Blog

  • ক্ষতিগ্রস্ত হার্টের টিস্যু পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন

    ক্ষতিগ্রস্ত হার্টের টিস্যু পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো’র (ইউসিএসএফ) বিজ্ঞানীরা নতুন একটি ওষুধ উদ্ভাবন করেছেন যা হায়পক্সিয়া (রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা)অবস্থায় অক্সিজেন সরবরাহের বিঘ্নতার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হার্টের টিস্যু পুনরায় সক্রিয় ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে।

    নতুন এই ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করে এই ফলাফল ঘোষণা করেছে উৎপাদনকারী বায়োটেকনোলজি কম্পানি অমনিওক্স ইন্টারন্যাশনাল। নতুন এই ওষুধটির নাম রাখা হয়েছে ওএমএক্স-সিভি (omx-cv)। পিএলওএস বায়োলজি জার্নাল বৃহস্পতিবার এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

    ক্যান্সার, হৃদরোগ, ট্রমা, অক্সিজেনের নিম্নমাত্রার সমস্যা অথবা হায়পক্সিয়া, বা অন্যান্য রোগের প্রভাবে অক্সিজেন সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এই ওষুধ অক্সিজেন সরবরাহ সচল ও সক্রিয় করবে। এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং রক্তে অতিরিক্ত অক্সিজেনেশনের সম্ভাবনা নেই। এটি অক্সিজেন সংবহন করে কোষের চাহিদা মতো পৌঁছে দেবে।

    লিভারের রোগ প্রতিরোধের জন্য সেরা ১২টি খাদ্য : আমাদের দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি লিভার। ফলে লিভারের সামান্যতম কোনো ক্ষতি হলেও তা আমাদের পুরো শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। সুতরাং লিভার রোগের প্রাথমিক কোনো লক্ষণ দেখা গেলেও সতর্ক হতে হবে। নয়তো লিভার ড্যামেজ হয়ে ভয়ানক কোনো পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

    মানবদেহে লিভারের কাজটা আসলে কী? আপনার পাকস্থলীর ডানপাশে অবস্থিত লিভারের প্রধান কাজ হলো হজম প্রক্রিয়া থেকে আসা রক্ত দেহের অন্যান্য অংশে পাঠানোর আগে ফিল্টার বা পরিশোধন করা। এছাড়া দেহের রাসায়নিকগুলোকে বিষমুক্ত করা এবং বিষাক্ত পদার্থ দেহ থেকে বের করে দেওয়ার কাজও করে লিভার। এর পাশাপাশি লিভার রক্ত জমাট বাধানো এবং অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনও তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো বাঘাত ঘটলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

    আপনি যেসব খাবার খান তা আপনার লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সুতরাং লিভারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াই লিভারের রোগপ্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন কোন খাবারগুলো লিভারকে ভালো রাখতে সহায়ক।

    ১. রসুন : রসুন এর সমৃদ্ধ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের জন্য বিখ্যাত। রসুনে আছে অ্যালিসিন, যা পরিচিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত। এটি শরীরকে বিষাক্ত রাসায়নিকজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এবং লিভারকে সেসব এনজাইম সক্রিয় করতে উদ্দীপনা যোগায় যেসব এনজাইম দেহ থেকে লিভারের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সহায়ক।

    ২. হলুদ: হলুদে আছে কার্কিউমিন নামের একটি উপাদান। কার্কিউমিন এর সমৃদ্ধ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহরোধী এবং ব্যাকটেরিয়ানাশক উপাদানের জন্য পরিচিত। হলুদ প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক। ফলে যে কোনো রোগ থেকে লিভারও থাকে সুরক্ষিত।

    ৩. গাজর: সমৃদ্ধ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের জন্য পরিচিত গাজরে আছে জরুরি সব ভিটামিন, খনিজ এবং খাদ্য আঁশ। প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের জুস খেলে লিভার থেকে ফ্যাটি এসিড এবং বিষাক্ত পদার্থ কমে আসে।

    ৪. গ্রিন টি: গ্রিন টি এর সমৃদ্ধ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের পরিচিত। এছাড়া গ্রিন টি-তে আছে ক্যাটেচিন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পলিফেনল যা লিভার থেকে বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণে সহায়ক এবং লিভারকে স্বাস্থ্যবান রাখে। প্রতিদিন অন্তত ২-৩ কাপ গ্রিন টি পান করলে সবেচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

    ৫. অ্যাভোকাডো: অ্যাভোকাডো স্বাস্থ্যকর সব চর্বিতে সমৃদ্ধ। যা এর প্রদাহরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের জন্য পরিচিত। প্রতিদিন ৩-৪ টুকরো অ্যাভোকাডো খেলে লিভার যে কোনো ধরনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

    ৬. অলিভ অয়েল: এতে আছে উপকারী চর্বি। অন্য যে কোনো তেলের তুলনায় অলিভ অয়েল লিভারের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। অলিভ অয়েল রক্তে বাজে কোলেস্টেরল, সেরাম ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা কমায় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং লিপিড অক্সিডেশন বাড়ায়। যা আপনার লিভারকে সুস্থ্য রাখতে সহায়ক।

    ৭. সবুজ শাকসবজি: স্পিনাক, লেটুস এবং সবুজ সরিষা শাক এরা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহরোধী উপাদানের জন্য পরিচিত। এছাড়া সবুজ শাকসবজিতে আছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আঁশ, সবধরনের জরুরি ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম। প্রতিদিন এক কাপ করে সবুজ শাকসবজি খাওয়াকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলুন।

    ৮. বাদাম: আখরোট এবং কাজুবাদামের মতো বাদামজাতীয় খাদ্য স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ। এছাড়া এতে আছে প্রচুর প্রদাহরোধী উপাদান। প্রতিদিন ৮-১০টি কাজুবাদাম এবং আখরোট খেলে লিভার রোগ প্রতিরোধ হয় এবং লিভার সুস্থ থাকে।

    ৯. বিটরুট জুস: বিটরুটে আছে বিটালাইনস নামের প্রধান একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানটির কারণে বিটরুট জুস খেলে ডিএনএ ড্যামেজ এবং লিভারের রোগ প্রতিরোধ হয়। প্রতিদিন এক গ্লাস বিটরুট জুস পান করলে বা সপ্তাহে ৩-৪ বার এক কাপ বিটরুট খেলে লিভার পরিষ্কার হয়।

    ১০. জাম্বুরা: জাম্বুরাও এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা রাসায়নিক বিষক্রিয়ারোধী উপদানের জন্য পরিচিত। প্রতিদিন এক গ্লাস জাম্বুরার জুস পান করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নানা সংক্রমণ থেকেও দেহ রক্ষা পায়। জাম্বুরা লিভারকে বিষমুক্তকরনেও গুরত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে যা লিভারকে রোগমুক্ত রাখে।

    ১১. পূর্ণশস্য: লাল চাল, কুইনোয়া এবং বাজরা বা বনগম হলো সবচেয়ে সেরা পূর্ণশস্যজাতীয় খাদ্যগুলোর অন্যতম। এসব পূর্ণশস্যজাতীয় খাদ্যে আছে প্রচুর খাদ্য আঁশ, যা শুধু ওজন কমাতেই সহায়ক নয় বরং মদপানজনিত নয় এমন ফ্যাটি লিভার রোগও প্রতিরোধ করে।

    ১২. আপেল: প্রবাদ আছে না, ‘প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে আর ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না’। আপেল লিভার ড্যামেজ প্রতিরোধ করে। আপেলে থাকা পলিফেনল লিভারে যে কোনো ধরনের প্রদাহ প্রতিরোধ করে। এর মধ্য দিয়ে আপেল লিভারকে হেপাটাইটিস এর মতো রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

  • নির্বাচনে সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    নির্বাচনে সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। সেইসঙ্গে তারা নির্বাচনের পরিবেশ ভয়ভীতি ও ত্রাসমুক্ত দেখতে চান বলেও জানান মিলার।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আপনারা নিজেরাই শুনেছেন, তিনি ভয়ভীতি-ত্রাসমুক্ত একটি নির্বাচন দেখতে চান। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, সকলের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান। এটিই তাদের সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা।’

    মহাসচিব আরও বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মনে করেন, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া উচিত। তারা মনে করেন যে কোনো প্রার্থীর ওপর কোনো আক্রমণ যেন না হয়, এক কথায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।’

    এছাড়া যারা বিরোধী দলে আছেন, তারা তাদের ক্যাম্পেইনও যেন নিরাপদে করতে পারে সেটা নিশ্চিত করা উচিত বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) চাই, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন হোক। নির্বাচনে সহিংসতার বিষয়ে যেসব রিপোর্ট দেখছি, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান হলো সকলের এটা নিশ্চিত করা দরকার যে ভায়োলেন্সকে পরিহার করা এবং একে নিন্দা জানানো।’

    মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মনে করে নির্বাচনের পদ্ধতি কার্যকর হবে না, যদি না সবাই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে না পারে। আমি সকলকে উদ্ধুদ্ধ করব গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার জন্য। আমরা আহ্বান জানাই, সকলকে মুক্তভাবে পুরোদমে নেমে যাওয়ার জন্য নির্বাচনী প্রচারণায়। এর মাধ্যমে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য।’

    মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, কারাবন্দী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া ধানের শীষের প্রার্থীসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

    এর আগে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত। তাকে কার্যালয়ে অভ্যর্থনা জানান দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। দুপুর ২টায় বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

    বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

    এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

    আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান মিলার।

  • কামালকে প্রশ্নকারী সাংবাদিককে সাহস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    কামালকে প্রশ্নকারী সাংবাদিককে সাহস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোক্তা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে প্রশ্নকারী সেই সাংবাদিক ভাস্কর ভাদুড়ীকে ডেকে সাহস দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে  বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা শেষে ডেকে নিয়ে ভাস্করের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আসিফ কবির এ কথা জানান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক ভাস্কর ভাদুড়ীর এর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে সাহস দেন।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এটাই হচ্ছে তাদের আসল চরিত্র। যেটা এখন বের হয়ে আসছে। সাংবাদিকদের সামান্য প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে হুমকি-ধমকি দেয়; তারা কী বাক-স্বাধীনতা দেবে সেটা বোঝাই যাচ্ছে।

    ‘তাদের এমন আচরণ এতদিন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে জানা ছিলো, এখন সারাদেশের মানুষ জানলো,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ব্যাপারে ভয়-ভীতি পাবার কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, যারা একটা প্রশ্নের জবাবে এমন প্রতিক্রিয়া জানায় তারা কিভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে তা তো বোঝাই যাচ্ছে।

    এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জানানো শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে জামায়াত নিয়ে প্রশ্ন করেন টেলিভিশন সাংবাদিকতরা।

    জবাবে ড. কামাল বলেন, শহীদ মিনারে (স্মৃতিসৌধে) এসব বিষয়ে কোনো কথা তিনি বলবেন না।

    এরপরও সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করতে থাকেন। একজন বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তারপরও তারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচন করছে। এ সময় রেগে গিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। বেহুদা কথা বলো। কত পয়সা পেয়েছ এই প্রশ্নগুলো করতে? কার কাছ থেকে পয়সা পেয়েছ? তোমার নাম কী? জেনে রাখব তোমাকে। চিনে রাখব। পয়সা পেয়ে শহীদ মিনারকে অশ্রদ্ধা করো তোমরা। আশ্চর্য!’

    এ পর্যায়ে আরেকজন সাংবাদিক ফের প্রশ্ন করেন। আর তখনই ক্ষেপে যান ড. কামাল। ওই সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদদের কথা চিন্তা করো। হে হে হে হে করছো! শহীদদের কথা চিন্তা করো। চুপ করো। চুপ করো। খামোশ।’

    অবশ্য এরপরদিন গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে ওইদিনের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন গণফোরাম সভাপতি।

  • ১০ মাস পর এলো টেলিটকে ফোরজি!

    ১০ মাস পর এলো টেলিটকে ফোরজি!

    মহান বিজয় দিবসে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক নিয়ে এলো চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা ফোরজি। আর এর মধ্য দিয়ে অপারেটরটি উচ্চ গতির নেটওয়ার্কের প্রতিযোগিতায় সামিল হলো।

    রোববার ৪৮তম বিজয় দিবসে ফোরজি’র ঘোষণা দেয়া হয়, এক্ষেত্রে খুব একটা আড়ম্বর করেনি অপারেটরটি।

    অপারেটরটি বলছে, প্রথম দফায় গুলশান, নিকেতন, বারিধারা, বনানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, রমনা, মতিঝিল, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, ফার্মগেট ও ধানমণ্ডিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ফোরজি সেবা পাওয়া যাবে। তবে খুব তাড়াতাড়ি সারাদেশে দ্রুতগতির এ ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে।

    অপারেটরটি জানিয়েছে, টেলিটক নেটওয়ার্কের স্পিড আপলোডের ক্ষেত্রে হবে ১৫ এমবিপিএস। ডাউনলোডের স্পিড হবে ৪০ এমবিপিএস।

    এর আগে নভেম্বরে রাজধানীর ধানমণ্ডিসহ আশপাশের এলাকায় ফোরজি’র পরীক্ষামূলক সেবা শুরু করে অপারেটরটি।

    টেলিটক বলছে, তাদের ফোরজি সেবা পেতে ফোর-জি সাপোর্টেড হ্যান্ডসেটের পাশাপাশি ২০১২ সালের আগে নেওয়া সব টু-জি বা থ্রি-জি সিম বদলাতে হবে। থ্রি-জি থেকে ফোর-জিতে মাইগ্রেট করতে হলে 4G লিখে সেন্ড করতে হবে 111 নম্বরে।

    আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্স পাওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি অথবা এলটিই সংযোগ চালু করেছে মোবাইল সংযোগ সেবা দেয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান। ফোরজি সংযোগ চালু করা এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলালিংক, গ্রামীণ ফোন এবং রবি। রাজধানী ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট এলাকাসহ রাজধানীর বাইরেও চালু হয় বহুল প্রতীক্ষিত এ সেবা।

    তিনটি প্রতিষ্ঠানের ১০ মাস পরে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা চালু করল রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক।

  • গুগলে ভিখারি ইমরান খান

    গুগলে ভিখারি ইমরান খান

    গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। কারণ দেশটির পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলিতে এমন একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গুগল সিইও-র কাছে জানতে চাওয়া হবে, কেন ‘ভিখারি’ লিখে সার্চ দিলে গুগলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভেসে ওঠে?

    এর আগে গুগলে ‘ইডিয়ট’ লিখলেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি আসায় প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল সুন্দর পিচাইকে। এবার সেই একই প্রশ্ন তুলল পাকিস্তান।

    ইমরান খান। ছবি: ফাইল ছবিইমরান খান। ছবি: ফাইল ছবিবেশ কয়েক দিন আগে সার্চইঞ্জিন গুগলে ইংরেজিতে ‘ইডিয়ট’ লিখলে ভেসে আসত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। এ জন্য প্রশ্নের মুখে পড়েন সুন্দর পিচাইকে। তাঁকে এর ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। এবার একই প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তান। দেশটির অভিযোগ গুগলে উর্দুতে ‘ভিখারি’ লিখে সার্চ দিলে ভেসে আসছে ইমরান খানের ছবি। এ জন্য সুন্দর পিচাইকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ অ্যাসেম্বলিতে এ জন্য এমন একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গুগল সিইও-কে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে উর্দুতে ‘ভিখারি’ লিখে গুগলে সার্চ করলেই কেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ছবি আসছে।

    কয়েক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের খবর প্রচারের সময় ইংরেজিতে ‘ব্রেকিং’ না লিখে ‘বেগিং’ লিখে ফেলে একটি টিভি চ্যানেল। এতে বিশ্বব্যাপী ট্রলের শিকার হন ইমরান খান। হয়তো ওই ঘটনার কারণেই ভিখারি লিখে সার্চ করলে ইমরান খানের ছবি চলে আসছে। তথ্যসূত্র: পাকিস্তান টুডে ও ইন্ডিয়া টাইমস।

  • ২৮৮ ইভিএম সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর

    ২৮৮ ইভিএম সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর

    চট্টগ্রাম-৯ আসনের ১৪৪টি কেন্দ্রের ২৮৮টি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে নির্বাচন কমিশন।

    ঢাকা থেকে নেয়া মেশিনগুলো আজ সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ইভিএম হস্তান্তর করেন।

    পরবর্তীতে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনবাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে মেশিনগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে দু’টি করে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

    আগামী ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ সহ মোট ৬টি আসনের সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

  • আমরণ অনশন: নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে যা বললেন লতিফ সিদ্দিকী

    আমরণ অনশন: নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে যা বললেন লতিফ সিদ্দিকী

    গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় কোনো প্রতিকার না পেয়ে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরণ অনশন পালন করছেন। সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত একটি আবেদনে মাধ্যমে অবহতি করে তিনি আমরণ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    লিখিত আবেদনে তিনি বলেন, আমার অবস্থান ধর্মঘটে ১৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম একই সঙ্গে আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার। আমার যদি কোনো ক্ষতি হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে।

    টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং কর্মকতা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো তিনি এই আমরণ অনশন কর্মসূচি করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তার এই কর্মসূচি অব্যহত থাকবে বলে তার কর্মী সমর্থকরা জানান। সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত তাকে অনশন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়।

    লতিফ সিদ্দিকীর তিন দফা দাবিগুলো হলো: কালিহাতীর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেনকে প্রত্যাহার, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি যাতে করে এ ধরনের হামলা ঘটনা আর না ঘটে, এ জন্য আ’লীগ প্রার্থী সোহেল হাজারীকে লিখিত দিতে হবে।

    বাংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাশমত আলী বলেন, লতিফ সিদ্দিকী সোমবার প্রতিকার না পেয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। আমরণ অনশন তিনি কি কারণে করছেন। আমরা এই কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।

    লতিফ সিদ্দিকী প্রথমে সেখানে গতকাল রোববার অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও তিনি পরে কাঁথা, বালিশ বিছিয়ে শুয়ে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। এরপর তিনি আজ সোমবার থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে চৌকিতে শুয়ে আমরণ কর্মসূচি পালন করছেন।

    গতকাল রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি রোববার সকালে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নে আমার নির্বাচনী কাজে যাই। প্রথমত সরাতৈল এবং বল্লভবাড়ির মাঝামাঝি এলাকায় আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে আমরা নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বল্লভবাড়িতে মহির উদ্দিন তালুকদারের বাড়িতে যাই। সেখানে গোহালিয়াবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন তালুকদারের সাথে কথা বলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বর্তমান সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খানের ইন্দনে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা লাঠিসোটা দিয়ে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অন্তত চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে আহত হন অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী।

    লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতীতে তার বাসায় সংবাদ সম্মেলনে করে এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। সেই মোতাবেক তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি দলের সভাপতিমন্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী।

    লতিফ সিদ্দিকীর পৈত্রিক নিবাস টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে।

  • আমজাদ হোসেনের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে ভোগান্তি

    আমজাদ হোসেনের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে ভোগান্তি

    কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার, অভিনয়শিল্পী এবং লেখক আমজাদ হোসেন মারা গেছেন গত শুক্রবার। এর পর চার দিন পার হতে যাচ্ছে। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই এখনো তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। ব্যাংককে এখন আছেন আমজাদ হোসেনের ছোট ছেলে সোহেল আরমান। আজ সোমবার দুপুরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু আমজাদ হোসেনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানাতে পারেননি। সোহেল আরমান বলেন, ‘বাবার মরদেহ দেশে নেওয়ার সব প্রক্রিয়া চলছে।’

    ঢাকার পর ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে টানা ১৬ দিন চিকিৎসার পর গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে মারা যান আমজাদ হোসেন। পরদিন শনিবার প্রথম আলোকে সোহেল আরমান ব্যাংকক থেকে জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ আছে। তাই প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করে বাবার মরদেহ নিয়ে সোমবার সকালে ঢাকায় ফিরতে পারবেন। কিন্তু আজ সন্ধ্যায় জানালেন ভিন্ন কথা।

    সোহেল আরমান বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় সব শেষ। বাবার চিকিৎসার ব্যাপারে ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস যুক্ত আছে, তাই দূতাবাস থেকে হাসপাতালের বিল পরিশোধের নিশ্চয়তাসংক্রান্ত কাগজটি দিলেই বাবাকে নিয়ে রওনা করতে পারব। কিন্তু দূতাবাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেই ধরনের কোনো কাগজ এখনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়নি, তাই দেরি হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়, আমজাদ হোসেনের বকেয়া বিলের দায়িত্ব সরকার নিয়েছে, তাহলে কিন্তু আর কোনো কথা থাকবে না। বাংলাদেশ দূতাবাস বাবার মরদেহ দেশে পাঠাবে, এটা তো তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমি জেনেছি, বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীই নিয়েছেন।’

    এদিকে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও ফার্স্ট সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরেণ্য পরিচালক আমজাদ হোসেনকে ২৭ নভেম্বর রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সে সময় আমজাদ হোসেনের পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার খরচ বাবদ ৪২ লাখ (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ২২ লাখ ও চিকিৎসায় ২০ লাখ) টাকা অনুদান দেন। সোহেল আরমানের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুদানের বাইরেও ১৬ দিনে তাঁরা বাবার চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬১ লাখ টাকা।

    ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস যদি বিল পরিশোধের নিশ্চয়তাসংক্রান্ত কাগজ না দেয়, তাহলে কি আপনার বাবার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে না? সোহেল আরমান বলেন, ‘সেটা তো আমি বলতে পারি না। সেটা আরেকটা ইস্যু। এটা আমার বড় ভাই দোদুল ভালো বলতে পারেন। ঢাকা থেকে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার আর আমার বড় ভাই সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেছেন, যেকোনো সময় চিঠিটা ইস্যু হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট অনেকেই এমন আশ্বাস দিয়েছেন।’

    এদিকে মুশফিকুর রহমান গুলজার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমজাদ হোসেনের মরদেহ দেশে আনার বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আশা করছি কাল মঙ্গলবার হয়ে যাবে। যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে আগামীকাল মঙ্গলবার রাতে আমজাদ হোসেনের মরদেহ দেশে আনা হবে।’

    মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আমজাদ হোসেনকে। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুরু থেকেই তাঁকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়। বাংলাদেশের বরেণ্য এই নির্মাতার শারীরিক অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে ভর্তির তিন দিনের মাথায় তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমজাদ হোসেনের উন্নত চিকিৎসার খরচ বাবদ ২০ লাখ টাকা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বাবদ ২২ লাখ টাকা পরিবারের হাতে তুলে দেন তিনি।

    পরিচালক আমজাদ হোসেনের জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, বড় বাড়ির মেয়ে, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’, ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।

    ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়া তিনি আরও ১৪ বার জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার।

  • হোপের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ক্যারিবীয়দের জয়

    হোপের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ক্যারিবীয়দের জয়

    টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর ধাক্কা খেল বাংলাদেশ প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয়দের সঙ্গে হেরে গেল টাইগাররা।

    ১৩০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্রা ১০.৫ ওভারেই জয় ছিনিয়ে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিযেছে ক্যারিবীয়রা।

    টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। একমাত্র সাকিব আল হাসান ৪৩ বলে ৬১ রান করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন আরিফুল হক।

    জবাবে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সাই হোপ। মাত্র ১৬ বলেই তিনি হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৫৫ রান করে তিনি আউট হন কিন্তু ১৩০ রান করতে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। মাত্র ১০.৫ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। সাকিব আল হাসানকে টানা ২ ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারি মেরে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন কিমো পল।

  • আরো ৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

    আরো ৫ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং বাংলাদেশের মানুষ যেন ভালো থাকে সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে আরো পাঁচটি বছর এ সরকারের ক্ষমতায় থাকা একান্ত প্রয়োজন।’

    তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো দল একত্রিত হয়ে ঐক্যফ্রন্ট করে নির্বাচন গেছে। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হলে তাদের সরকার প্রধান কে হবেন এখন পর্যন্ত তারা এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি। এতিমের টাকা আত্মসাতকারী, না রাজাকার-আলবদর নেতা, না একুশে গ্রেনেড হামলার আসামি-কে হবেন তাদের সরকার প্রধান, তা তারা এখনো স্পষ্ট করতে পারেননি। ’

    সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষ যখন ভালো আছে, দেশ যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিকে তারা স্বেচ্ছাচারিতা বলছে। দেশের ভালো চাওয়া এবং দেশের মানুষের ভালো থাকা যদি স্বেচ্ছাচারিতা হয় তাহলে তারা কী চান? তারা যে পরিবর্তনের কথা বলছেন তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে আবার লুটপাট, আবার অগ্নিসংযোগ, আবার মানিলন্ডারিং, আবার দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, আবার ৫০০ জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ, আবার গ্রেনেড হামলা, আবার বাংলা ভাই সৃষ্টি, আবার এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা যায় সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনবেন?’

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের সমাজে যারা তত্ত্বকথা বলে, যারা নিজেকে খ্যাতনামা আইনজীবী বলে দাবি করেন, যারা নিজেরা দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি বলে দাবি করেন, তারা আজ দিকভ্রষ্ট, নীতিভ্রষ্ট, আদর্শহীন। এরা বাংলাদেশের আদর্শকে বিশ্বাস করে না। এরা আবার একত্রিত হয়েছে।’