Newsvob.com. নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুকাল দরে শুনে আসছি জ্বীনের বাদশা’ প্রতারনার ঘটনা। কত মানুষ দিনের পর দিন দিন তাদেরকে বিশ্বাষ করে ফাঁদে ফেলেছে।
জ্বীনের বাদশা পরিচয়দানকারী ১। আঃ গফ্ফার (৩০), ২। মোঃ লুৎফর রহমান (২৬) উভয় পিতা- মৃত মোজাহার আলী @ মোজা, মাতা- করিমন, ৩। মোঃ শামীম (২৬) পিতা- মোঃ মিজানুর, সর্ব সাং- পূর্ব সমসপাড়া, থানা- গোবিন্দগঞ্জ, জেলা- গাইবান্ধা বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মসহ কেবল নেটওয়ার্ক এর লোকাল চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত অসুস্থ্য মানুষকে সুস্থ্য করা, বিদেশে যাওয়ার সুব্যবস্থা, দাম্পত্য কলহ দূর করা, বিবাহের বাঁধা দূর করা, চাকরিতে প্রমোশন, কম দামে স্বর্ণ ক্রয়, বদ জনীকে বিতাড়িত করা, খন্নাস জ্বীনকে পাতিল বন্দী করা ইত্যাদী সমস্যা সমাধানের জন্য বিজ্ঞাপন প্রদান করতো।
সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন মানুষ যোগাযোগ করলে ভিন্ন কন্ঠে কথা বলে নিরীহ সরলমনা মানুষকে ফাঁদে ফেলে এবং পরবর্তীতে তাদের কথা অনুযায়ী কাজ না করলে প্রিয়জনের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আত্মসাৎ করতো। জ্বীনের বাদশা সেজে এই প্রতারক চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন যাবৎ সক্রিয় ছিল।
বিষয়টি সিআইডি’র দৃষ্টিগোচর হলে, বিশেষ পুলিশ সুপার, জনাব মুক্তা ধর পিপিএম-বার এর সার্বিক তত্তবধানে ও দিক নির্দেশনায় উক্ত প্রতারক চক্রের মূল উৎপাটনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সকল তথ্য সংগ্রহ করে দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এলআইসির একটি চৌকস টীম গাইবান্ধা জেলায় অভিযান পরিচালনা করে কথিত ‘জ্বীনের বাদশা’ চক্রের মূল হোতা ১। মোঃ লুৎফর রহমান (২৬) পিতা- মৃত মোজাহার আলী @ মোজা, মাতা- করিমন ও তার সহযোগী ২। আঃ গফ্ফার (৩০), পিতা- মৃত মোজাহার আলী @ মোজা, মাতা- করিমন, ৩। মোঃ শামীম (২৬) পিতা- মোঃ মিজানুর, সর্ব সাং- পূর্ব সমসপাড়া, থানা- গোবিন্দগঞ্জ, জেলা- গাইবান্ধাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বিশ্লেষণপূর্বক দেখা যায় যে, উক্ত আসামীদের মধ্যে মোঃ লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জ্বীনের বাদশা সেজে প্রতারণা করে বিভিন্ন লোকজনের অসহায়ত্বের সুযোগে তাদেরকে সর্বশান্ত করার বিষয়টি স্বীকার করে। তারা গভীর রাতে জ্বীনের বাদশা ও পীর দরবেশ সেজে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করে বিকাশ/নগদ/রকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শতাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে গত ০৬ মাসে আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাৎ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন নিরীহ মানুষকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তাদের নিকট হতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এরুপ চাঞ্চল্যকর ঘটনার আসামীদেরকে দ্রতম সময়ে অবস্থান সনাক্ত পূর্বক গ্রেফতার সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
সূত্রঃ রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানার মামলা নং- ২/১৪, তারিখ- ০৬/০২/২০২২ ইং ধারা- ৪২০/৪০৬ পেনাল কোড- ১৮৬০।
জব্দকৃত আলামতঃ
(১) ০৫ (পাঁচ)টি মোবাইল ফোন।
(২) বিভিন্ন অপারেটরের একাধিক সীমকার্ড।
নিউজ ভয়েস অফ বাংলাশে- জে/ রশীদ