Blog

  • উইঘুর নির্যাতনে মুসলিম উম্মাহ কেন নিশ্চুপ?

    উইঘুর নির্যাতনে মুসলিম উম্মাহ কেন নিশ্চুপ?

    একবার চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখুন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আপনার বাড়িতে ঢুকে প্রিয়জনদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের রাখা হচ্ছে ক্যাম্পে। সন্তানদের ধরে নিয়ে রাখা হচ্ছে ক্যাম্পে। এ অবস্থা চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের।

    রুকিয়ে তুরদুশ একজন উইঘুর কর্মী। উইঘুর কানাডা সোসাইটির সাবেক সভাপতি তুরদুশ গয়নার ব্যবসা করেন। চার বছর ধরে তিনি নিয়মিত তুরস্ক ও চীনে যাতায়াত করেন। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই গ্রেপ্তার হন। চীনে তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। তুরদুশের হারানোর কিছুই নেই। কারণ, তাঁর স্ত্রীকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই গ্রেপ্তার করেছে চীনের সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী। তুরদুশ জানেনও না তাঁর দুই সন্তান কোথায়?

    রুকিয়ে তুরদুশের এ গল্প শুধু একজন ব্যক্তির নয়, পুরো উইঘুরের প্রায় সবার জীবনের গল্পটাই এক সুতায় গাঁথা। গল্পের উপাদান, স্থান, কাল, পাত্র হয়তো আলাদা, কিন্তু পরিণতি সবার একই। অথচ পুরো বিশ্বের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা যেন নেই, যেমন আছে সাংবাদিক জামাল খাসোগি ও সিরিয়ার হামলা নিয়ে।

    রুকিয়ে তুরদুশরা শান্তি, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা চান। তুরদুশের মতো যাঁরা চীনের বাইরে থাকেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না, তাঁরা চীনে শান্তির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করছেন।

    এ বছরের আগস্টে জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে চীনের ‘সন্ত্রাসবাদ’ কেন্দ্রগুলোয় আটক রাখা হয়েছে। ২০ লাখ মানুষকে ‘রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিবেচনার শিবিরে’ অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে। চীন সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কমিটির প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদও জানায় সি চিন পিংয়ের দেশ।

    ধর্মীয় স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ
    ধর্মীয় ক্ষেত্রে উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীন সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ২০০৯ সালের দাঙ্গার পর চীনা সরকারের সমালোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের দায়ে চীন সরকার গোপনে বেশ কয়েকজন উইঘুর মুসলিম বুদ্ধিজীবীর বিচার করেছে। তারা আরও বলেছে, ধর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং সংখ্যালঘুদের ভাষাশিক্ষা নিষিদ্ধ করার চীনা নীতি জিনজিয়াংয়ে অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ।

    চরমপন্থী মতাদর্শের শিক্ষা চালু
    জিনজিয়াংয়ে স্থানীয় আইন পরিবর্তন করে শিক্ষা শিবিরের ‘চরমপন্থী মতাদর্শিক শিক্ষা’ বাস্তবায়নের অনুমতি দিয়েছে চীন। বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এসব শিবিরে বন্দীদের মান্দারিন ভাষা শিখতে বাধ্য করা হয়। কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হয়। এ অভ্যাসগুলোর অংশ হিসেবে চীন সরকার সাংঘর্ষিকভাবে জিনজিয়াংয়ের উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই শিক্ষাশিবিরের পাশাপাশি উইঘুর শিশুদের ক্যাম্প ও স্কুল রয়েছে, যেখানে তাদের পরিবার, ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে ফেলা হয়।

    মেকিং ফ্যামিলি
    ২০১৬ সালে ‘মেকিং ফ্যামিলি’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করে চীন। এর মাধ্যমে উইঘুর পরিবারকে প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে পাঁচ দিনের জন্য তাদের ঘরে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের হোস্ট করতে বাধ্য করে। চীন রাষ্ট্রীয়ভাবে উইঘুরদের ধর্মীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে।

    চীন সরকার উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনের জন্য তিনটি অভিযোগ ব্যবহার করেছে—চরমপন্থা, সন্ত্রাসবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ। প্রথম অভিযোগ, যেকেউ গৌরব প্রকাশ করে তাদের উইঘুর পরিচয় প্রকাশ করে। আবার শিক্ষাশিবিরে পাঠানো লাখো বিশিষ্ট উইঘুর ব্যক্তিত্ব গত কয়েক বছরে আটক বা অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এঁদের মধ্য আছেন ইসলামি শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ সালিহ হাজিম, অর্থনীতিবিদ ইলহাম তোকতি, নৃতাত্ত্বিক রাহাইল দাউদ, পপশিল্পী আবদুর রহিম হায়াত, ফুটবল খেলোয়াড় এরফান হিজিম প্রমুখ।উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ছবি: রয়টার্সউইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ছবি: রয়টার্স

    উইঘুর কারা
    উইঘুর জাতির ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছর আগের। মূলত, এরা স্বাধীন পূর্ব তুর্কিস্তানের অধিবাসী। পূর্ব তুর্কিস্তান প্রাচীন সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার একটি দেশ, যার চতুর্পাশ্বে চীন, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার অবস্থান। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশেই উইঘুর সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে।

    সিআইএর ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুক অনুযায়ী চীনের মোট জনসংখ্যার ১ থেকে ২ শতাংশ মুসলিম। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুসলিমরা চীনা জনসংখ্যার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৯ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, এসব দেশের মধ্যে চীনের জিনজিয়াংয়ে ১ কোটি ২০ হাজারের মতো উইঘুর লোক বসবাস করে। কাজাখস্তানে ২ লাখ ২৩ হাজার, উজবেকিস্তানে ৫৫ হাজার, কিরগিজস্তানে ৪৯ হাজার, তুরস্কে ১৯ হাজার, রাশিয়ায় ৪ হাজার, ইউক্রেনে ১ হাজারের মতো উইঘুর লোক বাস করে।

    বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকেও প্রাচীন এ সম্প্রদায়ের লোকদের উইঘুর না বলে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকা হতো। মূলত, ১৯২১ সালে উজবেকিস্তানে এক সম্মেলনের পর উইঘুররা তাদের পুরোনো পরিচয় ফিরে পায়। ভাষাবিদ ও ইতিহাসবেত্তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যে ‘উইঘুর’ শব্দটি ‘উয়্যুঘুর’ শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ সংঘবদ্ধ।

    ১৯১১ সালে মাঙ্কু সাম্রাজ্য উৎখাতের মাধ্যমে পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনা শাসন চালু হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনচেতা বীর উইঘুররা এই বৈদেশিক শাসনের সামনে মাথা নোয়ায়নি। এ কারণে ১৯৩৩ ও ১৯৪৪ সালে তারা দুবার চীনাদের সঙ্গে সাহসিকতার চরম রূপ দেখিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু ভাগ্য তাদের অনুকূলে ছিল না। এ কারণে ১৯৪৯ সালে আবারও তারা চীনা কমিউনিস্টদের হাতে পরাজিত হয় আর জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ গড়ে ওঠে। তখন সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির গভর্নর ছিলেন সাইফুদ্দিন আজিজি।উইঘুরদের নিয়ে পুরো বিশ্বের কোনো মাথাব্যথা নেই। ছবি: রয়টার্সউইঘুরদের নিয়ে পুরো বিশ্বের কোনো মাথাব্যথা নেই। ছবি: রয়টার্স

    জিনজিয়াং চীনের অন্যতম সর্ববৃহৎ একটি অঞ্চল। এর আয়তন ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার (বাংলাদেশের আয়তনের ১২ গুণ)। দেশটির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এ এলাকা আয়তনে চীনের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। এর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে আছে মুসলিম দেশ তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও কাজাখস্তান; আর দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে আফগানিস্তান ও জম্মু-কাশ্মীর। জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখের মতো। এর মধ্যে মুসলমান প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ। প্রায় ৫৮ শতাংশ মুসলিম।

    মধ্যযুগে তাং সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ার পর থেকেই সেখানে ইসলাম ও আরবের প্রভাব বাড়তে থাকে। স্থানীয় উইঘুর জনগোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। উইঘুর বললেই আজকে মুসলিম জনগোষ্ঠী বোঝানো হয়। অন্যদিকে, চীনা মুসলমানদের হুই বলা হয়। উইঘুরের বর্ণমালাও আরবি। সাংস্কৃতিক দিক থেকে এরা তুর্কি ও আরবি প্রভাবিত। উরুমকি বর্তমান জিনজিয়াংয়ের রাজধানী। কাশগড় অন্যতম বৃহৎ শহর। জিনজিয়াং একটি প্রধান ফসল উৎপাদন কেন্দ্র। এখানে বিপুল পরিমাণ খনিজ ও তেলসম্পদ মজুত রয়েছে।

    ১৮৮৪ সালে কিং রাজত্বের সময় জিনজিয়াং চীনের একটি প্রদেশ হয়। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর চীনা কমিউনিস্ট সেনারা জিনজিয়াংয়ে অভিযান চালায়। এর সূত্র ধরে চীনের হান সামরিক গোষ্ঠী জিনজিয়াংয়ে অভিবাসী হয়েছে। ১৯৫৫ সালে জিনজিয়াং চীনের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। হান সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের বিরুদ্ধে এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কারণে বহু মানুষ নির্যাতিত হয়। বিপুল সংখ্যায় কাজাখ জনগোষ্ঠী পার্শ্ববর্তী কাজাখস্তানে পালিয়ে যান। এরপর থেকে উইঘুর মুসলমানদের সঙ্গে চীনা কর্তৃপক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একসময় তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। গত শতাব্দীর শেষে উইঘুর মুসলমানরা স্বাধীনতার দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে।চীনের জিনজিয়াংয়ে ১ কোটি ২০ হাজারের মতো উইঘুর লোক বসবাস করে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যেচীনের জিনজিয়াংয়ে ১ কোটি ২০ হাজারের মতো উইঘুর লোক বসবাস করে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

    ফ্রিডম ওয়াচের মতে, চীন হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম ধর্মীয় নিপীড়ক দেশ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকায় এসব নিপীড়নের গোঙানির শব্দ বিশ্ববাসী খুব একটা জানতে পারে না। কালেভদ্রে কিছু জানা যায়।

    উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত নীতির ব্যাপারে চীন বলে যে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার মোকাবিলা করার জন্যই তারা নানান পলিসি নিতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু দাড়ি রাখা, রমজান মাসে রোজা রাখা কীভাবে ধর্মীয় চরমপন্থা, তা বিশ্ববাসীকে বোঝাতে পারে না। আসলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাদের মতে চরমপন্থা। আর এই চরমপন্থা দমনের নামে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, জেল-জরিমানা চলছে।

    চীনের অর্থনীতির রমরমা অবস্থা এবং তাদের কাছ থেকে নানান সুবিধা পেয়ে অধিকাংশ মুসলিম দেশ এসবের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলে না। আসল কথাটি হলো বলতে চায় না। বুদ্ধিজীবীরাও কথা বলেন না। কারণ, এঁদের অনেকেই মার্ক্সীয় তত্ত্ব, মাও তত্ত্ব ভর করে আছেন। আর মুসলিমদের ব্যাপারে বরাবরই মুসলিম সুশীল সমাজ বা আমরা একরকম অন্ধ। এসব মানুষের কান্না তাদের কানে যায় না। উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তারা (সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী) কথা বলতে পারে না, কারণ তারা ‘বোবা’।

  • মনোনয়ন নেয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন মাশরাফি

    মনোনয়ন নেয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন মাশরাফি

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা। অনেকেই সহজভাবেই নিয়েছেন বিষয়টি, কেউ কেউ পারেননি বিষয়টি হজম করতে। তাদের চাই মাশরাফির সবিস্তর ব্যাখ্যা।

    তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক কথাও বলেননি মাশরাফি। তবে সেই অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে আজ। কথা বলেছেন সাংবাদিকদের সাথে। প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি রাজনিতীতে আসার সিদ্ধান্তটা কেন নিলেন?

    উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ার শেষের দিকে। আমি শচীন টেন্ডুলকার না ও ম্যাগ্রা ও না যে অবসরে যাওয়ার পর মানুষ আমাকে মনে রাখবে। আমি আমার মত খেলেছি।আমার টার্গেট ছিল বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এরপরও যদি রিভিউ করার সুযোগ থাকে পরে দেখা যাবে। বিশ্বকাপের পর যদি আমার ক্যারিয়ার শেষ হয় তখন নেক্সট সাড়ে চার বছরে জানিনা আমার অবস্থান কি হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে ভালো লাগে। প্রধানমন্ত্রী একটা সুযোগ দিয়েছেন মানুষের জন্য কাজ করার। আমি বড় পরিসরে কাজ করার জন্য সুযোগটা নিয়েছি।’

    অবসর নেয়ার সম্ভাব্য সময় কখন এমন প্রশ্ন করলে মাশরাফি বলেন, ‘২০১১ সাল থেকেই আমার ক্যারিয়ার অনিশ্চিত ছিল৷ কেউ বলতে পারতো না আমার ক্যারিয়ার আরো সাত-আট বছর চলবে সেখান থেকে আমি আজও ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছি।’

  • ভিকারুননিসার প্রভাতী শাখার প্রধানকে বরখাস্ত

    ভিকারুননিসার প্রভাতী শাখার প্রধানকে বরখাস্ত

    ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারী (১৫) আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে তাকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানান ভিকারুননিসা নূন স্কুলের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। সাথে সাথে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিতে বলা হয়েছে।

    উল্লেখ্য যে, পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে স্কুলে যেকে অরিত্রির সামনেই বাবাকে ডেকে অপমান করে শিক্ষক। এই ঘটনায় অভিমান করে আত্নহত্যা করে অরিত্রি।

    অরিতীর বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিত্রির বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার স্কুলে পরীক্ষার সময় তার মেয়ে মোবাইল নিয়ে গিয়েছিল। মোবাইলে নকল আছে এমন অভিযোগে ওই স্কুলের শিক্ষক সোমবার তাদের স্কুলে আসতে বলেন। সোমবার পরীক্ষার সময় অরিত্রির সঙ্গে তারা স্কুলে যান। পরে তাদের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে গেলে তারা মেয়ের নকল করার ব্যাপারে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে জানায়। এসময় তার মেয়ে প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে তার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন টিসি নিয়ে আসতে বলেন। এ সময় আমি মেয়ের সামনেই কেঁদে ফেলি। অরিত্রি হয়তো আমার ওই কান্না-অপমান মেনে নিতে পারেনি।

    অরিতীর বাবা বলেন, ‘ওই ঘটনার পর অরিতী দ্রুত বাসায় চলে আসে। বাসায় ফিরে সে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। বাইরে থেকে অনেক ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায়, দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

  • খুলনার মাটিতে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত তীন গাছ বেড়ে উঠছে

    খুলনার মাটিতে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত তীন গাছ বেড়ে উঠছে

    পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারার ৯৫ নম্বর সূরার প্রথম আয়াত وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ‘ওয়াত্তীনি ওয়াযাইতূনি। বর্ণিত সূরায় আল্লাহতায়ালা তীন গাছের নামে শপথ করেছেন। সূরার প্রথম শব্দ তীন অনুসারে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে- সূরা আত-তীন। তীনের বাংলা অর্থ আঞ্জীর বা ডুমুর।মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় এ ফলের উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে করা হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আফগানিস্তান থেকে পর্তূগাল পর্যন্ত এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। এর আদি নিবাস মধ্যপ্রাচ্যে। তবে শখের বসে খুলনার মাটিতে একটি তীন গাছ মিসর থেকে এনে লাগানো হয়। বর্তমানে গাছটি সবলভাবে বেড়ে উঠছে। ধরছে ফলও। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমার দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স পরিচালিত সোসাইটি অব সোস্যাল রিফর্ম স্কুলের আঙ্গিনায় ২০১১ সালে সোসাইটি অব সোস্যাল এন্ড টেকনোলজিক্যাল সার্পোট কুয়েতের প্রাক্তন মহাপরিচালক আবু মুহাম্মদ আসসাওয়াদফি আল ফিকাহ মিসর থেকে এই গাছটি আনেন। গাছটি রোপন করেন দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স এর পরিচালক সুফি সালাইমান মাসদ। দাওহাতুল খাইর কমপ্লেক্স এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সানোয়ার হুসাইন বলেন, খুলনার আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই গাছটি অন্যান্য গাছের মতোই বেড়ে উঠেছে। গাছটিতেও ফলও ধরেছে। গাছটির ফল আমি খেয়েছি। এটি অনেক সুস্বাদু। তার দাবী, এ গাছটি বাংলাদেশে এই একটিই আছে। সোসাইটি অব সোস্যাল রিফর্ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সূরা তীন যে গাছের নামে সেই তীন গাছ এ স্কুলে থাকায় অনেকে এটি দেখতে আসেন। বিশেষ করে যখন ফল ধরে তখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ থাকে গাছটির প্রতি বেশি। এছাড়া অনেক দর্শনার্থী গাছটির খবর পেয়ে দেখতে আসেন।জানা যায়, আঞ্জির হচ্ছে ডুমুর জাতীয় এক ধরনের ফল। এর গাছের বৈজ্ঞানিক নাম । ফাইকাস গণভুক্ত প্রায় ৮০০ প্রজাতির মধ্যে আঞ্জির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। এই ফলের আকার কাকডুমুরের চেয়ে বড়; এটি একটি জনপ্রিয় মিষ্টি ও রসালো ফল।হিন্দি, মারাঠি, ফার্সি ও উর্দু ভাষায় এই ফলকে আঞ্জির বলা হয় এবং আরবি ভাষায় এর নাম তীন। এ গাছ ৬ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।

     

  • মহানবী (সাঃ) কে দেখে যে কারণে একটি উঠ কেঁদেছিলো!

    মহানবী (সাঃ) কে দেখে যে কারণে একটি উঠ কেঁদেছিলো!

    বারক্বানী এতে মুসলিমের সূত্রে বর্ধিত আকারে খেজুরের বাগান’ শব্দের পর বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর আবূ জাফর আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সওয়ারীর উপর তাঁর পিছনে বসালেন এবং আমাকে তিনি একটি গোপন কথা বললেন, যা আমি কাউকে বলব না।

    আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁচু জায়গা (দেওয়াল, ঢিবি ইত্যাদি) অথবা খেজুরের বাগানের আড়ালে মল-মূত্র ত্যাগ করা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন।’ (ইমাম মুসলিম এটিকে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন) বারক্বানী এতে মুসলিমের সূত্রে বর্ধিত আকারে খেজুরের বাগান’ শব্দের পর বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারীর বাগানে প্রবেশ করে সেখানে একটা উট দেখতে পেলেন।

  • জাতীয় পার্টিকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দল হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করা হবে- মসিউর রহমান রাঙা

    জাতীয় পার্টিকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দল হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করা হবে- মসিউর রহমান রাঙা

    banglavoicebd : জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙা বলেছেন, জাতীয় পার্টিকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দল হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করা হবে। তিনি বলেন, তৃণমূলের সকল নেতা-কর্মীদের আবারো সংগঠিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করতে আমরা আরো রাজনৈতিক কর্মী তৈরী করবো। তিনি জাতীয় পার্টির সকল স্তরের নেতা-কর্মী এবং গণমাধ্যমের সহায়তাও কামনা করেন। আজ সোমবার বিকেল ৪টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে নব-নিযুক্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, মহাজোটের কাছে জাতীয় পার্টি ৫২টি আসন প্রত্যাশা করে। তবে মহাজোটের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই মহাজোটের আসন চুড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, ৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই চুড়ান্ত ভাবে আসন বন্টন হবে। কোনভাবেই মহাজোটে ভুল বোঝাবুঝি হবেনা।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মসিউর রহমান রাঙা বলেন, দলের মধ্যে কেউ মনোনয়ন বানিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে।

    নব-নিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙা আরো বলেন, গত নির্বাচনের আগেও দলের মধ্যে একটি ভুলবোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিলো। তাতে আমরা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল পাইনি। এবারো নির্বাচনের পূর্বে একটি অশুভ শক্তি তৎপরতায় স্বাভাবিক কর্মকান্ড বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছিলো। হায়েনার মতই অশুভ শক্তি তৎপরতা শুরু করেছিলো।
    বিএনপির সমালোচনা করে মসিউর রহমান রাঙা বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে বিনা বিচারে সাত সাত বছর জেলখানায় আটকে রেখে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিলো। আর একারনেই জাতীয় পার্টি বিএনপিকে সমর্থন না দিয়ে, আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনে সহায়তা করে।

    গণমাধ্যমের সাথে আলোচনায় নব নিযুক্ত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙা আরো বলেন, আমরা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আদর্শ তৃণমূলে আবারো ছড়িয়ে দেবো। যাতে প্রতিটি মানুষ ভোট দেয়ার আগে একবার হলেও ভেবে দেখবেন। তাদের সামেন তুলে ধরা হবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ন’বছরের শাসনামল। তিনি বলেন, সাধারন মানুষের কাছে আমরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন, সুশাসন এবং মানবিক কর্মসূচি তুলে ধরতে পারলে, দেশের মানুষ অবশ্যই জাতীয় পার্টির লাঙলে ভোট দেবে।

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ হাফিজ উদ্দিন, সুনীল শুভরায়, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান, মেজর (অব.) মোঃ খালেদ আখতার, শফিকুল ইসলাম সেন্টু। উপদেষ্টা মন্ডলীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ নোমান, সোমনাথ দে, মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী,। ভাইসচেয়ারম্যান, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, আলমগীর সিকদার লোটন, যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, জহিরুল আলম রুবেল, দিদারুল কবির দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম, মোবারক হোসেন আজাদ, আমির হোসেন ভূঁইয়া, মোঃ জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, মোঃ হেলাল উদ্দিন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যবৃন্দের মধ্যে ছিলেন- সুলতান মাহমুদ, অনন্যা হুসাইন মৌসুমী, এম.এ. রাজ্জাক খথান, মৌলভী ইলিয়াস, আবু সাঈদ স্বপন, কাজী আবুল খায়ের, হাসান মঞ্জু, হাফেজ ক্বারী ইসারুহুল্লাহ আসিফ, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলে এলাহী সোহাগ, রেজাউল রাজি স্বপন চৌধুরী, আক্কাস আলী সরকার, আজাহার সরকার, আলমগীর কবির, মামুনুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন মিলন, ফারুক শেঠ, ওলিউল্লাহ মাসুদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

  • কোটা বাতিলেও চাকরি পাবে অনগ্রসররা: প্রধানমন্ত্রী

    কোটা বাতিলেও চাকরি পাবে অনগ্রসররা: প্রধানমন্ত্রী

    কোটা বাতিল হলেও নীতিমালার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী এবং সমাজের অনগ্রসর মানুষেরা সরকারি চাকরি পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২৭তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২০তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলেও প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রতিবন্ধীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ১৬ লাখের বেশি প্রতিবন্ধীকে বর্তমানে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই মোবাইলফোনের মাধ্যমে তাদের এই ভাতা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

    এসময় প্রতিবন্ধীদের যাতায়াত সহজ করতে ভবিষ্যতে সব ধরনের স্থাপনা প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতবান্ধব করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর মানুষের সুযোগের কথা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। এরই আলোকে আমরা প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করছি। যাদেরকে এক সময় অবহেলা করা হতো, একজন মানুষ হিসেবে যার কোনো অধিকার ছিল না আমরা ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবন্ধী সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি।

    এখন আর প্রতিবন্ধীরা অবহেলার পাত্র নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলাসহ অন্যান্য সৃজনশীল কাজে উৎসাহ প্রদানে ও সহায়তা করতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এ গিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সমাজকল্যাণন্ত্র মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান,  জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাইদুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

  • প্রার্থিতার জন্য ইসিতে রনির আপিল

    প্রার্থিতার জন্য ইসিতে রনির আপিল

    পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন বাছাইয়ে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া গোলাম মাওলা রনি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল করেছেন। তিনি আশা করছেন ইসি তার প্রতি  ন্যায়বিচার করবে।

    আজ সোমবার ইসিতে আপিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এ কথা বলেন রনি।
    মনোনয়ন বাছাইয়ে রনির প্রার্থিতা বাতিল হয় তার হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার কারণে। এই আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া ছয়জনের মধ্যে রনিসহ দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। অন্যজন হলেন বিএনপির আরেক প্রাথী শাহজাহান খান।

    এখন যে চারজন টিকে আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের এস এম শাহাজাদা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, জাতীয় পার্টির মাওলানা মো. সাইফুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ কামাল খান।

    ইসিতে আপিলের পর রনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন নির্বাচন কমিশন  সরকারের তল্পিবাহক নয়। নির্বাচন কমিশন জুডিশিয়ারি বোর্ড। সেখানে তিনি সুবিচার পাবেন।

    ক্ষমতাসীন দলের সাবেক  সাংসদ গোলাম (২০০৮) মাওলা রনি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং সেখান থেকে মনোনয়ন পান।

    কিন্তু হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় রবিবারের বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রনি বলছেন, ভুল করে স্বাক্ষর দেয়া হয়নি। এবং এটা গুরুতর কোনো ত্রুটি নয়, যার জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে।

    রনি বলেন, ‘এই সাধারণ মিসটেকের কারণে অতীতে কোনো মনোনয়ন বাতিল হয়নি। নির্বাচনী আইনে আছে গুরুতর নয়, এমন ত্রুটি ধরা পড়লে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যাবে। আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছিলাম ভুল সংশোধন করার জন্য। কিন্তু আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’

    এই আসনের বর্তমান সাংসদ আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও তিনি সাংসদ ছিলেন। তবে এবার দলের মনোনয়ন পাননি।

  • গাজীপুরের বারিতে উদ্ভিদ শারীরতাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ শুরু

    গাজীপুরের বারিতে উদ্ভিদ শারীরতাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ শুরু

    গাজীপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) তরুণ বিজ্ঞানীদের উদ্ভিদ শারীরতাত্ত্বিক বিষয়ে দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

    ফসলের জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন ও অভিযোজন কৌশলগত মৌলিক গবেষণার ওপর জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আজ সোমবার বারির সেমিনার কক্ষে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়।

    বারির মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
    উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাছমিন আরার সভাপতিত্বে সকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারির পরিচালক (তৈলবীজ গবেষণা কেন্দ্র) ড. লুৎফর রহমান এবং পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. তপন কুমার পাল।

    উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব বিভাগে কেজিএফের অর্থায়নে চলমান ‘খরা ও উচ্চতাপ সহিষ্ণু গম ফসলের জাত বাছাই ও শারীরতাত্ত্বিক কলাকৌশল নির্ণয় (বিআর১-সি/১৭)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কোর্সের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রজেক্ট ইনভেস্টিগেটর ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইমরুল মোছাদ্দেক আহমদ।

  • ওপেক ছাড়ছে কাতার

    ওপেক ছাড়ছে কাতার

    বিশ্বের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন অরগানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে কাতার। আগামী বছরের জানুয়ারিতেই ওপেকের সঙ্গে ৫৭ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আসন্ন ওপেক সম্মেলনের প্রাক্কালে সংস্থাটি ত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল কাতার।

    কাতারের রাজধানী দোহায় সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রী সাদ অল-কাবি জানিয়েছেন, জানুয়ারিতেই ওপেক গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে আসছে কাতার। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এবার জোর দেওয়া হবে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের ওপর। এই সিদ্ধান্ত প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পের উন্নয়নে কাতারি প্রচেষ্টার প্রতিফলন। বছরে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ৭৭ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ১১০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তেল নয় গ্যাসও আমাদের শক্তির জায়গা। সেটিকে প্রাধান্য দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    ২০১৭ সাল থেকে কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সংকটে ভুগছে আরব উপসাগরীয় দেশ কাতার। সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে সৌদি আরব, মিসর, বাহারাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। কাতারের ওপর চার দেশ যৌথভাবে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওপেক গোষ্ঠী থেকে কাতারের বেরিয়ে আসার এটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ওপেক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলেও চলতি সপ্তাহে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ওপেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে কাতার। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত এতটাই সহজ ছিল না। তবে ওপেক থেকে বেরিয়ে এলে তেল উৎপাদনে কোনও প্রভাব পড়বে না। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনে আরও বেশি জোর দেওয়া হবে।

    ওপেক গোষ্ঠীতে তেল উৎপাদনের তালিকায় নিচে থাকলেও, বিশ্বে তৈল ভাণ্ডারের ১৩ শতাংশ রয়েছে কাতারে। প্রাকৃতি গ্যাস রপ্তানিতে বিশ্বের প্রথম স্থানে রয়েছে দেশটি। বিশ্বের চাহিদার ৩০ শতাংশ লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাসের (এলএনজি) যোগান দেয় কাতার।

    এর আগে ২০১৭ সালের ৫ জুন সৌদি জোটের কাতার বিরোধী অবরোধের ঘটনায় সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দেশটির মাথাপিছু আয় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৬০ মার্কিন ডলার, যা দেশটিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনী দেশে পরিণত করেছে।

    ওপেক হচ্ছে বিশ্বের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন। ১৯৬০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ওপেক গঠিত হলেও ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ওপেক এর বর্তমান সদস্য দেশ- অ্যাঙ্গোলা, আলজেরিয়া, ইরাক, ইরান, ইকুয়েডর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, নাইজেরিয়া, ভেনিজুয়েলা, লিবিয়া, সৌদি আরব, গেবন, ইকুয়াটরিয়াল জিউনিয়া। ইন্দোনেশিয়া ২০০৮ সালে ওপেক থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। সারা পৃথিবীতে তেলের দাম নির্ধারণ এবং রপ্তানি ও আমদানিতে  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ওপেক। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওপেক গঠন করা হয়।