ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী Logo সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর Logo আলী খামেনির জানাজায় কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ছিলেন না Logo আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় তিন ছেলে, আসতে পারলেন না মোজতবা খামেনি Logo ৩৪ সচিবের পদোন্নতিতে জনপ্রশাসন সচিবকে কৃতজ্ঞতা জানালো সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস এসোসিয়েশন Logo ইকরার আত্মহত্যা: রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ জানিয়েছেন আলভী Logo উত্তাপ ছড়াচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া Logo প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন কাল Logo দ্বিতীয়বার মাস সেরা মুশফিক Logo মেসিকে অভিনন্দন জানালেন ক্লোসা

“ঘূর্ণিঝড় ইয়াস” ৫০ বছরে সেন্টমার্টিনে এমন ক্ষ’তি হয়নি

Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্কঃ     আজ বুধবার (২৬ মে) দুপুরের দিকে থেকে দ্বীপ এলাকার লোকজন ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। পানির উচ্চতা ৪ থেকে ৫ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ার কারণে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে ভেঙেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু জায়গা। সেন্টমার্টিন প্রবেশের একমাত্র জেটিঘাট ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়।

সাগরের পানি ও জেটি একাকার হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ঢেউয়ের বুকে ঢুকে যায় এই জেটি। হয়ে উঠে নড়বড়ে। ভেঙে গেছে জেটির উপর ও নীচে। বলতে গেলেই ঝুঁকিপ্রবণ এই ঘাট। সেই সঙ্গে দ্বীপের চারিদিকে ভয়ানকভাবে ভেঙেছে। গত ৫০ বছরে দ্বীপের এমন ক্ষতি হয়নি।

গেল তিন থেকে ৪ দিন ধরে পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সাগরের পানি ও ঢেউয়ের আছড় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
গতকাল থেকে পানির উচ্চতা ও ঢেউয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাগরের তাণ্ডবে কবরস্থানের পশ্চিম দিকে ভেঙে গেছে। পূর্ব দিকেও ভেঙেছে। বেশ কিছু নারকেল গাছ উপড়ে গেছে। পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ও প্রিন্স সেভেন নামের এক হোটেলের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় সেন্টমার্টিনের একমাত্র প্রবেশ পথ ভাঙন ধরেছে। পথের বিভিন্ন জায়গায় ঢালায় উঠে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে। সেন্টমার্টিন রক্ষা করতে হলে চারপাশে বেড়িবাঁধ দিতে হবে বলে জানান এই পর্যটক ব্যবসায়ী ও সেন্টমার্টিন এর বাসিন্দারা।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দ্বীপের চারিদিকে ব্যাপকভাবে ভেঙে গেছে। প্রায় দ্বীপের ১০টির বেশি অংশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমন ক্ষতি গত ৫০ বছরেও হয়নি। দ্বীপের দক্ষিণ পাশের একটি জামে মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে জেলেদের বেশ কিছু বোট/ট্রলার ঢেউয়ের আঘাতে নষ্ট হয়েছে। বিধ্বস্ত হয় বেশ কিছু বাড়ি ঘর।

তিনি জানান, মানুষ নিরাপদে বাড়িতে রয়েছেন। হোটেল-মোটেল প্রস্তুত রয়েছে। সংকেত বাড়লেই সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হতো।

এছাড়া টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কবলে পড়েছে। সাগরের জোয়ারের পানির তীব্র ধাক্কা পড়ছে ব্লকের। ইতোমধ্যে দ্বীপের পশ্চিম পাশের বেশ কিছু ব্লক সরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে পানির ধাক্কায় বেড়িবাঁধ যেকোনো সময় ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। দ্বীপরক্ষার একমাত্র ভরসা এই বেড়িবাঁধ ধসে পড়লে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে সেখানকার হাজারো মানুষ। সেই সাথে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া প্রায় ২০টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব সেন্টমার্টিনে ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপের চারিদিকে ভাঙন, ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২৭ ঘরবাড়ি ও ট্রলার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত লোকজনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মানুষ আতঙ্কে থাকলেও নিরাপদে রয়েছে বলে জানা যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

News VOB

টানা ভারি বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে নগরবাসী

“ঘূর্ণিঝড় ইয়াস” ৫০ বছরে সেন্টমার্টিনে এমন ক্ষ’তি হয়নি

আপডেট এর সময় : ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১

Newsvob.com.: অনলাইন ডেস্কঃ     আজ বুধবার (২৬ মে) দুপুরের দিকে থেকে দ্বীপ এলাকার লোকজন ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। পানির উচ্চতা ৪ থেকে ৫ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ার কারণে দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে ভেঙেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু জায়গা। সেন্টমার্টিন প্রবেশের একমাত্র জেটিঘাট ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়।

সাগরের পানি ও জেটি একাকার হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে ঢেউয়ের বুকে ঢুকে যায় এই জেটি। হয়ে উঠে নড়বড়ে। ভেঙে গেছে জেটির উপর ও নীচে। বলতে গেলেই ঝুঁকিপ্রবণ এই ঘাট। সেই সঙ্গে দ্বীপের চারিদিকে ভয়ানকভাবে ভেঙেছে। গত ৫০ বছরে দ্বীপের এমন ক্ষতি হয়নি।

গেল তিন থেকে ৪ দিন ধরে পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে সাগরের পানি ও ঢেউয়ের আছড় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
গতকাল থেকে পানির উচ্চতা ও ঢেউয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাগরের তাণ্ডবে কবরস্থানের পশ্চিম দিকে ভেঙে গেছে। পূর্ব দিকেও ভেঙেছে। বেশ কিছু নারকেল গাছ উপড়ে গেছে। পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ও প্রিন্স সেভেন নামের এক হোটেলের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় সেন্টমার্টিনের একমাত্র প্রবেশ পথ ভাঙন ধরেছে। পথের বিভিন্ন জায়গায় ঢালায় উঠে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে। সেন্টমার্টিন রক্ষা করতে হলে চারপাশে বেড়িবাঁধ দিতে হবে বলে জানান এই পর্যটক ব্যবসায়ী ও সেন্টমার্টিন এর বাসিন্দারা।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দ্বীপের চারিদিকে ব্যাপকভাবে ভেঙে গেছে। প্রায় দ্বীপের ১০টির বেশি অংশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমন ক্ষতি গত ৫০ বছরেও হয়নি। দ্বীপের দক্ষিণ পাশের একটি জামে মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে জেলেদের বেশ কিছু বোট/ট্রলার ঢেউয়ের আঘাতে নষ্ট হয়েছে। বিধ্বস্ত হয় বেশ কিছু বাড়ি ঘর।

তিনি জানান, মানুষ নিরাপদে বাড়িতে রয়েছেন। হোটেল-মোটেল প্রস্তুত রয়েছে। সংকেত বাড়লেই সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হতো।

এছাড়া টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কবলে পড়েছে। সাগরের জোয়ারের পানির তীব্র ধাক্কা পড়ছে ব্লকের। ইতোমধ্যে দ্বীপের পশ্চিম পাশের বেশ কিছু ব্লক সরে পড়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে পানির ধাক্কায় বেড়িবাঁধ যেকোনো সময় ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। দ্বীপরক্ষার একমাত্র ভরসা এই বেড়িবাঁধ ধসে পড়লে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে সেখানকার হাজারো মানুষ। সেই সাথে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে শাহপরী দ্বীপের জালিয়াপাড়া প্রায় ২০টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
পূর্ণিমার জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব সেন্টমার্টিনে ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপের চারিদিকে ভাঙন, ঘরবাড়ি ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২৭ ঘরবাড়ি ও ট্রলার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত লোকজনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মানুষ আতঙ্কে থাকলেও নিরাপদে রয়েছে বলে জানা যায়।