ঢাকা , বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo গণমাধ্যমে সরকারের পজিটিভ নিউজগুলো তুলে ধরলে অনুপ্রেরণা পাই : তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর আহ্বান Logo বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী Logo শপথ নিলেন ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo দুই স্ত্রীর মারামারি থামাতে গিয়ে জ্ঞান হারালেন মিসরের কোচ, পরিণতিতে ডিভোর্স Logo বাবার সঙ্গে ‘লিপ কিস’! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নেটদুনিয়ায় তোলপাড় Logo উত্তরায় ৫ ও ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি গ্রেফতার

জুয়েলের হাতে ডিজিটালাইজেশন ভবন থেকে ডিজিটাল ভবন

  • প্রতিনিধির নাম :
  • আপডেট এর সময় : ১১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯
  • ১১১ বার পঠিত হয়েছে

অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। একজন আইনজীবী যিনি একই সঙ্গে দেশব্যাপী পরিচিত একজন নাট্য অভিনেতা। নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমাজে বিশেষ করে আইনজীবী সমিতির উন্নয়নে যিনি একজন ডাইনামিক আইনজীবী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। সদাহাস্যোজ্জল এই আইনজীবী বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। একই পদে এ বছরের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ প্যানেল থেকে দাড়িয়েছেন। তবে এই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থীর তুলনায় অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য। তার সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর জয় তো দুরের কথা লড়াইটাই হবে কিনা তা নিয়েও বেশ সন্দিহান খোদ বিএনপির আইনজীবীরাই।

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলই প্রথম। অন্যান্য আইনজীবীরা যা চিন্তাও করেননি সেইসব বিষয়ে তিনি আইনজীবী সমিতিকে দিয়েছেন ডিজিটালের ছোয়া। মুল কথা আইনজীবী সমিতিকে ডিজিটালাইজেশন শুরু করেন হাসান ফেরদৌস জুয়েল। এমনকি এর আগে তিনি আইনজীবীদের ছবি সহ ডাইরেক্টরী তৈরির কাজ হয় তার মাধ্যমে। আইনজীবী সমিতিকে ওয়াইফাই জোন তৈরি করেছেন তিনি। আইনজীবী সমিতির ওয়েব সাইটের কাজও হয়েছে তার মাধ্যমে। এই ওয়েব সাইটের মাধ্যমে যে কোন সময় যে কোন বিচার প্রার্থী একজন আইনজীবীকে সহজে খুজে পান। প্রত্যেক আইনজীবীর ছবি, নাম ঠিকানা, এমনকি আইনজীবীদের সনদ নম্বর সহ দেয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের কল্যাণে সবচেয়ে কার্যকরী বেনাভোলেন্ড ফান্ড তৈরি হয়েছে একমাত্র জুয়েলের কঠোর প্রচেষ্টায়। ওই সময় অনেক সিনিয়র আইনজীবীরা বেনাভোলেন্ড ফান্ড তৈরিতে বাধাও দিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সমিতির এক অনুষ্ঠানে জুয়েলের হাত থেকে মাইকও কেড়ে নেয়া হয়েছিল। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। বর্তমানে সেই বেনাভোল্ডে ফান্ডই এখন আইনজীবীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। যা একজন আইনজীবী মৃত্যুর দিনই পেয়ে যাচ্ছেন বিশাল অংকের টাকা। যে কোন আইনজীবী সদস্য হওয়ার পরই মৃত্যুবরণ করলে পাচ্ছেন বিশাল অংকের অর্থ। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হচ্ছে। অনেক কাঠখোড় পুুড়িয়ে এই বেনাভোলেন্ড ফান্ড তৈরি করেছিলেন হাসান ফেরদৌস জুয়েল। এখন আইনজীবীদের মুখে বেনাভোলেন্ড ফান্ডের প্রসংশা অহরহ হচ্ছে।

এসব উন্নয়ন কাজ ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবার আইনজীবীদের জন্য ডিজিটাল ৮তলা বিশিষ্ট ভবন। পুরো ভবনটিই হতে যাচ্ছে আধুনিক যেখানে আইনজীবীদের চেম্বার, কমন রুম, নারী আইনজীবীদের জন্য কমনরুম, আধুনিক ওয়াশরুম, মিলনায়তন, আইনজীবীদের জন্য চেম্বার, নামাজের রুম, সিনিয়র আইনজীবী ও জুনিয়র আইনজীবীদের জন্য বসার পৃৃথক স্থান, থাকবে লিফটের ব্যবস্থা। এসব কাজে রয়েছেন সমিতির বর্তমান সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়াও। এই ভবন তৈরির বিষয়ে জুয়েল মোহসীন পরিষদের উদ্যোগের বিষয়ে অনেকেই বাধা দিয়েছিল। বিএনপির আইনজীবীরাও বলেছিলেন রক্ত দিয়ে হলেও পুুরাতন ভবন ভাঙ্গতে দিবেন না। তবে সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে চলছে ডিজিটাল বার ভবনের কাজ। এসব বিষয়গুলোই আইনজীবী ভোটাররা মাথায় রাখছেন।

ইতিমধ্যে আইনজীবীদের পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। নির্বাচনের পরপরই কাজ শুরু হয়ে যাবে। এই ভবন তৈরিতে ৩ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করেছেন মহাজোটের এমপি একেএম সেলিম ওসমান। এছাড়ও বর্তমান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীকেও ঘোষণা করেছেন এক কোটি টাকা অনুদান দিবেন। একইভাবে আইন মন্ত্রীও ঘোষণা করেছেন এক কোটি টাকা দিবেন। এবার জুুয়েল মোহসীনের লক্ষ্য সমিতির এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সংখ্যাঘরিষ্ঠতা অর্জন করে জয়ী হয়ে উপরোক্ত তিন অনুদানদাতাদের কাছ থেকে আরও অনুদান আদায় করা। আইনজীবীরা বলছেন, যাকে ভোট দিলে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করেন তাকেই তো ভোট দেয়া উচিত। আইনজীবীরাও মাথায় রাখছেন এখন সরকারি দল আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট। তাই সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের দিকেই ঝুকতে চাচ্ছেন সাধারণ আইনজীবীরা।

ছবি- আওয়ামীলীগ প্যানেলের মনোনিত ১৭ জন অাইনজীবী।

অন্যদিকে এসবের মাঝেও হাল ছাড়ছেনা বিএনপি। এবারের নির্বাচনেও তারা প্যানেল ঘোষণা করেছেন। যদিও অনেকটা ধরে বেধে বিএনপির আইনজীবীদের নিয়ে প্যানেল গঠন করেছেন বিএনপির শীর্ষ আইনজীবীরা নেতারা। এই নির্বাচনে মুখ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে আইনজীবীদের জন্য ৮ তলা বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবন। ইতিমধ্যে পুরাতন ভেঙ্গে ফেলা পুরাতন ভবনের স্থলে হবে ডিজিটাল এই বার ভবন। যে ভবন নির্মানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া। আইনজীবীদের কাছে নির্বাচনের আগেই ভবন নির্মাণ নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন জুয়েল মোহসীন। তুলনামুলকভাবে এবারের প্যানেলটি বিএনপির অনেকটাই নড়বড়ে অবস্থায়। অনেক হেভিওয়েট আইনজীবী থাকলেও জুয়েল মোহসীনের সামনে যে বার ভবনটি নির্মানাধীন রয়েছে সেই ভবনের সামনে বিএনপির হেভিওয়েট আইনজীবীরা দাড়াননি। তবে বিএনপি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী সরকার হুমায়ুন কবির ও সেক্রেটারি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ জাকির নির্বাচনে জয়ের আশাও ব্যক্ত করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোহসীন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে প্যানেল ঘোষণা করেছে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। এই প্যানেলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আলী আহম্মদ ভ্ইুয়া, সহ-সভাপতি পদে বিদ্যুৎ কুমার সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ পদে আবদুর রউফ মোল্লা, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে মনিরুজ্জামান কাজল, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে সুবাস বিশ্বাস, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মাসুদ রানা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদ পদে সাজ্জাদুল হক সুমন, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে রাশেদ ভুইয়া, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে স্বপন ভুইয়া এবং কার্যকরী সদস্য পদে আনোয়ার হোসেন ভুইয়া, নুসরাত জাহান তানিয়া, মোহাম্মদ মশিউর রহমান, আব্দুল মান্নান ও হাসিবুল হাসান রনিকে মনোনিত করা হয়।

ছবি- আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির প্যানেলের ১৭ আইনজীবী।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেলে সভাপতি হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন সরকার হুমায়ুন কবির, সেক্রেটারি হিসেবে আবুল কালাম আজাদ জাকির, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান রেজা, সহ-সভাপতি পদে গিয়াসউদ্দীন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শাহিদুর রহমান টিটু, কোষাধ্যক্ষ পদে নজরুল ইসলাম মাসুম, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে কায়সার আলম চৌধুরী টুটুল, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে শারমীন আক্তার, ক্রীড়া সম্পাদক পদে শেখ আনজুম আহমেদ রিফাত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রাসেল প্রধান, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে আসমা হেলেন বিথি, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে মোহাম্মদ রোকন উদ্দীন, কার্যকরী সদস্য পদে আহসান হাবিব ভুইয়া, সারোয়ার জাহান, আমিনুল ইসলাম, নাসরিন আক্তার ও ফজলুর রহমান ফাহিম।

আগামী ২৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ২০১৯-২০২০ সালের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেল গঠনের লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়।

গত ৭ জানুয়ারি সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী ২৪ জানুয়ারি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য্য করা হয়। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সর্বসম্মতিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন, জিপি অ্যাডভোকেট মেরিনা বেগম, অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম, অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন ও অ্যাডভোকেট সুখচাঁন সরকার। এছাড়াও তিন সদস্যের আপিল বোর্ডে রয়েছেন অ্যাডভোকেট শওকত আলী, অ্যাডভোকেট রমজান আলী ও অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক তারাজ উদ্দীন।

এখানে উল্লেখ্যযে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে সভাপতি সেক্রেটারি ও জয়েন্ট সেক্রেটারি সহ ৬টি পদে নির্বাচিত হন। যেখানে বিএনপি প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি সহ ১১ জন আইনজীবী নির্বাচিত হন।

ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্যানেল থেকে সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক আবুল বাশার রুবেল ও কার্যকরী সদস্য আব্দুল মান্নান ও রাশেদ ভূইয়া এবং বিএনপির প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান রেজা, সহ-সভাপতি আজিজ আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ নুুরুল আমিন মাসুম, আপ্যায়ণ সম্পাদক সুমন মিয়া, লাইব্রেরী বিষয়ক সম্পাদক একেএম ওমর ফারুক নয়ন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাসুম, সমাজ সেবা সম্পাদক শারমীন আক্তার, আইন ও মানবাধিকবার বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, কার্যকরী পরিষদ সদস্য আল আমিন সবুজ, আমেনা প্রধান শিল্পী ও রফিকুল ইসলাম অনু নির্বাচিত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জুয়েলের হাতে ডিজিটালাইজেশন ভবন থেকে ডিজিটাল ভবন

আপডেট এর সময় : ১১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। একজন আইনজীবী যিনি একই সঙ্গে দেশব্যাপী পরিচিত একজন নাট্য অভিনেতা। নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমাজে বিশেষ করে আইনজীবী সমিতির উন্নয়নে যিনি একজন ডাইনামিক আইনজীবী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। সদাহাস্যোজ্জল এই আইনজীবী বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি। একই পদে এ বছরের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগ প্যানেল থেকে দাড়িয়েছেন। তবে এই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থীর তুলনায় অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য। তার সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর জয় তো দুরের কথা লড়াইটাই হবে কিনা তা নিয়েও বেশ সন্দিহান খোদ বিএনপির আইনজীবীরাই।

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলই প্রথম। অন্যান্য আইনজীবীরা যা চিন্তাও করেননি সেইসব বিষয়ে তিনি আইনজীবী সমিতিকে দিয়েছেন ডিজিটালের ছোয়া। মুল কথা আইনজীবী সমিতিকে ডিজিটালাইজেশন শুরু করেন হাসান ফেরদৌস জুয়েল। এমনকি এর আগে তিনি আইনজীবীদের ছবি সহ ডাইরেক্টরী তৈরির কাজ হয় তার মাধ্যমে। আইনজীবী সমিতিকে ওয়াইফাই জোন তৈরি করেছেন তিনি। আইনজীবী সমিতির ওয়েব সাইটের কাজও হয়েছে তার মাধ্যমে। এই ওয়েব সাইটের মাধ্যমে যে কোন সময় যে কোন বিচার প্রার্থী একজন আইনজীবীকে সহজে খুজে পান। প্রত্যেক আইনজীবীর ছবি, নাম ঠিকানা, এমনকি আইনজীবীদের সনদ নম্বর সহ দেয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের কল্যাণে সবচেয়ে কার্যকরী বেনাভোলেন্ড ফান্ড তৈরি হয়েছে একমাত্র জুয়েলের কঠোর প্রচেষ্টায়। ওই সময় অনেক সিনিয়র আইনজীবীরা বেনাভোলেন্ড ফান্ড তৈরিতে বাধাও দিয়েছিলেন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সমিতির এক অনুষ্ঠানে জুয়েলের হাত থেকে মাইকও কেড়ে নেয়া হয়েছিল। তবুও তিনি থেমে থাকেননি। বর্তমানে সেই বেনাভোল্ডে ফান্ডই এখন আইনজীবীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। যা একজন আইনজীবী মৃত্যুর দিনই পেয়ে যাচ্ছেন বিশাল অংকের টাকা। যে কোন আইনজীবী সদস্য হওয়ার পরই মৃত্যুবরণ করলে পাচ্ছেন বিশাল অংকের অর্থ। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হচ্ছে। অনেক কাঠখোড় পুুড়িয়ে এই বেনাভোলেন্ড ফান্ড তৈরি করেছিলেন হাসান ফেরদৌস জুয়েল। এখন আইনজীবীদের মুখে বেনাভোলেন্ড ফান্ডের প্রসংশা অহরহ হচ্ছে।

এসব উন্নয়ন কাজ ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবার আইনজীবীদের জন্য ডিজিটাল ৮তলা বিশিষ্ট ভবন। পুরো ভবনটিই হতে যাচ্ছে আধুনিক যেখানে আইনজীবীদের চেম্বার, কমন রুম, নারী আইনজীবীদের জন্য কমনরুম, আধুনিক ওয়াশরুম, মিলনায়তন, আইনজীবীদের জন্য চেম্বার, নামাজের রুম, সিনিয়র আইনজীবী ও জুনিয়র আইনজীবীদের জন্য বসার পৃৃথক স্থান, থাকবে লিফটের ব্যবস্থা। এসব কাজে রয়েছেন সমিতির বর্তমান সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়াও। এই ভবন তৈরির বিষয়ে জুয়েল মোহসীন পরিষদের উদ্যোগের বিষয়ে অনেকেই বাধা দিয়েছিল। বিএনপির আইনজীবীরাও বলেছিলেন রক্ত দিয়ে হলেও পুুরাতন ভবন ভাঙ্গতে দিবেন না। তবে সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে চলছে ডিজিটাল বার ভবনের কাজ। এসব বিষয়গুলোই আইনজীবী ভোটাররা মাথায় রাখছেন।

ইতিমধ্যে আইনজীবীদের পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। নির্বাচনের পরপরই কাজ শুরু হয়ে যাবে। এই ভবন তৈরিতে ৩ কোটি টাকার অনুদান ঘোষণা করেছেন মহাজোটের এমপি একেএম সেলিম ওসমান। এছাড়ও বর্তমান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর বীর প্রতীকেও ঘোষণা করেছেন এক কোটি টাকা অনুদান দিবেন। একইভাবে আইন মন্ত্রীও ঘোষণা করেছেন এক কোটি টাকা দিবেন। এবার জুুয়েল মোহসীনের লক্ষ্য সমিতির এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সংখ্যাঘরিষ্ঠতা অর্জন করে জয়ী হয়ে উপরোক্ত তিন অনুদানদাতাদের কাছ থেকে আরও অনুদান আদায় করা। আইনজীবীরা বলছেন, যাকে ভোট দিলে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করেন তাকেই তো ভোট দেয়া উচিত। আইনজীবীরাও মাথায় রাখছেন এখন সরকারি দল আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট। তাই সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের দিকেই ঝুকতে চাচ্ছেন সাধারণ আইনজীবীরা।

ছবি- আওয়ামীলীগ প্যানেলের মনোনিত ১৭ জন অাইনজীবী।

অন্যদিকে এসবের মাঝেও হাল ছাড়ছেনা বিএনপি। এবারের নির্বাচনেও তারা প্যানেল ঘোষণা করেছেন। যদিও অনেকটা ধরে বেধে বিএনপির আইনজীবীদের নিয়ে প্যানেল গঠন করেছেন বিএনপির শীর্ষ আইনজীবীরা নেতারা। এই নির্বাচনে মুখ্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে আইনজীবীদের জন্য ৮ তলা বিশিষ্ট ডিজিটাল বার ভবন। ইতিমধ্যে পুরাতন ভেঙ্গে ফেলা পুরাতন ভবনের স্থলে হবে ডিজিটাল এই বার ভবন। যে ভবন নির্মানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া। আইনজীবীদের কাছে নির্বাচনের আগেই ভবন নির্মাণ নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন জুয়েল মোহসীন। তুলনামুলকভাবে এবারের প্যানেলটি বিএনপির অনেকটাই নড়বড়ে অবস্থায়। অনেক হেভিওয়েট আইনজীবী থাকলেও জুয়েল মোহসীনের সামনে যে বার ভবনটি নির্মানাধীন রয়েছে সেই ভবনের সামনে বিএনপির হেভিওয়েট আইনজীবীরা দাড়াননি। তবে বিএনপি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী সরকার হুমায়ুন কবির ও সেক্রেটারি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ জাকির নির্বাচনে জয়ের আশাও ব্যক্ত করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোহসীন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে প্যানেল ঘোষণা করেছে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। এই প্যানেলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আলী আহম্মদ ভ্ইুয়া, সহ-সভাপতি পদে বিদ্যুৎ কুমার সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ পদে আবদুর রউফ মোল্লা, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে মনিরুজ্জামান কাজল, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে সুবাস বিশ্বাস, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মাসুদ রানা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদ পদে সাজ্জাদুল হক সুমন, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে রাশেদ ভুইয়া, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে স্বপন ভুইয়া এবং কার্যকরী সদস্য পদে আনোয়ার হোসেন ভুইয়া, নুসরাত জাহান তানিয়া, মোহাম্মদ মশিউর রহমান, আব্দুল মান্নান ও হাসিবুল হাসান রনিকে মনোনিত করা হয়।

ছবি- আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির প্যানেলের ১৭ আইনজীবী।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ প্যানেলে সভাপতি হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন সরকার হুমায়ুন কবির, সেক্রেটারি হিসেবে আবুল কালাম আজাদ জাকির, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান রেজা, সহ-সভাপতি পদে গিয়াসউদ্দীন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শাহিদুর রহমান টিটু, কোষাধ্যক্ষ পদে নজরুল ইসলাম মাসুম, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে কায়সার আলম চৌধুরী টুটুল, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে শারমীন আক্তার, ক্রীড়া সম্পাদক পদে শেখ আনজুম আহমেদ রিফাত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রাসেল প্রধান, সমাজ সেবা সম্পাদক পদে আসমা হেলেন বিথি, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে মোহাম্মদ রোকন উদ্দীন, কার্যকরী সদস্য পদে আহসান হাবিব ভুইয়া, সারোয়ার জাহান, আমিনুল ইসলাম, নাসরিন আক্তার ও ফজলুর রহমান ফাহিম।

আগামী ২৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ২০১৯-২০২০ সালের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেল গঠনের লক্ষ্যে ১৩ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়।

গত ৭ জানুয়ারি সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী ২৪ জানুয়ারি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য্য করা হয়। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সর্বসম্মতিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আক্তার হোসেন, জিপি অ্যাডভোকেট মেরিনা বেগম, অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম, অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন ও অ্যাডভোকেট সুখচাঁন সরকার। এছাড়াও তিন সদস্যের আপিল বোর্ডে রয়েছেন অ্যাডভোকেট শওকত আলী, অ্যাডভোকেট রমজান আলী ও অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক তারাজ উদ্দীন।

এখানে উল্লেখ্যযে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে সভাপতি সেক্রেটারি ও জয়েন্ট সেক্রেটারি সহ ৬টি পদে নির্বাচিত হন। যেখানে বিএনপি প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি সহ ১১ জন আইনজীবী নির্বাচিত হন।

ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্যানেল থেকে সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক আবুল বাশার রুবেল ও কার্যকরী সদস্য আব্দুল মান্নান ও রাশেদ ভূইয়া এবং বিএনপির প্যানেল থেকে সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান রেজা, সহ-সভাপতি আজিজ আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ নুুরুল আমিন মাসুম, আপ্যায়ণ সম্পাদক সুমন মিয়া, লাইব্রেরী বিষয়ক সম্পাদক একেএম ওমর ফারুক নয়ন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাসুম, সমাজ সেবা সম্পাদক শারমীন আক্তার, আইন ও মানবাধিকবার বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, কার্যকরী পরিষদ সদস্য আল আমিন সবুজ, আমেনা প্রধান শিল্পী ও রফিকুল ইসলাম অনু নির্বাচিত হন।