Blog

  • বিয়ে হয়নি, তাতে কী!

    বিয়ে হয়নি, তাতে কী!

    রণবীর কাপুর আর আলিয়া ভাটের বিয়ে তো দূরের কথা, বিয়ে নিয়ে তাঁদের দুই পরিবারের মধ্যে কোনো আলোচনাও হয়নি। বছরখানেক ধরে তাঁদের সম্পর্ক। ঘনিষ্ঠতা ক্রমেই বাড়ছে, তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজেদের সম্পর্কের কথা তাঁরা কেউ স্বীকার করেননি। কিন্তু তাঁদের দেখা হওয়া, একসঙ্গে সময় কাটানো, বেড়াতে দেশের বাইরে চলে যাওয়া—এই সবই চলছে পুরোদমে। আর তাতে দুই পরিবার থেকে কেউ তাঁদের বাধা দেয়নি। বরং সবকিছু দেখে মনে হয়, এই পুরো ব্যাপারে পরিবারের সবার সম্মতি রয়েছে।

    রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটরণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটএবার জানা গেছে, নতুন বছরের শুরুটা তাঁরা একসঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন। রণবীর কাপুরের বাবা বলিউডের আরেক বরেণ্য অভিনেতা ঋষি কাপুরের চিকিৎসা হচ্ছে এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। তাঁর সঙ্গে আছেন স্ত্রী বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা নীতু সিং কাপুরও। তাই প্রেমিকাকে নিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিনটা নিউইয়র্কেই থাকবেন রণবীর কাপুর। আর আলিয়াও তাঁর নতুন বছরের শুরুটা রণবীরের পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চান।

    রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটরণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটপরিচালক অয়ন মুখার্জির ছবি ‘ব্রহ্মাস্ত্র’র শুটিং চলছে এখন। প্রতিদিনই অনেকটা সময় এই ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাটকে। এখন রণবীর কাপুরের বাড়িতে আলিয়া ভাট নিয়মিত আসা–যাওয়া করেন। এ মাসের শেষ দিকে নিউইয়র্কে উড়ে যাবেন তাঁরা।

  • দ্রাবিড়-পূজারায় এত মিল!

    দ্রাবিড়-পূজারায় এত মিল!

    অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম দিনে চেতেশ্বর পূজারার ব্যাটে ভর করে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে পেরেছে ভারত। সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পথে পূর্বসূরি রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে তুলনাটা পূজারা যেন আবার নতুন করে জাগিয়ে তুললেন!

    অভিষেক থেকেই চেতেশ্বর পূজারাকে পরবর্তী ‘রাহুল দ্রাবিড়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এসেছে ভারতীয় মিডিয়া। বড় ইনিংস খেলার প্রতি ঝোঁক, ধৈর্য, উইকেট কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতা—এ সবকিছু মিলিয়েই আধুনিক টেস্ট ব্যাটসম্যানের সব গুণ যেন উপস্থিত পূজারার মধ্যে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে আজ প্রথম দিনে সেঞ্চুরি করে পূজারা নিজেকে কাগজে-কলমে আসলেই ‘দ্রাবিড়’ বানিয়ে ফেললেন!

    অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ধুঁকেছে ভারত। এক চেতেশ্বর পূজারা ছাড়া ব্যাট হাতে সবাই-ই ব্যর্থ। যে কোহলিকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে এত আলোচনা, অন্তত অ্যাডিলেড টেস্টে প্রথম ইনিংসে তাঁকে বশ মানাতে পেরেছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। একপ্রান্ত আগলে রেখে ঠিক প্রতি দুই বলে এক রান করে তুলে ২৪৬ বলে ১২৩ রান করে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন পূজারা। এই ইনিংস খেলার পথেই টেস্ট ক্যারিয়ারে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক টপকেছেন তিনি। আর এই মাইলফলক অতিক্রম করতে গিয়েই তিনি বিচিত্রভাবে ছুঁয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়কে!

    ৫ হাজার রান করতে পূজারার লাগল ১০৮ ইনিংস। কাকতালীয়ভাবে পূর্বসূরি রাহুল দ্রাবিড়েরও ৫ হাজার রান করতে ওই ১০৮ ইনিংসই লেগেছিল! দাঁড়ান, আশ্চর্যের শেষ এখানেই নয়। এর আগে চার হাজার রান করতে পূজারার লেগেছিল ৮৪ ইনিংস, দ্রাবিড়েরও তাই। এমনকি তিন হাজার রান করতে দ্রাবিড় যত ইনিংস খেলেছিলেন, পূজারারও ঠিক তত ইনিংসই লেগেছিল—৬৭ ইনিংস!

    নিজেকে কাগজে-কলমে পরবর্তী রাহুল দ্রাবিড় প্রমাণ করতে তাহলে উঠেপড়েই লেগেছেন চেতেশ্বর পূজারা, এমনটা মনে হওয়া বিচিত্র কিছু নয়!

  • হঠাৎ বনানী কার্যালয়ে এরশাদ।

    হঠাৎ বনানী কার্যালয়ে এরশাদ।

    জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নেতা কর্মীদের বলেছেন, সব নির্ভর করে তোমাদের ওপর। কেউ পার্টি ছেড়ে যেও না, আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও।

    প্রায় ১৫ দিন পর আজ বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) হঠাৎ বনানী কার্যালয়ের সামনে গাড়িতে বসে তিনি এসব কথা বলেন। গাড়িতে বনানী কার্যালয়ে সামনে এলেও কার্যালয়ে প্রবেশ করেননি তিনি।

    এরশাদ বলেন, আজ বলতে এসেছি, আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমি এগিয়ে যাব। আমার ব্লাড শর্টেজ রয়েছে, বাসায় যাচ্ছি। আমার বয়স হয়েছে, চিকিৎসা করতে দেবে না। বাইরে যেতে দেবে না। মৃত্যুকে ভয় করি না।

    মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য কর্মীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, তোমাদের কোনো ভয় নেই। জাপা তোমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। জাপা চিরদিন নির্বাচন করেছে, এবারও করবে।

    এরশাদ বলেন, পুরনো মহাসচিবকে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ভালোবাসতাম। নতুন মহাসচিবকে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে তোমরা ভালোবেস। সে নতুন, তাকে সাহায্য করো। বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব। ২৭ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, পার্টি ছাড়ি নাই। সব নির্ভর করে তোমাদের ওপর। কেউ পার্টি ছেড়ে যেও না, আমাকে প্রতিশ্রুতি দাও।

    এ সময় এরশাদের কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন। তারা বলেন, ‘এরশাদের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন। আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান।’

    সর্বশেষ গত ২০ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে কথা বলেন তিনি। এরপর থেকে কখনও বাসায় কখনও সিএমএইচ-এ ভর্তি হয়েছে তিনি। এছাড়া সংবাদকর্মীদের সামনে আসেননি প্রাক্তন এ রাষ্ট্রপতি।

  • মোদির ‘রথযাত্রার’ সঙ্গে পাল্লা দিতে মমতার ‘কীর্তন’

    মোদির ‘রথযাত্রার’ সঙ্গে পাল্লা দিতে মমতার ‘কীর্তন’

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কাল শুক্রবার থেকে বিজেপির ‘রথযাত্রা’ শুরু হচ্ছে। আর এর সঙ্গে পাল্লা দিতে রাজ্যে ক্ষমতাসীনদের খোল ও করতাল নিয়ে কীর্তনের লড়াই জমে উঠেছে। কাল বুধবার কর্মীদের মধ্যে খোল ও করতাল বিতরণ করেছে তৃণমূল।

    রাজ্যে তৃতীয় এবং চতুর্থ দলও নামছে রাস্তায়। সেই দু্ই দল হলো কংগ্রেস এবং বাম দল। তবে রথ বা খোল করতাল নিয়ে নয়। নামছে লাল পতাকা আর তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে। তারা রাজ্যজুড়ে সম্প্রীতির মিছিল করবে। ঝান্ডা নিয়ে রাস্তায় হাঁটবে, সভা সমাবেশ করবে।

    আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাসে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার ৫৪৩টি আসনের নির্বাচন হওয়ার কথা। এই পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে এই লোকসভার ৪২টি আসন। এই আসনের মধ্যে এখন ৩৪টি আসন দখল করে আছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। জাতীয় কংগ্রেসের দখলে আছে ৪টি, আর বাম দল ও বিজেপির দখলে আছে ২টি করে আসন। এবার মমতা দাবি করেছেন রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের সব ক’টিই ছিনিয়ে নেবে তৃণমূল। বিজেপি বলেছে, তারা এবার এই রাজ্যে জিততে চলেছে ২২টি আসনে। তবে বাম দল ও কংগ্রেস এখন পর্যন্ত ঘোষণা দেয়নি তারা ক’টি আসনে জিততে চলেছে। ফলে এই জয় নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে রাজ্যজুড়ে।
    আর রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী ঝড় তোলার জন্য বিজেপি এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ’গণতন্ত্র বাঁচাও ’ নামে তিনটি প্রচার রথ বের করার। রথ তিনটি বের হবে রাজ্যর তিন প্রান্ত থেকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ করেছেন রথকে। বলেছেন, ’এত রথ নয়; যেন পাঁচতারা হোটেল।’ কী থাকবে না এখানে, এসি থেকে ইন্টারনেট সব ব্যবস্থা। থাকবে নেতাদের বিশ্রাম কক্ষ, খানাপিনার ব্যবস্থা। সেই রথযাত্রাই করবে এবার বিজেপি। এই রথ বের হবে কাল ৭, ৯ ও ১৪ ডিসেম্বর। কালকের রথ বের হবে কোচবিহার থেকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপ থেকে রথ বের হবে ৯ ডিসেম্বর আর বীরভূমের তারাপীঠ থেকে শুরু হবে ১৪ ডিসেম্বর।

    এই রথযাত্রাকে ঘিরে তিনটি বড় সমাবেশ করবে বিজেপি। এই সমাবেশে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সঙ্গে থাকবেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। থাকবেন বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। এই রথযাত্রার মাঝেই প্রথম সমাবেশ হবে ১৬ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে। দ্বিতীয় সমাবেশ হবে ২৪ ডিসেম্বর বর্ধমানের দুর্গাপুরে। তৃতীয় সমাবেশ হবে ১১ জানুয়ারি নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। এই তিনটি সমাবেশেই মোদির উপস্থিত থাকার কথা। আর চতুর্থ বা শেষ মহাসমাবেশ হওয়ার কথা ২৯ জানুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। এই রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এই রথযাত্রায় বিভিন্ন সময় বিজেপি ২০০টি পথসভা করবে। ৩টি মহাসমাবেশ করবে। রথ তিনটি তৈরি হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে আধুনিক বাসের ওপর । শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই রথে থাকবে ইন্টারনেটের সুবিধাও। থাকবে বিশ্রামের জায়গা। রথ গুলি পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্র ঘুরে শেষ হবে কলকাতায়। রথ বাঁচাতে প্রতিটি রথের সঙ্গে থাকবে বিজেপির ২০০ কর্মীর একটি মোটরসাইকেল বাহিনী। এরাই রথের সামনে পেছনে থাকবে তারা। পাহারা দেবে রথ।
    এর আগে অবশ্য ১৯ জানুয়ারি মমতাও ডাক দিয়েছেন মোদি বিরোধী মহাসমাবেশের। সেই সমাবেশও হবে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানে উপস্থিত থাকবে বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দল।

    রথযাত্রার মতো ধর্ম আশ্রিত এক কর্মসূচির মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল ঘোষণা দিয়েছে তারা খোল-করতাল নিয়ে সংকীর্তন যাত্রা করবে। তারাপীঠে রথযাত্রার আগে বীরভূম জেলাজুড়ে বের হবে এই কর্মসূচি । পথে পথে তাঁদের কীর্তন দলের সদস্যরা গাইবেন গাইবেন ’হরে রাম হরে কৃষ্ণ’। তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল আগেই ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, এই সংকীর্তন যাত্রায় ভক্তদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ৪ হাজার খোল আর ৮ হাজার করতাল। এগুলো বানিয়ে আনা হয়েছে নবদ্বীপ আর মুর্শিদাবাদ থেকে। এ জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২ কোটি রুপি। ভক্তরা এই খোল করতাল নিয়ে জেলার ১৯টি ব্লক জুড়ে সংকীর্তন করবেন। কাল বুধবার থেকে সেই খোল করতাল ভক্তদের মাঝে বিতরণ শুরু করেছেন অনুব্রত মন্ডল।
    অনুব্রতর কথায়, বিজেপির ওই রথযাত্রা হবে ’শ্মশান যাত্রা’। দলের ’অন্তিম যাত্রা’। যদিও সিপিএমের বীরভূমের জেলা সভাপতি ও সাবেক সাংসদ রামচন্দ্র ডোম প্রশ্ন তুলে বলেছেন, কোথা থেকে এই টাকা পেল অনুব্রত মন্ডল— তা জানানো হোক জনগণকে। আবার স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক মিলটন রশিদ বলেছেন, বিজেপির এ এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চক্রান্ত। এবার সাম্প্রদায়িকতার মুখোশ খসে পড়বে তৃণমূলেরও। আর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন,’খোল করতালতো শবযাত্রায় লাগে। তৃণমূলের দিন শেষ। তাই শবযাত্রার জন্য খোল করতাল এনেছে। ’
    তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি এই রথযাত্রার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বাম দল এবং জাতীয় কংগ্রেস। তারা সমস্বরে বলেছে, এই রথযাত্রার বিরুদ্ধে তারা পথে নামবে।
    আর এই রথযাত্রা নিয়ে বসে নেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং বাম দল। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বাম দল ঘোষণা দিয়েছে তারা রুখবে এই রথ।

    এর আগে বিজেপির এই রথযাত্রা ঘোষণার পর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র পাল্টা ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন , ’এই রাজ্যের মেহনতি ও শান্তিপ্রিয় মানুষ রাস্তায় নেমে বিজেপির রথযাত্রা আটকে দেবে। প্রয়োজনে রাস্তায় মানুষের দেয়াল তুলে দেবে , যাতে বিজেপির রাস্তা স্তব্ধ হয়ে যায়, রথযাত্রা যেন কোনো পথ খুঁজে না পায়’। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে বিজেপির মহিলা মোর্চার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি লকেট চট্টোপাধ্যায় পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ’বাংলায় রথযাত্রা আটকানোর চেষ্টা হলে , যাঁরা তা করবেন তাঁদের রথের চাকাতেই পিষে মারা হবে’। এরপরই হুগলির এক জনসভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও ফের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন , ’এবার মারের বদলা হবে মার। আর হাসপাতালে কাউকে পাঠানো হবে না’।

    এসব উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে । গত ২৬ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গের ৫০টি গণসংগঠন এই রথযাত্রার প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে শুরু করেছে ’সংহতি যাত্রা’। এই যাত্রা শেষ হবে আজ ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন। এই দিনই বাম দল সহ বিভিন্ন দল গোটা রাজ্যজুড়ে পালন করছে সংহতি দিবস। আর রাজ্যের ৬টি বাম দল আজ বাবরি ধ্বংসের দিনে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সম্প্রীতি মিছিল বের করছে এই বাম দলগুলি।

  • আপিল করেও বাদ পড়লেন যারা

    আপিল করেও বাদ পড়লেন যারা

    নির্বাচন কমিশন একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বাতিল হওয়া মনোনয়নের ওপর শুনানি শুরু করে। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের লিফটের ১০ তলায় এজলাসে এ আপিল শুনানি শুরু হয়।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ শুনানি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শামসুল হুদার আবেদনের শুনানির মাধ্যমে কমিশন এ কার্যক্রম শুরু করে।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা শুনানি করছেন।

    শুনানির প্রথম দিনে বেশ কয়েকজন প্রার্থিতা ফিরে পান। তাদের বেশিরভাগই ধানের শীষের প্রার্থী। স্বতন্ত্র কয়েকজন প্রার্থীও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

    বেলা সাড়ে ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তারা হলেন-গোলাম মওলা রনি (বিএনপি) পটুয়াখালী-৩;

    মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান (বিএনপি) কিশোরগঞ্জ-৩;

    মোরশেদ উদ্দিন মিল্টন (বিএনপি) বগুড়া-৭;

    তমিজ উদ্দিন (বিএনপি) ঢাকা-২০;

    শফিকুল হক মনা (বিএনপি) খুলনা-৬

    ফরিদুল কবির তালুকদার (বিএনপি) জামালপুর-৪;

    সুমন সালামত পটুয়াখালী-১;

    মিজানুর রহমান ঠাকুরগাঁও-১;

    শাহজাহান পটুয়াখালী-৩;

    কাইয়ুম চৌধুরী (বিএনপি) সিলেট-৩;

    মাহবুব আলম (স্বতন্ত্র) গাজীপুর-২;

    নজরুল ইসলাম নেত্রকোনা-১;

    জহিরুল ইসলাম মিন্টু মাদারীপুর-১

    শামসুল হুদা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১;

    আয়নাল হক সিরাজঞ্জ-৩

    জুবায়ের আহমেদ হবিগঞ্জ-১;

    জয়নাল আবেদীন গাজীপুর-২

    আফসার আলী সাতক্ষীরা-২;

    মোহাম্মদ শাহজাহান পটুয়াখালী-৩;

    হেলাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪;

    জয়নাল আবেদিন;

    ফজলুর রহমান জয়পুরহাট;

    আবিদুর রহমান মানিকগঞ্জ-২;

    জেসমিন নূর বেবী

    আবদুল মজিদ ঝিনাইদহ-২ প্রমুখ

    সারা দেশে যাচাই-বাছাই শেষে আগ্রহী ৭৮৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আপিল করেছেন ৫৪৩ প্রার্থী। ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেননি ২৪৩ প্রার্থী।

    বৃহস্পতিবার ১-১৬০ পর্যন্ত আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে। এ ছাড়া শুক্রবার ১৬১-৩১০ পর্যন্ত আর ৩১১-৫৪৩ পর্যন্ত বাতিল হওয়া মনোনয়ন প্রার্থীর আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে।

    ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ক্রমিক অনুসারে আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে। আপিলের ফল সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেয়া হবে। কোনো প্রার্থীর আপিল গ্রহণ করা হলে, তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হবে।

  • কুমিল্লার নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বহাল

    কুমিল্লার নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বহাল

    কুমিল্লার নাশকতার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলা হয়েছে।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

    খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল জানান, গত ২৮ নভেম্বর হাইকোর্ট কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কাভার্ড ভ্যান পোড়ানোর মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়। এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করেনি। রাষ্ট্রপক্ষ আজ সময় চায় লিভ টু আপিল দায়েরের। আপিল বিভাগ সময় মঞ্জুর করে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখে।

    ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের পৌর এলাকার হায়দারপুল এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এ মামলা হয়।

  • অভিযোগ মুক্ত যৌন নিপীড়নকারী মার্কিন ধনকুবের

    অভিযোগ মুক্ত যৌন নিপীড়নকারী মার্কিন ধনকুবের

    একাধিক নাবালিকার যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। নিজের দোষ স্বীকার করে জেলও খেটেছেন এক সময়ে। মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন এ বার আরও এক মামলা থেকে মুক্তি পেলেন।

    অভিযোগকারীদের একটা বড় অংশের হয়ে এত বছর ধরে জেরা করা আইনজীবী ব্র্যা়ডলি এডওয়ার্ডস নিজের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য তার চরিত্রে কাদা ছেটানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করে আসছিলেন জেফরি। সেই সংক্রান্ত একটি মামলা বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ হওয়ার আগেই এডওয়ার্ডসের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন জেফরি। নিজে হাজির না থেকে বিবৃতি পাঠিয়েছিলেন আদালতে। এর ফলে এডওয়ার্ডসের আনা মানহানির মামলা বন্ধ করে দিতে হয়। যার ফলে জেফরির বিরুদ্ধে এই ধরনের আরও অনেক অভিযোগ সামনে আসতে পারবে না বলে মনে করছেন অনেকে।

    বিল ক্লিন্টন থেকে শুরু করে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বহু মার্কিন রাজনৈতিকের প্রচার কাজে অর্থ ঢেলেছেন জেফরি। এ হেন জেফরির বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৬০ জন নারী (যারা এখন বেশির ভাগই কুড়ি বা তিরিশের কোঠায়) যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন।

    তাদের অধিকাংশের অভিযোগ, তাদের যখন আঠারোর নিচে বয়স, জেফরি তার পাম বিচ ম্যানসনে তাদের যৌন হেনস্থা করেন। ২০০৮ সালে এর জন্য ১৩ মাস জেলও খেটেছেন জেফরি। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ার দরুণ তাকে সেই সময়েও প্রচুর ছাড় দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি দিনের বেলা নিজের সেলে থাকতেও হত না জেফরিকে।

    আইনজীবী এডওয়ার্ডসের বিরুদ্ধে জেফরি যেসব অভিযোগ এনেছিলেন, তার জন্য গত মঙ্গলবার নিঃস্বার্থভাবে ক্ষমা চান তিনি। অনেকেই বলছেন, এডওয়ার্ডসকে প্রচুর অর্থও দিচ্ছেন জেফরি। যার জেরেই আদালতের বাইরে এই মামলার মীমাংসা হয়ে গেল। এডওয়ার্ডসের অবশ্য বক্তব্য, জেফরির আনা অভিযোগে তার নয়, তার মক্কেলদের অপমান করা হয়েছে। ওই আইনজীবী আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও নারী জেফরির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন।

  • যুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দিল ভারত

    যুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দিল ভারত

    ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশের রণাঙ্গনের অবস্থা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিত্রবাহিনীর আক্রমণে দিশেহারা হানাদার বাহিনী সূর্য ওঠার আগেই বিভিন্ন সীমান্ত ঘাঁটি থেকে পালাতে শুরু করে। আর ভারত স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

    এদিকে বাংলাদেশের স্বীকৃতি নিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে লেখা হয় ‘স্বীকৃতির তিলক বাংলাদেশের ললাটে। বাংলাদেশের আজ বিচলিত হওয়ার কিছু নাই। সূর্যোদয়কে যাহারা অস্বীকার করে, তাহারা অন্ধ মাত্র, অস্বীকৃতির দৃষ্টিহীনতা সকালের রশ্মিজলকে মিথ্যা করিয়া দিতে পারে না।’

    এদিনে মিত্রবাহিনী আকাশ থেকে অবাধ গতিতে বিমান আক্রমণ চালায়। বঙ্গোপসাগরে ভারতের নৌবাহিনী সৃষ্টি করে নৌ-অবরোধ। আজকের এ দিনে ফেনী মুক্ত হয়। দশম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট ও সাবসেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা কর্নেল জাফর ইমামের নেতৃত্বে ফেনী মুক্ত করেন।

    মেজর জলিলের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধারা সাতক্ষীরা মুক্ত করে খুলনার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ঝিনাইগাতীর আহম্মদ নগর হানাদার বাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করেন কোম্পানি কমান্ডার মো. রহমতুল্লাহ। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও মুক্ত করে সেদিন বীরগঞ্জ ও খানসামার পাক অবস্থানের দিকে এগিয়ে চলছিল মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী। এদিকে লাকসাম, আখাউড়া, চৌদ্দগ্রাম, হিলিতে মুক্তিবাহিনী দৃঢ় অবস্থান নেয়। রাতে আখাউড়া ও সিলেটের শমসেরনগর যৌথবাহিনীর অধিকারে আসে। আর যৌথবাহিনী পায়ে হেঁটে ঝিনাইদহ পৌঁছে এবং শহরটি মুক্ত করে।

    এদিকে স্বীকৃতি পেয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশে এক বেতার ভাষণে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মিত্ররাষ্ট্র ভারতের জওয়ানদের অভিনন্দন জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় ভারতের সঙ্গে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে পাকিস্তান। আর ভারতে মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়।

    মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় যশোর ও কুড়িগ্রাম। প্রথম কোনো জেলা শহর হিসেবে যশোরই প্রথম হানাদার মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা আর ভারতীয় বাহিনীর যৌথ আক্রমণে যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তান বাহিনী। ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করে তারা খুলনার শিরোমনিতে অবস্থান নেয়। পাক হানাদার বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে যাওয়ার ফলে এই দিন যশোর শত্রুমুক্ত হয়।

    এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় কুড়িগ্রাম জেলা। এই অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শহীদ লেফটেন্যান্ট আশফাকুস সামাদ বীরউত্তম (মরণোত্তর) খেতাব পান। বীরবিক্রম খেতাব অর্জন করেন- শওকত আলী এবং সৈয়দ মনসুর আলী টুংকু। বীরপ্রতীক খেতাব পান বদরুজ্জামান, আব্দুল হাই সরকার, আবদুল আজীজ এবং তারামন বিবি।

  • বাদ পড়ছেন আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ ‘বিকল্প’

    বাদ পড়ছেন আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ ‘বিকল্প’

    আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে যাদের মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে, তাদের বেশির ভাগকেই হতাশ হতে হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, মূল প্রার্থীরা টিকে যাওয়ায় বিকল্পদের দলের প্রতীক পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

    যে ১২টি আসনে একজন করে বিকল্প নেতাকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনজনের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এদের মধ্যে একজন আবার একটি শরিক দলের প্রধান।

    গত ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর মোট ২৬৬ আসনে প্রার্থী দেয় আওয়ামী লীগ। ১৪টি আসনে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয় দুইজনকে। এদের মধ্যে দুইজন জমা দেননি। ফলে ১২টি আসনে রয়ে গেছে দুইজন করে প্রার্থী।

    ৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রার্থিতা জমা এবং মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়ে গেছে। বাতিল হয়ে যাওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিলও করেছেন। তাদের আবেদন নিষ্পত্তি হবে আগামী তিন দিন। আর ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে।

    সেদিন রাজনৈতিক দলগুলো জানিয়ে দেবে, কোন আসনে তাদের দলের প্রার্থী কে। ফলে বিকল্প কারও পক্ষে ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে না।

    আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, কিছু আসনে একাধিক প্রার্থী দেয়ার কারণ ছিল, পছন্দের প্রথম প্রার্থীর বিষয়ে আইনি জটিলতার আশঙ্কা। তবে যাচাই-বাছাইয়ে সবাই বৈধ প্রার্থী হয়ে গেছেন, ফলে বিকল্পদের বেশির ভাগকে নিয়ে আর ভাবতে চাইছেন না তারা।

    এর মধ্যে একটি আসন ছিল কিশোরগঞ্জ-১। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই আসনের সংসদ সদস্য। তিনি অসুস্থ এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন থাইল্যান্ডে। তাকে নিয়ে আশঙ্কা ছিল দলে। এ কারণে মশিউর রহমান হুমায়ুনকে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়। তবে আশরাফের অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো এবং চিকিৎসকরা তার সুস্থতার বিষয়ে আশাবাদী। তিনি হাঁটাচলাও করছেন। আর তার মনোনয়নপত্র বৈধও ঘোষণা হয়েছে। এই অবস্থায় আশরাফকেই প্রার্থী করতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

    হুমায়ুন অবশ্য এরই মধ্যে নিজ উপজেলা হোসেনপুরে জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও নানাভাবে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।

    বরগুনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ ভরসা রাখতে পারে পুরনো কান্ডারি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ওপর। তিনি চারবার এই আসন থেকে জিতেছেন। তার মনোনয়ন বৈধ হয় কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তাই সেখানে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রাখা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরকে। বৈধ হয়েছে দুইজনেরই মনোনয়ন।

    আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘শম্ভু আমাদের পরীক্ষিত প্রার্থী। বারবার জিতেছেন। প্রমাণ দিয়েছেন জনপ্রিয়তার। তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় এখন প্রার্থী পাল্টানোর যুক্তি দেখছি না।’

    টাঙ্গাইল-২ আসনে প্রথমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন প্রবাসী ব্যবসায়ী তানভীর হাসান (ছোট মনির)। পরে বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয় মশিউজ্জামান রুমেলকে। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে।

    ছোট মনি মনোনয়নের চিঠি পাওয়ার পর গণমাধ্যমে খবর আসে, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি জার্মানিরও নাগরিক। তবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কেউ বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেনি বা তুললেও টেকেনি।

    এই আসনটিতে ছোট মনিরের বদলে রুমেলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘রুমেলের বাবা সংসদ সদস্য, বয়সের কারণে ভোটে লড়তে পারছেন না, কিন্তু ব্যাপক জনপ্রিয়। রুমেলও কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরেই। তাকেই হয়তো শেষ পর্যন্ত আমরা বেছে নেব।’

    ঢাকা-৫ আসনের হাবিবুর রহমান মোল্লা আবারও মনোনয়ন পেতে পারেন। ২৫ নভেম্বর তার পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী হিসেবে কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকেও দেয়া হয় দলের চিঠি।

    এই আসনটিতে হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়েছেন। হেরেছেন একবার। সবশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে প্রায় ৫৪ হাজার ভোটে পরাজিত করেন তিনি। ফলে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষিত সেনাকেই বেছে নেয়া হতে পারে।

    ঢাকা-৭ আসনে হাজী মো. সেলিমের মনোনয়ন বাতিল হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল আওয়ামী লীগের। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার সাজা হয়েছিল। তবে উচ্চ আদালতে সেই রায় টেকেনি। যদিও এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দুদক।

    যাচাই-বাছাইয়ে হাজী সেলিমের মনোনয়ন বৈধও ঘোষিত হয়েছে। তাই চূড়ান্তভাবে তাকেই দলীয় প্রতীক দেয়া হতে পারে।

    এই আসনে হাজী সেলিম ২০১৪ সালে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে হারিয়ে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন।

    তাই এ আসনে তার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতকে। যাচাই-বাচাইয়ে তার মনোনয়নও বৈধ ঘোষিত হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগেরও সন্দেহ ছিল তিনি (সেলিম) নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই ওই আসনে দুইজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী আইনে তিনি টিকে গেছে এখানে। তো আমাদের কিছু করার নেই।’

    ঢাকা-১৭ আসনের আকবর হাসান পাঠান ফারুকের মনোনয়ন স্থগিত করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে ফারুকের বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের খানকে। দুইজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে ফারুককেই এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সম্পাদকম-লীর একজন সদস্য।

    আসনটি চাইছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও। ২০০৮ সালে এই আসনটি তাকেই দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সেখানে তাকে ছাড় দেয়া হবে কি না, এই বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

    জামালপুর-১ আসনের আবুল কালাম আজাদের বিকল্প প্রার্থী নূর মোহাম্মদ। যাচাই-বাচাইয়ে দুইজনের প্রার্থিতাই বহাল রয়েছে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নে এগিয়ে আছেন সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ।

    দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ মিলে আসনটি। এর মধ্যে বকশীগঞ্জের নেতাকর্মীরা আজাদকে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ করে কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তারা সবাই নুর মোহাম্মদের পক্ষে। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

    তবে আজাদ চারবারের সংসদ সদস্য। আর এরই মধ্যে দলের সবুজ সংকেত পেয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।

    নূর মোহাম্মদ ২০০৮ সালে দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। ভোট পান  হিসেবে ৪৯ হাজার ৬৪৯টি। এক লাখ ১৫ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে জেতেন আজাদ। ধানের শীষে পড়ে ৭০ হাজার ৬৮০ ভোট।

    তবে কপাল খুলতে পারে জামালপুর-৫ আসনের বিকল্প প্রার্থী মোজাফফর হোসেনের। এই আসনে ১৯৯৬ সাল থেকেই জিতে আসছেন রেজাউল করিম হীরা। জিতেছেন মোট চারবার। এবারও পেয়েছেন দলের মনোনয়ন।

    তবে শিল্পপতি মোজাফফর এলাকায় এসে হীরার রাজত্বে ভাগ বসাতে চাইছেন। জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী তার পক্ষে অবস্থানও নিয়েছে। আর তার সমর্থকরা মনোনয়নের সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি করছেন। এরই মধ্যে হীরার অনুসারীরা অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে।

    চাঁদপুর-১ আসনে মহিউদ্দীন খান আলমগীরের পাশাপাশি গোলাম রহমানকে এখানে মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়। দুইজনই সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মহিউদ্দীন খান আলমগীরের সাজা হয়েছিল দুর্নীতির মামলায়। তবে উচ্চ আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেয়। এর বিরুদ্ধে আবার আপিল করেছে দুদক। তাই তার মনোনয়ন বৈধ হয় কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

    দলের একজন সম্পাদকদ-লীর সদস্য ঢাকা টাইমসকে জানান, দুইজনকে মনোনয়ন দেয়ার পর নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাই তাকে বাদ দেয়া কঠিন।

    চাঁদপুর-২ আসনে প্রথমে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে একাই মনোনয়ন ফরম দেয়া হয়। দুই দিন পর চিঠি দেয়া হয় সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল আমিন রুহুলকেও। যাচাই-বাচাইয়ে দুইজনের মনোনয়ন ফরমই বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

    তত্ত্বাবধায়কের আমলে সাজা হয়েছিল মায়ার। পরে উচ্চ আদালতে পেয়েছেন খালাস। আপিল বিভাগের নির্দেশে সেই মামলা আবার শুনানির পর এসেছে একই রায়। ফলে মায়ার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন একজন সাংগঠনিক সম্পাদক।

    চাঁদপুর-৪ আসনেও দুইজনকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। ২৫ নভেম্বর শামছুল হক ভূঁইয়াকে এবং দুই দিন পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলামকে বিকল্প প্রার্থী করা হয়। যাচাই-বাচাইয়ে দুইজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর এতে শামসুলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া বেড়ে গেছে।

    শামসুল হক ভূঁইয়ার খেলাপি ঋণ থাকতে পারে বলে তথ্য ছিল। তিনি ফারমার্স ব্যাংক থকে ৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি বলে অভিযোগ আছে। তবে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসায় খেলাপি হিসেবে তাকে বিবেচনার সুযোগ ছিল না।

    নড়াইল-১ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি এবং জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। রিটার্নিং কর্মকর্তা দুইজনেরই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন।

    আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, এই আসনে আম্বিয়াকে ছাড় দেয়া হবে এবং এরই মধ্যে তাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুক্তি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।

    দুইজন জমা দেননি চিঠি

    মনোনয়নের চিঠি পেয়েও প্রার্থিতা জমা না দেয়ায় আগেই বাদ পড়ে গেছেন দুইজন। এরা হলেন বরিশাল-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস এবং বরিশাল-৫ আসনে জেবুন্নেসা হিরন।

    বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে লড়বেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহে আলম। আর বরিশাল-৫ আসনে নৌকা নিয়ে লড়বেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদ ফারুক শামীম।

  • সুনামগঞ্জ-১ : বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ছাত্রদলের সভা

    সুনামগঞ্জ-১ : বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ছাত্রদলের সভা

    সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী আনিসুল হকের সমর্থনে ধর্মপাশা উপজেলায় বুধবার বিকালে ছাত্রদলের মতবিনিময় সভা হয়েছে।
    এসময় বক্তারা সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিজয়ের স্বার্থে দলত্যাগী আনিসুল হকের একক প্রার্থী চান।

    উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. হাবিবুল্লাহর সভাপতিত্বে ও উপজেলা ছাত্রদল  নেতা হুমায়ুন আহমেদ মারুফের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন- জেলা পেশাজীবী দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান আহমেদ লিটন, ধর্মপাশা সদর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমন আহমেদ মানিক, উপজেলা যুবদল নেতা কাউছার জামাতুল হেলাল প্রমুখ।