নিউস ভয়েস অফ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ এখন আর আশঙ্কা নয়, বরং এক নির্মম বাস্তবতা। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে—ক্ষুধা ও অপুষ্টি এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, প্রতিদিন নতুন করে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। এরই মধ্যে অনাহারে আরও ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে শিশু ও নারীরা।
এক লাখ ৩০ হাজার শিশু ঝুঁকিতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে অন্তত এক লাখ ৩০ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়ায় এই শিশুদের অনেকেই না খেয়ে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ভর্তি হচ্ছে, অথচ কার্যকর চিকিৎসা দেওয়ার মতো সরঞ্জাম ও ওষুধ নেই।
“মানবসৃষ্ট বিপর্যয়”
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বিবৃতিতে কর্মকর্তারা গাজার পরিস্থিতিকে “মানবসৃষ্ট বিপর্যয়” বলে অভিহিত করেছেন। কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের অবরোধ ও টানা বিমান হামলার কারণে খাদ্য ও ওষুধবাহী ট্রাকগুলো গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে মানবিক সহায়তা আটকে থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে সীমান্তেই, আর ভেতরে মানুষ মরছে অভুক্ত থেকে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক উপপ্রধান জয়েস মুসুইয়া জানিয়েছেন, উত্তর ও মধ্য গাজা, বিশেষ করে গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষ ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দক্ষিণ গাজার দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
মৃতের মিছিলে যোগ হচ্ছে প্রতিদিন
গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা যায়, অনাহার ও অপুষ্টিতে প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক পরিবার পুরোপুরি খাবারবিহীন অবস্থায় দিন কাটিয়েছে। শিশুরা কান্না করে কেবল পানির খোঁজ করছে, অথচ নিরাপদ পানি পর্যন্ত নেই।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সহায়তার বাধা
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন অবিলম্বে গাজায় পূর্ণমাত্রায় মানবিক করিডোর খোলার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে ইসরায়েল সীমান্ত শিথিল করছে না। এতে গাজার ২৩ লাখ মানুষের জীবন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মানবিক সংকটের গভীরতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ভিক্ষ শুধু খাদ্যের ঘাটতির কারণে নয়, বরং অবরোধ ও সহায়তা বন্ধের কারণে কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। পর্যাপ্ত চিকিৎসা না থাকায় অপুষ্ট শিশুদের অনেকেই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও সংক্রমণে মারা যাচ্ছে।
“ভয়াবহ মৃত্যুযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে”
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এখনই যদি অবরোধ প্রত্যাহার ও ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত না করা যায়, তবে গাজায় ভয়াবহ মৃত্যুযাত্রা শুরু হবে। ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হবে বিশ্ব।

দিনভর প্রশাসনের তৎপরতা, জলাবদ্ধতায় থামেনি নগরবাসীর দুর্ভোগ
প্রতিনিধির নাম : 




















