েন না। কয়দিন পর একা হয়ে যাবেন।

  • সমঝোতা: দেশে ফিরছেন এরশাদ

    সমঝোতা: দেশে ফিরছেন এরশাদ

    অবশেষে এরশাদ দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। আজ রোববার সিঙ্গাপুরে ভারতীয় দু’জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘন্টার বৈঠকের পর এরশাদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত এরশাদ তার একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে জানিয়েছেন। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন ‘আগামীকাল সোমবার সিঙ্গাপুর সময় সকাল ৮টায় ন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দেখবেন। তারা দেশে যাওয়ার ছাড়পত্র দিলেই তিনি দেশে ফিরেবেন।’

    দূতাবাসের ঐ কর্মকর্তা বলেন, ‘এরশাদ সাহেব যেহেতু মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি, তাই দূতাবাস সার্বক্ষনিক ভাবে তার দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, ১১ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর আসার পর তার একটি রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে। এসময় এরশাদ সিঙ্গাপুরে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দিল্লী থেকে দুজন কর্মকর্তা সিঙ্গাপুরে উড়ে আসেন। তারা এরশাদকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি যেন মহাজোটেই থাকেন। এক্ষেত্রে, তার কোন সমস্যা হবে না। সূত্র মতে, মহাজোটে থাকার শর্ত হিসেবে এরশাদ তার বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মঞ্জুর হত্যা মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি চান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের পরপরই তার বিরুদ্ধে থাকা যাবতীয় মামলা গুলোর সুরাহা করা হবে। এর বিনিময়ে এরশাদ ২৩ ডিসেম্বরের আগেই ঢাকা ফিরবেন এবং মহাজোটের পক্ষে নির্বাচনী প্রচরণায় অংশ নেবেন।

    এছাড়াও, এরশাদ উন্মুক্ত আসনে দাঁড়ানো তার ১৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০০ জনকেই প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জানা গেছে। অবশ্য এর বিনিময় তিনি নতুন সরকারের মন্ত্রীসভায় তার পছন্দের ৪ জন মন্ত্রী নিয়োগের দাবী করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এরশাদের সব দাবীই নির্বাচনের পর বিবেচনার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, আজ সকালে মেরিনা বে হোটেলে এরশাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের পর এরশাদ হাস্যোজ্জল ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে ফোন করেন। এরশাদ জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করার নির্দেশ দেন।

    উল্লেখ্য, নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর্যায়ে হঠাৎ বেঁকে বসেছিলেন এরশাদ। মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন। এখান থেকে বেরিয়ে ১০ ডিসেম্বর তিনি সিঙ্গাপুরে উড়াল দেন। মহাজোটে ২৯টি আসন পেয়ে অসন্তুষ্ট এরশাদ ১৩২টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তার দলের প্রার্থী দিয়েছিলেন। এরশাদ সিঙ্গাপুরে গেলে তার পিছনে যায় বাংলাদেশের কয়েকজন সরকারী প্রতিনিধি। দীর্ঘ দরকষাকষির পর শেষ পর্যন্ত এরশাদ বশীভূত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

  • বাবা মানসিকভাবে চরম আঘাত পেয়েছেন

    বাবা মানসিকভাবে চরম আঘাত পেয়েছেন

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল ভোটের মাঠে জোটের অজনপ্রিয়তা এবং এর পেছনের প্রধান অন্তরায় জামায়াত ইসলামীর জন্য চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সরকারের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পনা তিনি সাজিয়েছিলেন বিএনপির হতবুদ্ধিতার জন্য তা ভেস্তে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন এই প্রবীণ নেতা। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে তিনি গোপনে জামায়াত–শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি ব্যবহার করবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। তবে নির্বাচনের গণ্ডিতে বিএনপি-জামায়াত–শিবিরের কোন নিজস্ব অবস্থান নেই তা নিশ্চিত হবার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    জানা গেছে, হঠাৎ করেই ১৩ ডিসেম্বর সকাল থেকে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে তিনি খারাপ ব্যবহার করছেন। আর ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে এক সাংবাদিকের সঙ্গে ড. কামাল যে ব্যবহার করেছেন তাতে তার মানসিক অবস্থা বেগতিক বলেই মনে করছেন ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা। সাংবাদিকদের সাথে ভারসাম্যহীন আচরণ করে তিনি ঐক্যফ্রন্টের ক্ষতি করেছেন বলেও মনে করেন তারা।

    ঐক্যফ্রন্ট সূত্র বলছে, ড. কামাল ১৪ ডিসেম্বর রাত থেকেই তার দল গণফোরামের কোন নেতাকর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সাথেও কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করছেন তিনি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ প্রসঙ্গে ড. কামালের জ্যেষ্ঠ মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ১৪ ডিসেম্বর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান থেকে ফেরার পথে বিএনপি কর্মীরা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বাবার গাড়িতেও হামলা চালায় বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা। এতে বাবা মানসিকভাবে চরম আঘাত পেয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে। রাত থেকেই ঐক্যফ্রন্টের কোন নেতার সঙ্গে তিনি কথা বলতে চাচ্ছেন না।

    এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ড. কামাল তিনদিন ধরে বারবার বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করার বিষয়ে কথা বলছিলেন। তার মতে, নির্বাচনের মাঠে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে তিনি কাজে লাগাতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হলো- বিএনপির রাজনৈতিক কর্মীরা দলগতভাবে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে আছেন। আমরা ড. কামালকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি, জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। আর আমরাই এই নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে ড. কামালকে রাষ্ট্রপতি করবো। কিন্তু তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি-জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি দেখে সন্তুষ্ট নন বলেই মনে হচ্ছে। মিরপুরের ঘটনার পর থেকে ড. কামাল বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও আর যোগাযোগ করতে চাইছেন না। একাধিকবার তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে নেতাদের।

    এদিকে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিএনপির আন্দোলন করার কোন শক্তি কিংবা সামর্থ্য নেই। যদি সেই সক্ষমতা থাকত তাহলে জনবিচ্ছিন্ন ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের মতো লোকজনের সঙ্গে যুক্ত হতো না। তবে ড. কামাল হোসেন ভোটের হিসেব পর্যালোচনা করে হয়তো বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন। তাই নির্ঘাত ঐক্যফ্রন্টের পরাজয় দেখতে পেয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার করতে পারছেন না।

  • ‘সংঘাত হয় এটা হবে তবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে’

    ‘সংঘাত হয় এটা হবে তবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে’

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আছে; আশা করি ভোট সুষ্ঠু হবে। রবিবার (১৬ ডিসেম্বর) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    সিইসি বলেন, অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। সবাই অংশগ্রহণ করবে সেরকম অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

    সংসদ নির্বাচনের মতো বড় আয়োজনে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে মন্তব্য করে নুরুল হুদা বলেন, কোথাও কোথাও কিছু সমস্যা হচ্ছে। এটা এত বড় নির্বাচনে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হয়তো সংঘাত হয়, এটা হবে। তবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে।

    এ সময় সিইসি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সকলের সহযোগিতা চান এবং সকলকে নির্বাচনের নিয়ম কানুন মেনে চলার আহবান জানান।

    এদিন সিইসির নেতৃত্বে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নির্বাচন কমিশনাররা।

  • নির্বাচন খুবই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ

    নির্বাচন খুবই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ

    জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিচ জানিয়েছেন জাতিসংঘ ও বিদেশি বন্ধুরা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।তিনি বলেন, তারা এখানে কোনো অশান্তি ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চায়।শনিবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র আবারও জানান, তারা বাংলাদেশের এই নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছেন না। তবে নির্বাচনের ওপর তাদের সার্বিক পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

    বাংলাদেশের নাগরিকদের উন্নয়নের জন্যই তারা এখানে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চান, যাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরো ত্বরান্তিত হয় বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র।স্টিফেন ডুজারিচ বলেন, আমরা কিছু নীতিতে বিশ্বাস করি। যেখানে কোনো ভয়ডর ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া প্রসঙ্গে ডুজারিচ বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ কার্যালয় এই নির্বাচনে সহায়তা করবে।

  • রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    মহান বিজয় দিবসের ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। রবিবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

    এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুন সুর। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার দেন। এ সময় এক মিনিট নিরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

    রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

    রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শুক্রবার গভীর রাত থেকেই স্মৃতিসৌধ এলাকাসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়।

    বিজয় দিবসের কর্মসূচি
    এদিকে ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। দিনটি সরকারি ছুটির দিন। দিবস উপলক্ষে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে।

    এছাড়া, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে এবং এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সকল শিশু পার্ক ও জাদুঘরসমূহ বিনা টিকিটে প্রবেশর জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

    জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এ বছর ঢাকাস্থ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না, তবে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা সদরে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।