ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গণমাধ্যমে সরকারের পজিটিভ নিউজগুলো তুলে ধরলে অনুপ্রেরণা পাই : তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর আহ্বান Logo বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী Logo শপথ নিলেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo দুই স্ত্রীর মারামারি থামাতে গিয়ে জ্ঞান হারালেন মিসরের কোচ, পরিণতিতে ডিভোর্স Logo বাবার সঙ্গে ‘লিপ কিস’! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নেটদুনিয়ায় তোলপাড় Logo উত্তরায় ৫ ও ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি গ্রেফতার

কানাডার ইটের বদলে চীনা পাটকেল

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জানুয়ারী ২০১৯
  • ১৪৮ বার পঠিত হয়েছে

কানাডার ১৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার কানাডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়ানঝুকে গত মাসে গ্রেপ্তারের পর থেকে চীন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যখন একটি টানাপোড়েনের সম্পর্ক চলছে, ঠিক তখনই গ্রেপ্তার হন মেং ওয়ানঝু। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ অনুরোধে ১ ডিসেম্বর কানাডার ভাঙ্কুভার বিমানবন্দরে হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে মেং ওয়ানঝুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানে প্রযুক্তি বিক্রি করার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি হংকং থেকে মেক্সিকো যাচ্ছিলেন। ভাঙ্কুভার বিমানবন্দরে তাঁর যাত্রাবিরতি ছিল।

মেং ওয়ানঝু হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেইয়ের মেয়ে এবং প্রতিষ্ঠানটির সিএফও।

কানাডা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চীন যে ১৩ জনকে আটক করেছে, এর মধ্যে কমপক্ষে ৮ জনকে মুক্তি দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিবৃতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

মেংকে গ্রেপ্তারের পর থেকে চীন ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক উদ্বেগ বেড়েছে।

কানাডা অবশ্য কয়েকবার বলেছে, তাদের দেশের নাগরিকদের আটক করার সঙ্গে মেং ওয়ানঝুর গ্রেপ্তারের সম্পর্ক নেই। তবে বেইজিংভিত্তিক পশ্চিমা কূটনীতিক ও কানাডার সাবেক কূটনীতিকেরা বলছেন, কানাডার নাগরিকদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি চীন ‘ইটের বদলে পাটকেল’ হিসেবেই নিয়েছে।

১১ ডিসেম্বর ৭৪ লাখ মার্কিন ডলারে শর্ত সাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন কানাডার আদালত। এখন তিনি ভাঙ্কুভারে নিজের কয়েক লাখ ডলার মূল্যের বাড়িতে থাকছেন। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুর বিরুদ্ধে ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিষয়ে লড়তে হচ্ছে। তাঁর পায়ে মনিটর যুক্ত করা হয়েছে এবং রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত তাঁকে বাড়িতে থাকতে হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তাঁর।

কানাডার এক কর্মকর্তা বলেছেন, চীন যাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল কভরিগ, মাইকেল স্প্যাভর, সারাহ ম্যাকাইভার প্রমুখ। ম্যাকাইভার পেশায় শিক্ষক। তাঁকে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কভরিগ একজন কূটনীতিবিদ আর স্প্যাভর ব্যবসায়ী। এ ছাড়া বেশ কিছু অভিযোগে চীনে ২০০ কানাডার নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে বেইজিং বলেছিল, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কানাডার দুজন নাগরিককে আটক করেছে তারা। দেশটির আইন ভেঙেছিলেন তাঁরা।

কানাডার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কানাডার নাগরিকদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কানাডার নাগরিকদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয় চীন। হুয়াওয়ের ওই নির্বাহীকে দ্রুত ছেড়ে দিতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানায় বেইজিং। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, মেং ওয়ানঝুকে না ছাড়লে তার ভয়ানক পরিণতির সব দায় কানাডাকে ভোগ করতে হবে।

মেংকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভাঙ্কুভারে বিমান পরিবর্তনের সময় মেংকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাঁর অধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন। এটা অযৌক্তিকভাবে আইন লঙ্ঘন করে করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কানাডার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী লি উচেং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিবিসি অনলাইন এ তথ্য জানায়।

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুর গ্রেপ্তারে কানাডা সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কানাডার ইটের বদলে চীনা পাটকেল

আপডেট এর সময় : ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জানুয়ারী ২০১৯

কানাডার ১৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে চীন। গতকাল বৃহস্পতিবার কানাডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়ানঝুকে গত মাসে গ্রেপ্তারের পর থেকে চীন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যখন একটি টানাপোড়েনের সম্পর্ক চলছে, ঠিক তখনই গ্রেপ্তার হন মেং ওয়ানঝু। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ অনুরোধে ১ ডিসেম্বর কানাডার ভাঙ্কুভার বিমানবন্দরে হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে মেং ওয়ানঝুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানে প্রযুক্তি বিক্রি করার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি হংকং থেকে মেক্সিকো যাচ্ছিলেন। ভাঙ্কুভার বিমানবন্দরে তাঁর যাত্রাবিরতি ছিল।

মেং ওয়ানঝু হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেইয়ের মেয়ে এবং প্রতিষ্ঠানটির সিএফও।

কানাডা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চীন যে ১৩ জনকে আটক করেছে, এর মধ্যে কমপক্ষে ৮ জনকে মুক্তি দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিবৃতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা প্রকাশ করা হয়েছে।

মেংকে গ্রেপ্তারের পর থেকে চীন ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক উদ্বেগ বেড়েছে।

কানাডা অবশ্য কয়েকবার বলেছে, তাদের দেশের নাগরিকদের আটক করার সঙ্গে মেং ওয়ানঝুর গ্রেপ্তারের সম্পর্ক নেই। তবে বেইজিংভিত্তিক পশ্চিমা কূটনীতিক ও কানাডার সাবেক কূটনীতিকেরা বলছেন, কানাডার নাগরিকদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি চীন ‘ইটের বদলে পাটকেল’ হিসেবেই নিয়েছে।

১১ ডিসেম্বর ৭৪ লাখ মার্কিন ডলারে শর্ত সাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন কানাডার আদালত। এখন তিনি ভাঙ্কুভারে নিজের কয়েক লাখ ডলার মূল্যের বাড়িতে থাকছেন। চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুর বিরুদ্ধে ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের বিষয়ে লড়তে হচ্ছে। তাঁর পায়ে মনিটর যুক্ত করা হয়েছে এবং রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত তাঁকে বাড়িতে থাকতে হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তাঁর।

কানাডার এক কর্মকর্তা বলেছেন, চীন যাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল কভরিগ, মাইকেল স্প্যাভর, সারাহ ম্যাকাইভার প্রমুখ। ম্যাকাইভার পেশায় শিক্ষক। তাঁকে অবশ্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কভরিগ একজন কূটনীতিবিদ আর স্প্যাভর ব্যবসায়ী। এ ছাড়া বেশ কিছু অভিযোগে চীনে ২০০ কানাডার নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে বেইজিং বলেছিল, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কানাডার দুজন নাগরিককে আটক করেছে তারা। দেশটির আইন ভেঙেছিলেন তাঁরা।

কানাডার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কানাডার নাগরিকদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কানাডার নাগরিকদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয় চীন। হুয়াওয়ের ওই নির্বাহীকে দ্রুত ছেড়ে দিতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানায় বেইজিং। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, মেং ওয়ানঝুকে না ছাড়লে তার ভয়ানক পরিণতির সব দায় কানাডাকে ভোগ করতে হবে।

মেংকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভাঙ্কুভারে বিমান পরিবর্তনের সময় মেংকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাঁর অধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন। এটা অযৌক্তিকভাবে আইন লঙ্ঘন করে করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কানাডার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী লি উচেং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। বিবিসি অনলাইন এ তথ্য জানায়।

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুর গ্রেপ্তারে কানাডা সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।